ঢাকা ০৬:০৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬, ১৮ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সরকারের ঋণ বেড়ে ২৪ লাখ কোটি টাকা >> বায়ুদূষণে আজ শীর্ষে তাসখন্দ, পঞ্চম ঢাকা >> চতুর্থবারের মতো পেছালো হাদি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ >> নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করতে ষড়যন্ত্র : তারেক রহমান >> ঘুষ ও চাঁদাবাজিমুক্ত ব্যবসাবান্ধব রাষ্ট্র গড়া আমাদের অঙ্গীকার : জামায়াত আমির >> সাফ নারী ফুটসাল চ্যাম্পিয়ন সাবিনাদের ছাদখোলা বাসে সংবর্ধনা >>

কারাফটকে স্ত্রী-সন্তানের নিথর মুখ, ৫ মিনিটের দেখায় বিদায় দিলেন নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা

Live News Bangla71
  • আপডেট সময় : ০৭:১৫:২৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬ ১২ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

এক হৃদয়বিদারক ও মর্মান্তিক দৃশ্যের সাক্ষী হলো যশোর কেন্দ্রীয় কারাগার। একদিকে ৯ মাসের শিশু সন্তানসহ স্ত্রীর নিথর দেহ, অন্যদিকে কারাগারের লৌহকপাট-এই দুইয়ের মাঝে দাঁড়িয়ে অশ্রুসিক্ত নয়নে শেষ বিদায় জানালেন নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের বাগেরহাট সদর উপজেলা শাখার সভাপতি জুয়েল হাসান সাদ্দাম। শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে কারা ফটকেই এই শেষ দেখার ব্যবস্থা করা হয়।

কারা কর্তৃপক্ষ বলছে, মরেদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্সের সঙ্গে সাদ্দামের পরিবারের নিকট ছয় সদস্যকে কারা ফটকে প্রবেশ করতে দেয়া হয়। স্ত্রী ও সন্তানকে শেষ বারের মতো দেখতে মিনিট পাঁচেক সময় দেয়া হয় সাদ্দামকে।
জানা গেছে, গত শুক্রবার দুপুরে বাগেরহাটের কাড়াপাড়া ইউনিয়নের সাবেকডাঙ্গা গ্রামের একটি বাড়ি থেকে সাদ্দামের স্ত্রী কানিজ সুবর্ণা স্বর্ণালীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তার পাশেই পড়ে ছিল ৯ মাসের শিশু সন্তান নাজিমের নিথর দেহ। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, হতাশাগ্রস্ত হয়ে সন্তানকে হত্যার পর আত্মহত্যা করেছেন স্বর্ণালী। ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর গোপালগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার হওয়া সাদ্দাম বর্তমানে রাজনৈতিক মামলায় যশোর কারাগারে বন্দি রয়েছেন।

পুলিশ জানায়, তারা সুবর্ণা স্বর্ণালীকে ঘরের ফ্যানের সঙ্গে রশি দিয়ে ঝুলে থাকা অবস্থায় এবং ছেলেকে মেঝে থেকে উদ্ধার করেছেন। সুবর্ণার স্বামী ছাত্রলীগের সদর উপজেলা শাখার সভাপতি জুয়েল হাসান সাদ্দাম। মর্মান্তিক এই মৃত্যুর পর সাদ্দামের স্বজনেরা প্যারোলে মুক্তির আবেদন করেছিলেন। তাদের আবেদন নাকচ করা হয়। বাধ্য হয়ে শেষবারের মতো স্ত্রী ও সন্তানের মরদেহ জেল ফটকে আনার ব্যবস্থা করেন সাদ্দামের স্বজনেরা।

এদিকে, শনিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্সে করে কারাফটকে সাদ্দামের স্বজনরা আসেন। তাদের সঙ্গে দুটি মাইক্রোবাসে ১২ থেকে ১৫ জন স্বজনেরা আসেন। সকল কার্যক্রম শেষে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ছয়জন পরিবারের নিকট সদস্যসহ মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্সটি কারাগারে প্রবেশের অনুমতি দেয় কারাকর্তৃপক্ষ। পাঁচ মিনিট পর তাদের আবারও বাইরে বের করে দেয়া হয়। কারাফটকের এই করুণ দৃশ্য দেখে সেখানে উপস্থিত স্থানীয় বাসিন্দা ও সংবাদকর্মীদের মধ্যেও শোকের ছায়া নেমে আসে।

সাদ্দামের চাচাতো ভাই সাগর ফারাজী বলেন, সাদ্দামের স্ত্রী ও সন্তান মারা যাওয়ার পর আমরা কারাগারে যোগাযোগ করি। কিন্তু প্যারোলে মুক্তি দেয়া হয়নি। মুক্তি না পাওয়ায় আমরা অনেকেই এসেছি কারাগারে। কিন্তু ছয়জনের বেশি প্রবেশ করতে দেয়নি। সাদ্দামের পরিবারটাই নেই। তার এই দুঃসময়ে আমাদের দেখলে ভালো লাগতো। তবে আমাদের ঢুকতে দেয়নি কারাকর্তৃপক্ষ।

সাদ্দামের শ্যালিকা কারাফটকে আহাজারি করতে করতে বলেন, রাজনীতির এই পরিমাণ হলো। সাদ্দাম আমার দুলাভাই না, বড় ভাই ছিলো।

যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলর আবিদ আহমেদ বলেন, কারাফটকে মরদেহ নিয়ে আসার পর আমরা ছয়জনকে প্রবেশ করতে দেই। পাঁচ মিনিট সাদ্দাম তার মৃত স্ত্রী ও সন্তানকে শেষ বারের মতো দেখতে পেরেছে। সাধারণত অনুমতি না নিলেও কোনও কারাবন্দির স্বজন মারা গেলে, তার মরদেহ যদি কারাফটকে আনে স্বজনেরা, তাহলে আমরা মানবিক দিক বিবেচনা করি দেখতে দেই।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

কারাফটকে স্ত্রী-সন্তানের নিথর মুখ, ৫ মিনিটের দেখায় বিদায় দিলেন নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা

আপডেট সময় : ০৭:১৫:২৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬

এক হৃদয়বিদারক ও মর্মান্তিক দৃশ্যের সাক্ষী হলো যশোর কেন্দ্রীয় কারাগার। একদিকে ৯ মাসের শিশু সন্তানসহ স্ত্রীর নিথর দেহ, অন্যদিকে কারাগারের লৌহকপাট-এই দুইয়ের মাঝে দাঁড়িয়ে অশ্রুসিক্ত নয়নে শেষ বিদায় জানালেন নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের বাগেরহাট সদর উপজেলা শাখার সভাপতি জুয়েল হাসান সাদ্দাম। শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে কারা ফটকেই এই শেষ দেখার ব্যবস্থা করা হয়।

কারা কর্তৃপক্ষ বলছে, মরেদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্সের সঙ্গে সাদ্দামের পরিবারের নিকট ছয় সদস্যকে কারা ফটকে প্রবেশ করতে দেয়া হয়। স্ত্রী ও সন্তানকে শেষ বারের মতো দেখতে মিনিট পাঁচেক সময় দেয়া হয় সাদ্দামকে।
জানা গেছে, গত শুক্রবার দুপুরে বাগেরহাটের কাড়াপাড়া ইউনিয়নের সাবেকডাঙ্গা গ্রামের একটি বাড়ি থেকে সাদ্দামের স্ত্রী কানিজ সুবর্ণা স্বর্ণালীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তার পাশেই পড়ে ছিল ৯ মাসের শিশু সন্তান নাজিমের নিথর দেহ। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, হতাশাগ্রস্ত হয়ে সন্তানকে হত্যার পর আত্মহত্যা করেছেন স্বর্ণালী। ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর গোপালগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার হওয়া সাদ্দাম বর্তমানে রাজনৈতিক মামলায় যশোর কারাগারে বন্দি রয়েছেন।

পুলিশ জানায়, তারা সুবর্ণা স্বর্ণালীকে ঘরের ফ্যানের সঙ্গে রশি দিয়ে ঝুলে থাকা অবস্থায় এবং ছেলেকে মেঝে থেকে উদ্ধার করেছেন। সুবর্ণার স্বামী ছাত্রলীগের সদর উপজেলা শাখার সভাপতি জুয়েল হাসান সাদ্দাম। মর্মান্তিক এই মৃত্যুর পর সাদ্দামের স্বজনেরা প্যারোলে মুক্তির আবেদন করেছিলেন। তাদের আবেদন নাকচ করা হয়। বাধ্য হয়ে শেষবারের মতো স্ত্রী ও সন্তানের মরদেহ জেল ফটকে আনার ব্যবস্থা করেন সাদ্দামের স্বজনেরা।

এদিকে, শনিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্সে করে কারাফটকে সাদ্দামের স্বজনরা আসেন। তাদের সঙ্গে দুটি মাইক্রোবাসে ১২ থেকে ১৫ জন স্বজনেরা আসেন। সকল কার্যক্রম শেষে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ছয়জন পরিবারের নিকট সদস্যসহ মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্সটি কারাগারে প্রবেশের অনুমতি দেয় কারাকর্তৃপক্ষ। পাঁচ মিনিট পর তাদের আবারও বাইরে বের করে দেয়া হয়। কারাফটকের এই করুণ দৃশ্য দেখে সেখানে উপস্থিত স্থানীয় বাসিন্দা ও সংবাদকর্মীদের মধ্যেও শোকের ছায়া নেমে আসে।

সাদ্দামের চাচাতো ভাই সাগর ফারাজী বলেন, সাদ্দামের স্ত্রী ও সন্তান মারা যাওয়ার পর আমরা কারাগারে যোগাযোগ করি। কিন্তু প্যারোলে মুক্তি দেয়া হয়নি। মুক্তি না পাওয়ায় আমরা অনেকেই এসেছি কারাগারে। কিন্তু ছয়জনের বেশি প্রবেশ করতে দেয়নি। সাদ্দামের পরিবারটাই নেই। তার এই দুঃসময়ে আমাদের দেখলে ভালো লাগতো। তবে আমাদের ঢুকতে দেয়নি কারাকর্তৃপক্ষ।

সাদ্দামের শ্যালিকা কারাফটকে আহাজারি করতে করতে বলেন, রাজনীতির এই পরিমাণ হলো। সাদ্দাম আমার দুলাভাই না, বড় ভাই ছিলো।

যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলর আবিদ আহমেদ বলেন, কারাফটকে মরদেহ নিয়ে আসার পর আমরা ছয়জনকে প্রবেশ করতে দেই। পাঁচ মিনিট সাদ্দাম তার মৃত স্ত্রী ও সন্তানকে শেষ বারের মতো দেখতে পেরেছে। সাধারণত অনুমতি না নিলেও কোনও কারাবন্দির স্বজন মারা গেলে, তার মরদেহ যদি কারাফটকে আনে স্বজনেরা, তাহলে আমরা মানবিক দিক বিবেচনা করি দেখতে দেই।