ঢাকা ০৮:৩৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬, ৬ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

আজ বহুল প্রতীক্ষিত ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট

Live News Bangla71
  • আপডেট সময় : ০১:৩৮:৩৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ৯২ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় রচিত হতে যাচ্ছে আজ ১২ ফেব্রুয়ারি, বৃহস্পতিবার। বহুল প্রতীক্ষিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শুরু হচ্ছে কিছুক্ষণ পর। ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত একযোগে দেশের ২৯৯টি সংসদীয় আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। একই সঙ্গে অনুষ্ঠিত হচ্ছে সংবিধান সংস্কার ও ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বিষয়ে ঐতিহাসিক গণভোট।
নির্বাচন কমিশন (ইসি) জানিয়েছে, ভোটগ্রহণ ও গণনা নির্বিঘ্ন করতে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। ভোটকেন্দ্রগুলোতে ব্যালট বাক্স ও প্রয়োজনীয় উপকরণ পৌঁছে দেয়া হয়েছে এবং প্রিসাইডিং অফিসারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।
নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় মাঠে রয়েছে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ সংখ্যক নিরাপত্তা সদস্য। ইসি সূত্রে জানা গেছে, পুলিশ, আনসার, বিজিবি, র‌্যাবসহ বিভিন্ন বাহিনীর মোট ৯ লাখ ৫৮ হাজার সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। এর মধ্যে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য রয়েছেন ১ লাখ ৮ হাজারের বেশি।
প্রায় ৪৩ হাজার ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৯০ শতাংশের বেশি কেন্দ্রে স্থাপন করা হয়েছে সিসিটিভি ক্যামেরা। নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের হাতে দেয়া হয়েছে ২৫ হাজার ৭০০টি বডি-ওর্ন ক্যামেরা। পাশাপাশি বিশৃঙ্খলা বা সহিংসতার তথ্য দ্রুত জানাতে চালু রয়েছে ‘নির্বাচন সুরক্ষা অ্যাপ’ এবং অভিযোগ জানানোর জন্য হটলাইন নম্বর ৩৩৩।

এবার ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১, নারী ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০ এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ১ হাজার ২৩২ জন। সারা দেশে ভোট গ্রহণ হবে ৪২ হাজার ৭৭৯টি কেন্দ্রে।

৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৯টিতে ভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচন স্থগিত রয়েছে।
এই নির্বাচনে প্রথমবারের মতো পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দিয়েছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। মোট ৪ লাখ ২২ হাজার ৯৬০টি প্রবাসী ব্যালট দেশে পৌঁছেছে। এর মধ্যে ৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ২ লাখ ৭০ হাজার ৩৮টি ব্যালট গ্রহণ করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তারা। প্রবাসী ভোটসহ পোস্টাল ব্যালটগুলো মূল ভোট গণনার সঙ্গে যুক্ত করা হবে।

২০০৮ সালে নিবন্ধনপ্রক্রিয়া শুরুর পর এবারই সবচেয়ে বেশি রাজনৈতিক দল নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ মোট ৫১টি দল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। মোট প্রার্থী সংখ্যা ২ হাজার ২৯ জন; এর মধ্যে দলীয় প্রার্থী ১ হাজার ৭৫৫ জন এবং স্বতন্ত্র ২৭৪ জন। নারী প্রার্থী রয়েছেন ৮০ জন। এবার ১১৯টি নির্বাচনী প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

নির্বাচন পর্যবেক্ষণে অংশ নিতে ঢাকায় পৌঁছেছেন অন্তত ৩৯৪ জন বিদেশি নির্বাচনি পর্যবেক্ষক এবং ১৯৭ জন বিদেশি সাংবাদিক। পাশাপাশি ৫৫ হাজারের বেশি দেশি পর্যবেক্ষকও মাঠে রয়েছেন। ইসি জানিয়েছে, সবাই নির্ধারিত গাইডলাইন অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করবেন।
গণভোটের কারণে এক ঘণ্টা বাড়িয়ে বিকেল সাড়ে ৪টায় ভোটগ্রহণ শেষ হবে। এরপরই কেন্দ্রেই শুরু হবে ভোট গণনা। গণনা শেষে ফলাফলের বিবরণী কেন্দ্রের নোটিশ বোর্ডে টানানো হবে এবং ধাপে ধাপে ফল প্রকাশ করা হবে। ইসি আশা করছে, ১৩ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই চূড়ান্ত ফল জানা যাবে।

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে এটিই প্রথম সাধারণ নির্বাচন। দীর্ঘ সংস্কার প্রক্রিয়ার পর অনুষ্ঠিত এই নির্বাচন ও গণভোট ঘিরে দেশজুড়ে যেমন রয়েছে ব্যাপক আগ্রহ, তেমনি রয়েছে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভোটের প্রত্যাশা। এখন কেবল ভোটারদের নির্ভয়ে কেন্দ্রে গিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগের অপেক্ষায় পুরো দেশ।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

আজ বহুল প্রতীক্ষিত ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট

আপডেট সময় : ০১:৩৮:৩৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় রচিত হতে যাচ্ছে আজ ১২ ফেব্রুয়ারি, বৃহস্পতিবার। বহুল প্রতীক্ষিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শুরু হচ্ছে কিছুক্ষণ পর। ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত একযোগে দেশের ২৯৯টি সংসদীয় আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। একই সঙ্গে অনুষ্ঠিত হচ্ছে সংবিধান সংস্কার ও ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বিষয়ে ঐতিহাসিক গণভোট।
নির্বাচন কমিশন (ইসি) জানিয়েছে, ভোটগ্রহণ ও গণনা নির্বিঘ্ন করতে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। ভোটকেন্দ্রগুলোতে ব্যালট বাক্স ও প্রয়োজনীয় উপকরণ পৌঁছে দেয়া হয়েছে এবং প্রিসাইডিং অফিসারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।
নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় মাঠে রয়েছে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ সংখ্যক নিরাপত্তা সদস্য। ইসি সূত্রে জানা গেছে, পুলিশ, আনসার, বিজিবি, র‌্যাবসহ বিভিন্ন বাহিনীর মোট ৯ লাখ ৫৮ হাজার সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। এর মধ্যে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য রয়েছেন ১ লাখ ৮ হাজারের বেশি।
প্রায় ৪৩ হাজার ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৯০ শতাংশের বেশি কেন্দ্রে স্থাপন করা হয়েছে সিসিটিভি ক্যামেরা। নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের হাতে দেয়া হয়েছে ২৫ হাজার ৭০০টি বডি-ওর্ন ক্যামেরা। পাশাপাশি বিশৃঙ্খলা বা সহিংসতার তথ্য দ্রুত জানাতে চালু রয়েছে ‘নির্বাচন সুরক্ষা অ্যাপ’ এবং অভিযোগ জানানোর জন্য হটলাইন নম্বর ৩৩৩।

এবার ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১, নারী ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০ এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ১ হাজার ২৩২ জন। সারা দেশে ভোট গ্রহণ হবে ৪২ হাজার ৭৭৯টি কেন্দ্রে।

৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৯টিতে ভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচন স্থগিত রয়েছে।
এই নির্বাচনে প্রথমবারের মতো পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দিয়েছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। মোট ৪ লাখ ২২ হাজার ৯৬০টি প্রবাসী ব্যালট দেশে পৌঁছেছে। এর মধ্যে ৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ২ লাখ ৭০ হাজার ৩৮টি ব্যালট গ্রহণ করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তারা। প্রবাসী ভোটসহ পোস্টাল ব্যালটগুলো মূল ভোট গণনার সঙ্গে যুক্ত করা হবে।

২০০৮ সালে নিবন্ধনপ্রক্রিয়া শুরুর পর এবারই সবচেয়ে বেশি রাজনৈতিক দল নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ মোট ৫১টি দল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। মোট প্রার্থী সংখ্যা ২ হাজার ২৯ জন; এর মধ্যে দলীয় প্রার্থী ১ হাজার ৭৫৫ জন এবং স্বতন্ত্র ২৭৪ জন। নারী প্রার্থী রয়েছেন ৮০ জন। এবার ১১৯টি নির্বাচনী প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

নির্বাচন পর্যবেক্ষণে অংশ নিতে ঢাকায় পৌঁছেছেন অন্তত ৩৯৪ জন বিদেশি নির্বাচনি পর্যবেক্ষক এবং ১৯৭ জন বিদেশি সাংবাদিক। পাশাপাশি ৫৫ হাজারের বেশি দেশি পর্যবেক্ষকও মাঠে রয়েছেন। ইসি জানিয়েছে, সবাই নির্ধারিত গাইডলাইন অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করবেন।
গণভোটের কারণে এক ঘণ্টা বাড়িয়ে বিকেল সাড়ে ৪টায় ভোটগ্রহণ শেষ হবে। এরপরই কেন্দ্রেই শুরু হবে ভোট গণনা। গণনা শেষে ফলাফলের বিবরণী কেন্দ্রের নোটিশ বোর্ডে টানানো হবে এবং ধাপে ধাপে ফল প্রকাশ করা হবে। ইসি আশা করছে, ১৩ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই চূড়ান্ত ফল জানা যাবে।

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে এটিই প্রথম সাধারণ নির্বাচন। দীর্ঘ সংস্কার প্রক্রিয়ার পর অনুষ্ঠিত এই নির্বাচন ও গণভোট ঘিরে দেশজুড়ে যেমন রয়েছে ব্যাপক আগ্রহ, তেমনি রয়েছে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভোটের প্রত্যাশা। এখন কেবল ভোটারদের নির্ভয়ে কেন্দ্রে গিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগের অপেক্ষায় পুরো দেশ।