ঢাকা ০৮:৪৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

হরমুজ প্রণালি খুলতে জোট বাঁধছে ৪০ দেশ, নেই যুক্তরাষ্ট্র

Live News Bangla71
  • আপডেট সময় : ০৪:৩০:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬ ১৮ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান যুদ্ধের ফলে অবরুদ্ধ হয়ে পড়া বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি ফের সচল করতে উদ্যোগী হয়েছে যুক্তরাজ্য। এই লক্ষ্যে ৪০টি দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের নিয়ে একটি বিশেষ আলোচনার আয়োজন করেছে লন্ডন। তবে এই জোটে নেই যুক্তরাষ্ট্র।

বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার জানান, যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেট কুপারের সভাপতিত্বে একটি ভার্চুয়াল সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এই সম্মেলনের মূল লক্ষ্য হলো হরমুজ প্রণালি দিয়ে ফের পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল শুরু করার জন্য কার্যকর কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক পথ খুঁজে বের করা।

ইরানের পাল্টা হামলা এবং হুমকির মুখে পারস্য উপসাগর ও বিশ্ব মহাসাগরগুলোর সংযোগকারী এই সংকীর্ণ জলপথটি দিয়ে বর্তমানে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ। এর ফলে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে এবং জ্বালানির দাম আকাশচুম্বী হয়েছে।

যুক্তরাজ্যের নেতৃত্বাধীন এই জোটে ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, কানাডা, জাপান এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো দেশগুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তারা এক যৌথ বিবৃতিতে ইরানকে এই নৌপথ অবরোধ বন্ধের দাবি জানিয়েছে এবং জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যথাযথ অবদানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

আল-জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই জোটে শুধু পশ্চিমা দেশগুলোই নয়, বরং বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, পানামা এবং নাইজেরিয়ার মতো দেশগুলোও রয়েছে।

তবে এই জোটে যুক্তরাষ্ট্রের অনুপস্থিতি ভূ-রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি বলেছেন, এই নৌপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা তার দেশের কাজ নয়। ট্রাম্প একইসঙ্গে যুদ্ধে সমর্থন না দেওয়ায় ইউরোপীয় মিত্রদের সমালোচনা করেছেন এবং আবারও ন্যাটোথেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন।

জোটের দেশগুলো স্পষ্ট করে দিয়েছে, তারা বলপ্রয়োগ করে হরমুজ প্রণালি খুলতে চায় না। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্টারমার এবং ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমান্যুয়েল ম্যাক্রোঁ উভয়েই সামরিক সমাধানের চেয়ে কূটনৈতিক পন্থার ওপর জোর দিয়েছেন।

ম্যাক্রোঁ বলেন, ‘সামরিক অভিযান চালিয়ে এই প্রণালি খোলার চিন্তা অবাস্তব। এটি করতে অনেক সময় লাগবে এবং উপকূলীয় হুমকি, বিশেষ করে ইরানের বিপ্লবী গার্ডের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের মুখে জাহাজগুলোকে বিপদে ফেলবে।’ তিনি সরাসরি ইরানের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধানের প্রস্তাব দিয়েছেন।

শিপিং ডাটা ফার্ম লয়েডস লিস্ট ইন্টেলিজেন্সের তথ্যমতে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে উপসাগরীয় অঞ্চলে পণ্যবাহী জাহাজে ২৩টি সরাসরি হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে ১১ জন ক্রু সদস্য নিহত হয়েছেন।

ইরান অবশ্য জানিয়েছে, তারা কেবল ‘শত্রু দেশ’ এবং তাদের মিত্রদের জাহাজের জন্য এই পথ বন্ধ রেখেছে; ‘বন্ধুত্বপূর্ণ’ দেশগুলোর জাহাজ চলাচলে তাদের কোনো বাধা নেই। তবে যুদ্ধের ভয়াবহতা এবং অনিশ্চয়তার কারণে অধিকাংশ বাণিজ্যিক কোম্পানি এই পথ ব্যবহারে সাহস পাচ্ছে না।

সূত্র: আল-জাজিরা

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

হরমুজ প্রণালি খুলতে জোট বাঁধছে ৪০ দেশ, নেই যুক্তরাষ্ট্র

আপডেট সময় : ০৪:৩০:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান যুদ্ধের ফলে অবরুদ্ধ হয়ে পড়া বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি ফের সচল করতে উদ্যোগী হয়েছে যুক্তরাজ্য। এই লক্ষ্যে ৪০টি দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের নিয়ে একটি বিশেষ আলোচনার আয়োজন করেছে লন্ডন। তবে এই জোটে নেই যুক্তরাষ্ট্র।

বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার জানান, যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেট কুপারের সভাপতিত্বে একটি ভার্চুয়াল সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এই সম্মেলনের মূল লক্ষ্য হলো হরমুজ প্রণালি দিয়ে ফের পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল শুরু করার জন্য কার্যকর কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক পথ খুঁজে বের করা।

ইরানের পাল্টা হামলা এবং হুমকির মুখে পারস্য উপসাগর ও বিশ্ব মহাসাগরগুলোর সংযোগকারী এই সংকীর্ণ জলপথটি দিয়ে বর্তমানে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ। এর ফলে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে এবং জ্বালানির দাম আকাশচুম্বী হয়েছে।

যুক্তরাজ্যের নেতৃত্বাধীন এই জোটে ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, কানাডা, জাপান এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো দেশগুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তারা এক যৌথ বিবৃতিতে ইরানকে এই নৌপথ অবরোধ বন্ধের দাবি জানিয়েছে এবং জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যথাযথ অবদানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

আল-জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই জোটে শুধু পশ্চিমা দেশগুলোই নয়, বরং বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, পানামা এবং নাইজেরিয়ার মতো দেশগুলোও রয়েছে।

তবে এই জোটে যুক্তরাষ্ট্রের অনুপস্থিতি ভূ-রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি বলেছেন, এই নৌপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা তার দেশের কাজ নয়। ট্রাম্প একইসঙ্গে যুদ্ধে সমর্থন না দেওয়ায় ইউরোপীয় মিত্রদের সমালোচনা করেছেন এবং আবারও ন্যাটোথেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন।

জোটের দেশগুলো স্পষ্ট করে দিয়েছে, তারা বলপ্রয়োগ করে হরমুজ প্রণালি খুলতে চায় না। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্টারমার এবং ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমান্যুয়েল ম্যাক্রোঁ উভয়েই সামরিক সমাধানের চেয়ে কূটনৈতিক পন্থার ওপর জোর দিয়েছেন।

ম্যাক্রোঁ বলেন, ‘সামরিক অভিযান চালিয়ে এই প্রণালি খোলার চিন্তা অবাস্তব। এটি করতে অনেক সময় লাগবে এবং উপকূলীয় হুমকি, বিশেষ করে ইরানের বিপ্লবী গার্ডের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের মুখে জাহাজগুলোকে বিপদে ফেলবে।’ তিনি সরাসরি ইরানের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধানের প্রস্তাব দিয়েছেন।

শিপিং ডাটা ফার্ম লয়েডস লিস্ট ইন্টেলিজেন্সের তথ্যমতে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে উপসাগরীয় অঞ্চলে পণ্যবাহী জাহাজে ২৩টি সরাসরি হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে ১১ জন ক্রু সদস্য নিহত হয়েছেন।

ইরান অবশ্য জানিয়েছে, তারা কেবল ‘শত্রু দেশ’ এবং তাদের মিত্রদের জাহাজের জন্য এই পথ বন্ধ রেখেছে; ‘বন্ধুত্বপূর্ণ’ দেশগুলোর জাহাজ চলাচলে তাদের কোনো বাধা নেই। তবে যুদ্ধের ভয়াবহতা এবং অনিশ্চয়তার কারণে অধিকাংশ বাণিজ্যিক কোম্পানি এই পথ ব্যবহারে সাহস পাচ্ছে না।

সূত্র: আল-জাজিরা