ঢাকা ০৪:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে সাভার-গাজীপুরে ৮০ কারখানায় ছুটি

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:১৪:৫৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণসহ বিভিন্ন দাবিতে রোববার সাভার ও গাজীপুরের পোশাকশ্রমিকেরা বড় ধরনের বিক্ষোভে নেমেছেন। শ্রমিক আন্দোলনের মুখে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে এই দুই জেলায় অন্তত ৮০টি পোশাক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। সকালের দিকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশের তৎপরতা বৃদ্ধি করা হয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ কারখানাগুলোর সামনে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে।

আশুলিয়া শিল্পাঞ্চল পুলিশ-১–এর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, সাভার এলাকায় পরিস্থিতি অস্থিতিশীল হয়ে ওঠায় অর্ধশতাধিক কারখানা কর্তৃপক্ষ ছুটি ঘোষণা করতে বাধ্য হয়েছে।

শিল্পাঞ্চল পুলিশের ভাষ্যমতে, সকালের দিকে অধিকাংশ কারখানায় কার্যক্রম স্বাভাবিক থাকলেও নিশ্চিতপুর এলাকার আল-মুসলিম এ্যপারেলস, নিউএইজ গ্রুপ ও ট্রাউজার লাইন লিমিটেডের শ্রমিকেরা কাজে যোগ না দিয়ে ভেতরে অবস্থান নেন। বেলা পৌনে ১১টার দিকে আশুলিয়ার নরসিংহপুর এলাকায় শারমিন গ্রুপের কারখানার সামনে আব্দুল্লাহপুর–বাইপাইল সড়কে অবস্থান নিয়ে শ্রমিকেরা বেতন বৃদ্ধির দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে শারমিন গ্রুপসহ আশপাশের একাধিক কারখানা কর্তৃপক্ষ দুপুরের আগেই ছুটি ঘোষণা করে। প্রত্যক্ষদর্শী ও আশুলিয়া শিল্পাঞ্চল পুলিশ-১–এর কর্মকর্তাদের ভাষ্য, আজ অধিকাংশ কারখানায় সকাল থেকে কার্যক্রম স্বাভাবিক ছিল। শ্রমিকেরা বিষয়টি নিয়ে ধোঁয়াশার মধ্যে আছেন।

শ্রমিক আন্দোলনের বিষয়ে বাংলাদেশ গার্মেন্টস ও সোয়েটার্স শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের আইনবিষয়ক সম্পাদক খায়রুল মামুন জানান, শ্রমিকদের দাবি-দাওয়ার বিষয়ে মালিকপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া না মেলায় তারা ক্ষুব্ধ। কারখানায় কাজ বন্ধ থাকলেও তাদের সঙ্গে কর্তৃপক্ষ কথা বলছে না, যে কারণে শ্রমিকদের মধ্যে ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে, সকালে আশুলিয়া শিল্পাঞ্চল পুলিশের পক্ষ থেকে মাইকিং করে শ্রমিকদের নিরাপত্তার বিষয়ে আশ্বস্ত করার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানানো হয়। এ বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলার আহ্বান জানান তিনি।

অন্যদিকে, গাজীপুরের কালিয়াকৈরে শ্রমিক বিক্ষোভের জের ধরে বেশ কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। বেলা সাড়ে ১১টা থেকে সাড়ে ১২টার মধ্যে চন্দ্রা পল্লীবিদ্যুৎ এলাকায় বিক্ষুব্ধ শ্রমিকেরা একটি পিকআপ ভ্যানে আগুন দেন। একই সময়ে ট্রপিক্যাল নামের একটি পোশাক কারখানার ঝুটের গোডাউনেও অগ্নিসংযোগের খবর পাওয়া গেছে। কালিয়াকৈর ফায়ার স্টেশনের কর্মকর্তা মো. তরিকুল ইসলাম জানান, শ্রমিক আন্দোলনের তীব্রতার কারণে তাদের অগ্নিনির্বাপক ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে বাধাগ্রস্ত হয়েছে। এ এলাকায় অন্তত ৩০টি কারখানা ছুটি দেওয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন গাজীপুর শিল্পাঞ্চল পুলিশের পুলিশ সুপার আমজাদ হোসেন।

কালিয়াকৈরের রতনপুর এলাকায় করনী নিট কম্পোজিট ও নিট এশিয়াসহ বেশ কয়েকটি কারখানার শ্রমিকেরা হাজিরা দিয়ে কাজে যোগ না দিয়ে বেরিয়ে আসেন। তারা সফিপুর বাজার এলাকায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। দফায় দফায় বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধের ফলে ওই অঞ্চলে জনজীবন ও যাতায়াত ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটেছে। একপর্যায়ে শিল্প পুলিশ তাদের সড়ক থেকে সরে সড়কের একপাশে দাঁড়ানোর অনুরোধ জানান। সেখানে বলা হয়, ‘ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ অত্র শিল্প এলাকায় সর্বদা আপনাদের পাশে থেকে শান্তি শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা সেবা প্রদান করে আসছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে সাভার-গাজীপুরে ৮০ কারখানায় ছুটি

আপডেট সময় : ০৩:১৪:৫৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬

ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণসহ বিভিন্ন দাবিতে রোববার সাভার ও গাজীপুরের পোশাকশ্রমিকেরা বড় ধরনের বিক্ষোভে নেমেছেন। শ্রমিক আন্দোলনের মুখে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে এই দুই জেলায় অন্তত ৮০টি পোশাক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। সকালের দিকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশের তৎপরতা বৃদ্ধি করা হয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ কারখানাগুলোর সামনে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে।

আশুলিয়া শিল্পাঞ্চল পুলিশ-১–এর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, সাভার এলাকায় পরিস্থিতি অস্থিতিশীল হয়ে ওঠায় অর্ধশতাধিক কারখানা কর্তৃপক্ষ ছুটি ঘোষণা করতে বাধ্য হয়েছে।

শিল্পাঞ্চল পুলিশের ভাষ্যমতে, সকালের দিকে অধিকাংশ কারখানায় কার্যক্রম স্বাভাবিক থাকলেও নিশ্চিতপুর এলাকার আল-মুসলিম এ্যপারেলস, নিউএইজ গ্রুপ ও ট্রাউজার লাইন লিমিটেডের শ্রমিকেরা কাজে যোগ না দিয়ে ভেতরে অবস্থান নেন। বেলা পৌনে ১১টার দিকে আশুলিয়ার নরসিংহপুর এলাকায় শারমিন গ্রুপের কারখানার সামনে আব্দুল্লাহপুর–বাইপাইল সড়কে অবস্থান নিয়ে শ্রমিকেরা বেতন বৃদ্ধির দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে শারমিন গ্রুপসহ আশপাশের একাধিক কারখানা কর্তৃপক্ষ দুপুরের আগেই ছুটি ঘোষণা করে। প্রত্যক্ষদর্শী ও আশুলিয়া শিল্পাঞ্চল পুলিশ-১–এর কর্মকর্তাদের ভাষ্য, আজ অধিকাংশ কারখানায় সকাল থেকে কার্যক্রম স্বাভাবিক ছিল। শ্রমিকেরা বিষয়টি নিয়ে ধোঁয়াশার মধ্যে আছেন।

শ্রমিক আন্দোলনের বিষয়ে বাংলাদেশ গার্মেন্টস ও সোয়েটার্স শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের আইনবিষয়ক সম্পাদক খায়রুল মামুন জানান, শ্রমিকদের দাবি-দাওয়ার বিষয়ে মালিকপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া না মেলায় তারা ক্ষুব্ধ। কারখানায় কাজ বন্ধ থাকলেও তাদের সঙ্গে কর্তৃপক্ষ কথা বলছে না, যে কারণে শ্রমিকদের মধ্যে ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে, সকালে আশুলিয়া শিল্পাঞ্চল পুলিশের পক্ষ থেকে মাইকিং করে শ্রমিকদের নিরাপত্তার বিষয়ে আশ্বস্ত করার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানানো হয়। এ বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলার আহ্বান জানান তিনি।

অন্যদিকে, গাজীপুরের কালিয়াকৈরে শ্রমিক বিক্ষোভের জের ধরে বেশ কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। বেলা সাড়ে ১১টা থেকে সাড়ে ১২টার মধ্যে চন্দ্রা পল্লীবিদ্যুৎ এলাকায় বিক্ষুব্ধ শ্রমিকেরা একটি পিকআপ ভ্যানে আগুন দেন। একই সময়ে ট্রপিক্যাল নামের একটি পোশাক কারখানার ঝুটের গোডাউনেও অগ্নিসংযোগের খবর পাওয়া গেছে। কালিয়াকৈর ফায়ার স্টেশনের কর্মকর্তা মো. তরিকুল ইসলাম জানান, শ্রমিক আন্দোলনের তীব্রতার কারণে তাদের অগ্নিনির্বাপক ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে বাধাগ্রস্ত হয়েছে। এ এলাকায় অন্তত ৩০টি কারখানা ছুটি দেওয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন গাজীপুর শিল্পাঞ্চল পুলিশের পুলিশ সুপার আমজাদ হোসেন।

কালিয়াকৈরের রতনপুর এলাকায় করনী নিট কম্পোজিট ও নিট এশিয়াসহ বেশ কয়েকটি কারখানার শ্রমিকেরা হাজিরা দিয়ে কাজে যোগ না দিয়ে বেরিয়ে আসেন। তারা সফিপুর বাজার এলাকায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। দফায় দফায় বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধের ফলে ওই অঞ্চলে জনজীবন ও যাতায়াত ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটেছে। একপর্যায়ে শিল্প পুলিশ তাদের সড়ক থেকে সরে সড়কের একপাশে দাঁড়ানোর অনুরোধ জানান। সেখানে বলা হয়, ‘ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ অত্র শিল্প এলাকায় সর্বদা আপনাদের পাশে থেকে শান্তি শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা সেবা প্রদান করে আসছে।