ঢাকা ০৩:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

আজিমপুর কলোনিতে সাবলেট উচ্ছেদ: দিশেহারা ইডেন ও বদরুন্নেসার ছাত্রীরা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০২:০০:৪২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬ ১২ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রাজধানীর আজিমপুর সরকারি কলোনির বিভিন্ন ফ্ল্যাটে সাবলেট হিসেবে থাকা ইডেন মহিলা কলেজ ও বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজের শিক্ষার্থীরা বর্তমানে চরম আবাসন সংকটে পড়েছেন। রাস্তায় রাস্তায় ঘুরেছি, যেদিন যেখানে পেরেছি, থেকেছি। তাঁরা আমাদের একবেলা খাবার খেতেও বলেননি।’।

গত ২২ অক্টোবর হঠাৎ বাড়িওয়ালাদের পক্ষ থেকে বাসা ছাড়ার নোটিশ পাওয়ার পর থেকে তাদের জীবন ও পড়াশোনা স্থবির হয়ে পড়েছে। ইডেনের এক শিক্ষার্থী জানান, তিনি যখন পূজার ছুটিতে গ্রামে ছিলেন, তখন এই নির্দেশ দেওয়া হয়। ২৬ অক্টোবর ঢাকায় ফিরে তিনি আর এক মুহূর্তও সেই বাসায় থাকতে পারেননি। বাড়িওয়ালার কঠোর নির্দেশে ৩১ অক্টোবরের মধ্যে জিনিসপত্র সরিয়ে নেওয়ার বাধ্যবাধকতা তৈরি হয়। ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন, বাসা ছাড়ার আগে তাদের কোনো মানবিক সাহায্য বা খাবারের খোঁজও নেওয়া হয়নি। কিন্তু তখন আমি দুর্গাপূজার ছুটিতে গ্রামের বাড়িতে ছিলাম। ২৬ তারিখ ঢাকায় ফিরে আর এক দিনও বাসায় থাকতে পারিনি। বাড়িওয়ালার কড়া নির্দেশ, ৩১ তারিখের মধ্যে জিনিসপত্র নিয়ে বাসা ছাড়তে হবে। আজ শনিবার বেলা সোয়া ১১টার দিকে তাঁকে একটি ভ্যানে আসবাব ও অন্যান্য জিনিসপত্র তুলতে দেখা যায়।

চলতি ডিসেম্বর মাসে শিক্ষার্থীদের চূড়ান্ত পরীক্ষা রয়েছে। এমন অনিশ্চিত পরিস্থিতিতে পড়াশোনার প্রস্তুতি নিয়ে তারা চরম উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। ইডেন কলেজের ওই শিক্ষার্থী বলেন, এখন শুধু থাকার জায়গাই নয়, নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়েও তারা শঙ্কিত। বাসা ভাড়ার সময় দুই মাস আগে জানানোর মৌখিক চুক্তি থাকলেও এখন তা মানা হচ্ছে না। একই সমস্যার কথা জানিয়েছেন বদরুন্নেসা কলেজের আরও এক শিক্ষার্থী। তিনি জানান, প্রতিদিনই গভীর রাত পর্যন্ত বাসার সন্ধানে বিভিন্ন এলাকায় ঘুরেও ব্যর্থ হয়েছেন। আবাসন সংকট তাদের শিক্ষাজীবনে ব্যাপক বিরূপ প্রভাব ফেলছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। এই পরিস্থিতিতে কীভাবে পরীক্ষার প্রস্তুতি নেব, আমি জানি না। এই ট্রমা কাটাতেই অন্তত এক মাস লাগবে। আমরা এখন নিরাপত্তার শঙ্কায় ভুগছি।’। শিক্ষার্থী বলেন, ‘বিভিন্ন জায়গায় প্রতিদিন রাত ১১–১২টা পর্যন্ত বাসা খুঁজেছি।

সরকারি আবাসন পরিদপ্তরের এক জরুরি বিজ্ঞপ্তির পরিপ্রেক্ষিতেই মূলত এই উচ্ছেদ অভিযান চলছে। মন্ত্রণালয় ও পরিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী, বরাদ্দপ্রাপ্ত সরকারি চাকরিজীবীদের নিজেদের ফ্ল্যাটে স্বয়ং বসবাস করতে হবে এবং সাবলেট বা ভাড়াটে রাখা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। ৩১ অক্টোবরের মধ্যে সকল অবৈধ ভাড়াটে সরিয়ে নেওয়ার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্যথায় বরাদ্দ বাতিলসহ সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর বিরুদ্ধে আইনগত ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সরকারি আবাসন পরিদপ্তর গত বৃহস্পতিবার এ–সংক্রান্ত একটি জরুরি গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। বিজ্ঞপ্তিতে ৩১ অক্টোবরের পরও কোনো সরকারি ফ্ল্যাটে সাবলেট কিংবা ভাড়াটে পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট সরকারি চাকরিজীবীর বাসা বরাদ্দ বাতিল করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

হলে সিট না থাকার কারণেই তারা বাধ্য হয়ে সরকারি কলোনির মতো জায়গায় সাবলেট হিসেবে থাকতেন। এই পরিস্থিতিতে কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত আবাসিক হলে আসন বরাদ্দের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা। তারা চান না, তাদের পরবর্তী ব্যাচের শিক্ষার্থীরাও একই রকম ভোগান্তির শিকার হোক।

অন্যদিকে, ২২ নম্বর ভবন পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মাহবুব আলম জানান, কলোনির বাসিন্দারা মূলত নিম্ন বেতনের কর্মচারী। তাদের কেউ কেউ বাড়তি আয়ের আশায় একটি রুম ভাড়া দিতেন। তবে কর্তৃপক্ষের নির্দেশের পর এখন আর কোনো ভাড়াটে নেই এবং সবাইকে সরে যেতে হয়েছে। এখন এই ছাত্রীরা কোথায় মাথা গোঁজার ঠাঁই পাবেন, তা নিয়ে কোনো কার্যকর সমাধান বা উদ্যোগ এখনো দৃশ্যমান নয়। কেউ কেউ হয়তো একটি রুম ভাড়া দিয়েছিলেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

আজিমপুর কলোনিতে সাবলেট উচ্ছেদ: দিশেহারা ইডেন ও বদরুন্নেসার ছাত্রীরা

আপডেট সময় : ০২:০০:৪২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬

রাজধানীর আজিমপুর সরকারি কলোনির বিভিন্ন ফ্ল্যাটে সাবলেট হিসেবে থাকা ইডেন মহিলা কলেজ ও বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজের শিক্ষার্থীরা বর্তমানে চরম আবাসন সংকটে পড়েছেন। রাস্তায় রাস্তায় ঘুরেছি, যেদিন যেখানে পেরেছি, থেকেছি। তাঁরা আমাদের একবেলা খাবার খেতেও বলেননি।’।

গত ২২ অক্টোবর হঠাৎ বাড়িওয়ালাদের পক্ষ থেকে বাসা ছাড়ার নোটিশ পাওয়ার পর থেকে তাদের জীবন ও পড়াশোনা স্থবির হয়ে পড়েছে। ইডেনের এক শিক্ষার্থী জানান, তিনি যখন পূজার ছুটিতে গ্রামে ছিলেন, তখন এই নির্দেশ দেওয়া হয়। ২৬ অক্টোবর ঢাকায় ফিরে তিনি আর এক মুহূর্তও সেই বাসায় থাকতে পারেননি। বাড়িওয়ালার কঠোর নির্দেশে ৩১ অক্টোবরের মধ্যে জিনিসপত্র সরিয়ে নেওয়ার বাধ্যবাধকতা তৈরি হয়। ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন, বাসা ছাড়ার আগে তাদের কোনো মানবিক সাহায্য বা খাবারের খোঁজও নেওয়া হয়নি। কিন্তু তখন আমি দুর্গাপূজার ছুটিতে গ্রামের বাড়িতে ছিলাম। ২৬ তারিখ ঢাকায় ফিরে আর এক দিনও বাসায় থাকতে পারিনি। বাড়িওয়ালার কড়া নির্দেশ, ৩১ তারিখের মধ্যে জিনিসপত্র নিয়ে বাসা ছাড়তে হবে। আজ শনিবার বেলা সোয়া ১১টার দিকে তাঁকে একটি ভ্যানে আসবাব ও অন্যান্য জিনিসপত্র তুলতে দেখা যায়।

চলতি ডিসেম্বর মাসে শিক্ষার্থীদের চূড়ান্ত পরীক্ষা রয়েছে। এমন অনিশ্চিত পরিস্থিতিতে পড়াশোনার প্রস্তুতি নিয়ে তারা চরম উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। ইডেন কলেজের ওই শিক্ষার্থী বলেন, এখন শুধু থাকার জায়গাই নয়, নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়েও তারা শঙ্কিত। বাসা ভাড়ার সময় দুই মাস আগে জানানোর মৌখিক চুক্তি থাকলেও এখন তা মানা হচ্ছে না। একই সমস্যার কথা জানিয়েছেন বদরুন্নেসা কলেজের আরও এক শিক্ষার্থী। তিনি জানান, প্রতিদিনই গভীর রাত পর্যন্ত বাসার সন্ধানে বিভিন্ন এলাকায় ঘুরেও ব্যর্থ হয়েছেন। আবাসন সংকট তাদের শিক্ষাজীবনে ব্যাপক বিরূপ প্রভাব ফেলছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। এই পরিস্থিতিতে কীভাবে পরীক্ষার প্রস্তুতি নেব, আমি জানি না। এই ট্রমা কাটাতেই অন্তত এক মাস লাগবে। আমরা এখন নিরাপত্তার শঙ্কায় ভুগছি।’। শিক্ষার্থী বলেন, ‘বিভিন্ন জায়গায় প্রতিদিন রাত ১১–১২টা পর্যন্ত বাসা খুঁজেছি।

সরকারি আবাসন পরিদপ্তরের এক জরুরি বিজ্ঞপ্তির পরিপ্রেক্ষিতেই মূলত এই উচ্ছেদ অভিযান চলছে। মন্ত্রণালয় ও পরিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী, বরাদ্দপ্রাপ্ত সরকারি চাকরিজীবীদের নিজেদের ফ্ল্যাটে স্বয়ং বসবাস করতে হবে এবং সাবলেট বা ভাড়াটে রাখা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। ৩১ অক্টোবরের মধ্যে সকল অবৈধ ভাড়াটে সরিয়ে নেওয়ার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্যথায় বরাদ্দ বাতিলসহ সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর বিরুদ্ধে আইনগত ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সরকারি আবাসন পরিদপ্তর গত বৃহস্পতিবার এ–সংক্রান্ত একটি জরুরি গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। বিজ্ঞপ্তিতে ৩১ অক্টোবরের পরও কোনো সরকারি ফ্ল্যাটে সাবলেট কিংবা ভাড়াটে পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট সরকারি চাকরিজীবীর বাসা বরাদ্দ বাতিল করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

হলে সিট না থাকার কারণেই তারা বাধ্য হয়ে সরকারি কলোনির মতো জায়গায় সাবলেট হিসেবে থাকতেন। এই পরিস্থিতিতে কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত আবাসিক হলে আসন বরাদ্দের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা। তারা চান না, তাদের পরবর্তী ব্যাচের শিক্ষার্থীরাও একই রকম ভোগান্তির শিকার হোক।

অন্যদিকে, ২২ নম্বর ভবন পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মাহবুব আলম জানান, কলোনির বাসিন্দারা মূলত নিম্ন বেতনের কর্মচারী। তাদের কেউ কেউ বাড়তি আয়ের আশায় একটি রুম ভাড়া দিতেন। তবে কর্তৃপক্ষের নির্দেশের পর এখন আর কোনো ভাড়াটে নেই এবং সবাইকে সরে যেতে হয়েছে। এখন এই ছাত্রীরা কোথায় মাথা গোঁজার ঠাঁই পাবেন, তা নিয়ে কোনো কার্যকর সমাধান বা উদ্যোগ এখনো দৃশ্যমান নয়। কেউ কেউ হয়তো একটি রুম ভাড়া দিয়েছিলেন।