ঢাকা ১১:৪১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

নোয়াখালীতে প্রকাশ্যে যুবককে পিটিয়ে হত্যার পর মিষ্টি বিতরণ

Live News Bangla71
  • আপডেট সময় : ০৫:১৫:২৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬ ৯৩ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

নোয়াখালী: নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলায় ছয় মামলার আসামি মিজানুর রহমান ওরফে রনি (৩৫) কে প্রকাশ্যে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনার পর নিহতকে ডাকাত আখ্যা দিয়ে একদল যুবক বাজারে মিষ্টি বিতরণ করেছে, যা এলাকায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে।

শনিবার (১৭ জানুয়ারি) রাত ১০টার দিকে উপজেলার নরোত্তমপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের কালিরহাট বাজারসংলগ্ন কাজী বাড়ির সামনের সড়কে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত মিজানুর রহমান কবিরহাট পৌরসভার জৈনদপুর এলাকার মো. শহীদের ছেলে। তিনি দুই সন্তানের জনক ছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে একটি ডাকাতি, দুটি চুরি, একটি অস্ত্র মামলা ও সরকারি কর্মচারীর ওপর হামলাসহ অন্তত ছয়টি মামলা রয়েছে। শনিবার রাত ৮টার দিকে কালিরহাট বাজারে ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির একটি নির্বাচনী বৈঠক চলছিল। এ সময় মিজান সেখানে উপস্থিত হয়ে নিজেকে দলের ত্যাগী কর্মি দাবি করেন এবং বৈঠকে উপস্থিত নেতাকর্মিদের সঙ্গে গালাগাল ও বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে তাকে ধাওয়া দিলে তিনি সেখান থেকে চলে যান।

পরে কালিবাজারের উত্তরে কাজী বাড়ির সামনে তাকে আটক করে কয়েকজন ব্যক্তি লাঠি ও লোহার পাইপ দিয়ে মুখ ও মাথায় এলোপাতাড়ি পিটিয়ে গুরুত্বর জখম করে। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে মরদেহ সড়কে ফেলে রাখা হয়।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার দাবি, নিহত মিজানের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজি ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির অভিযোগ ছিল। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রস্তুত করে। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে রক্তমাখা একটি লাঠি ও একটি লোহার পাইপ উদ্ধার করা হয়। নিহতের পকেট থেকে একটি খেলনা পিস্তল ও টিপ চুরি উদ্ধার করা হয়েছে।

নরোত্তমপুর ইউনিয়নের ২নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি হারুনুর রশীদ হারুন বলেন, আমরা আমাদের অফিসে বসে নির্বাচনী কথাবার্তা বলছিলাম। সেখানে মিজান এলে কথাকাটাকাটি হয়। পরে সেখান থেকে সে চলে যায়। পরে শুনি কে বা কাহারা তাকে হত্যা করে মরদেহ রাস্তার ফেলে যায়। মিষ্টি বিতরণের বিষয়টি আমার জানা নেই।

কবিরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.নিজাম উদ্দিন ভূঁঞা বলেন, গণপিটুনিতে ডাকাত নিহত হওয়ার খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে যাই। ঘটনাস্থলে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে। নিহতের পকেট থেকে একটি খেলনা পিস্তল ও টিপ ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতের পরিবার এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ করেনি। তবে অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রোববার সকালে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

নোয়াখালীতে প্রকাশ্যে যুবককে পিটিয়ে হত্যার পর মিষ্টি বিতরণ

আপডেট সময় : ০৫:১৫:২৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬

নোয়াখালী: নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলায় ছয় মামলার আসামি মিজানুর রহমান ওরফে রনি (৩৫) কে প্রকাশ্যে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনার পর নিহতকে ডাকাত আখ্যা দিয়ে একদল যুবক বাজারে মিষ্টি বিতরণ করেছে, যা এলাকায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে।

শনিবার (১৭ জানুয়ারি) রাত ১০টার দিকে উপজেলার নরোত্তমপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের কালিরহাট বাজারসংলগ্ন কাজী বাড়ির সামনের সড়কে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত মিজানুর রহমান কবিরহাট পৌরসভার জৈনদপুর এলাকার মো. শহীদের ছেলে। তিনি দুই সন্তানের জনক ছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে একটি ডাকাতি, দুটি চুরি, একটি অস্ত্র মামলা ও সরকারি কর্মচারীর ওপর হামলাসহ অন্তত ছয়টি মামলা রয়েছে। শনিবার রাত ৮টার দিকে কালিরহাট বাজারে ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির একটি নির্বাচনী বৈঠক চলছিল। এ সময় মিজান সেখানে উপস্থিত হয়ে নিজেকে দলের ত্যাগী কর্মি দাবি করেন এবং বৈঠকে উপস্থিত নেতাকর্মিদের সঙ্গে গালাগাল ও বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে তাকে ধাওয়া দিলে তিনি সেখান থেকে চলে যান।

পরে কালিবাজারের উত্তরে কাজী বাড়ির সামনে তাকে আটক করে কয়েকজন ব্যক্তি লাঠি ও লোহার পাইপ দিয়ে মুখ ও মাথায় এলোপাতাড়ি পিটিয়ে গুরুত্বর জখম করে। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে মরদেহ সড়কে ফেলে রাখা হয়।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার দাবি, নিহত মিজানের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজি ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির অভিযোগ ছিল। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রস্তুত করে। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে রক্তমাখা একটি লাঠি ও একটি লোহার পাইপ উদ্ধার করা হয়। নিহতের পকেট থেকে একটি খেলনা পিস্তল ও টিপ চুরি উদ্ধার করা হয়েছে।

নরোত্তমপুর ইউনিয়নের ২নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি হারুনুর রশীদ হারুন বলেন, আমরা আমাদের অফিসে বসে নির্বাচনী কথাবার্তা বলছিলাম। সেখানে মিজান এলে কথাকাটাকাটি হয়। পরে সেখান থেকে সে চলে যায়। পরে শুনি কে বা কাহারা তাকে হত্যা করে মরদেহ রাস্তার ফেলে যায়। মিষ্টি বিতরণের বিষয়টি আমার জানা নেই।

কবিরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.নিজাম উদ্দিন ভূঁঞা বলেন, গণপিটুনিতে ডাকাত নিহত হওয়ার খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে যাই। ঘটনাস্থলে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে। নিহতের পকেট থেকে একটি খেলনা পিস্তল ও টিপ ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতের পরিবার এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ করেনি। তবে অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রোববার সকালে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে।