ঢাকা ০৮:৩৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

তারেক রহমানের উদ্দেশে বিদিশার খোলা চিঠি

Live News Bangla71
  • আপডেট সময় : ০৬:১৯:৪৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ৭০ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উদ্দেশে খোলা চিঠি লিখেছেন জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সাবেক স্ত্রী বিদিশা। সোমবার তিনি এই চিঠিটি নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেন।

তারেক রহমানের উদ্দেশে সেখানে তিনি লিখেছেন, ‘আপনি আজ বাংলাদেশের লক্ষ লক্ষ মানুষের প্রতিনিধিত্ব করছেন এবং অনেক নাগরিকের কাছে আশার প্রতীক হয়ে উঠেছেন। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম আপনাকে একজন আধুনিক ও ভবিষ্যতমুখী নেতা হিসেবে দেখতে চায়।

তারা বিশ্বাস করতে চায় যে আপনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আরো প্রযুক্তিনির্ভর, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও অগ্রসর রাষ্ট্রে পরিণত হতে পারে।’

তিনি লেখেন, “নির্বাচনকে সামনে রেখে আপনি বিভিন্ন সমাবেশে বিএনপির পক্ষ থেকে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন—বিশেষ করে স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়, বিমানবন্দর, বাসস্ট্যান্ড ও রেলস্টেশনে বিনামূল্যে ইন্টারনেট এবং পরবর্তী সময় ‘ঘরে ঘরে ফ্রি ইন্টারনেট’ নিশ্চিত করার কথা বলেছেন। পাশাপাশি কড়াইল বস্তিতে বহুতল ভবন নির্মাণ এবং ফ্যামিলি কার্ড চালুর প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন। এসব উদ্যোগ নিঃসন্দেহে মানুষের জীবনমান উন্নয়নের সঙ্গে সম্পর্কিত এবং এজন্য অনেক নাগরিক আপনাকে সাধুবাদ জানাচ্ছে।

তবুও একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে আমি আপনার কাছে কয়েকটি বিনীত প্রশ্ন রাখতে চাই—এই প্রশ্নগুলো সমালোচনা নয়, বরং আপনার পরিকল্পনাকে আরো ভালোভাবে বোঝার আগ্রহ থেকে।”

‘প্রথমত, বাংলাদেশ প্রায় ২০ কোটি মানুষের দেশ। এত বড় জনগোষ্ঠীর জন্য দেশব্যাপী সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ইন্টারনেট নিশ্চিত করা প্রযুক্তিগত ও আর্থিকভাবে বিশাল চ্যালেঞ্জ। আপনি কি দয়া করে সংক্ষেপে জানাবেন—এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য আপনার সরকার কী ধরনের অবকাঠামো ও অর্থনৈতিক মডেল বিবেচনা করছে?’

‘দ্বিতীয়ত, দেশের টেলিকম অপারেটররা বর্তমানে ইন্টারনেটকে ব্যবসা হিসেবে পরিচালনা করে।

এই প্রেক্ষাপটে সরকার কীভাবে তাদের সঙ্গে সমন্বয় করবে—সেটি জানার জন্য নাগরিকদের কৌতূহল রয়েছে। আপনি কি মনে করেন, এটি সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা সম্ভব?’

‘তৃতীয়ত, অনেকেই সিঙ্গাপুরের উদাহরণ দেন। তবে সিঙ্গাপুরের আয়তন, জনসংখ্যা ও অর্থনৈতিক কাঠামো বাংলাদেশের তুলনায় ভিন্ন। আপনি কোন আন্তর্জাতিক মডেলকে বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে উপযোগী মনে করেন—তা জানলে জনগণ আপনার দৃষ্টিভঙ্গি ভালোভাবে বুঝতে পারবে।’

‘একই সঙ্গে আমি বিনীতভাবে কিছু বাস্তবসম্মত সম্ভাবনা তুলে ধরতে চাই—যদি আপনি উপযুক্ত মনে করেন, এগুলো বিবেচনা করতে পারেন: সারা দেশে পাবলিক ফ্রি ওয়াই-ফাই জোন সম্প্রসারণ, নিম্ন-আয়ের পরিবারের জন্য স্বল্পমূল্যে দ্রুত ইন্টারনেট, গ্রামাঞ্চলে শক্তিশালী নেটওয়ার্ক বিস্তার, শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ ইন্টারনেট সুবিধা।’

বিদিশা লেখেন, ‘জনাব তারেক রহমান, আপনার প্রতিশ্রুতি মানুষের মনে প্রত্যাশা জাগিয়েছে—এটি সত্য। সেই প্রত্যাশাকে বাস্তবে রূপ দিতে আপনার পরিকল্পনার স্বচ্ছ রূপরেখা জাতির সামনে তুলে ধরলে তা আরো বেশি আস্থা তৈরি করবে বলে আমি বিশ্বাস করি। আমি আন্তরিকভাবে আশা করি, আপনি এই প্রশ্নগুলোকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করবেন এবং ভবিষ্যতে আপনার ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার দৃষ্টিভঙ্গি আরো স্পষ্টভাবে জনগণের সামনে উপস্থাপন করবেন। আমি একজন স্পেশাল চাইল্ড এর মা, আমার সন্তান এরিক এরশাদ যখনই জানতে পেরেছে আপনি ঘরে ঘরে ফ্রি ইন্টারনেট পৌঁছে দিবেন সে খুব খুশি হয়েছে ( যদিও তার প্রয়োজন নেই) , কারণ তার লেখাপড়া, গান বাজনা সবকিছু ইন্টারনেট নির্ভরশীল।’

শ্রদ্ধাসহ,

একজন সচেতন নাগরিক; বিদিশা এরশাদ (এরিক এরশাদের মা)।’

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

তারেক রহমানের উদ্দেশে বিদিশার খোলা চিঠি

আপডেট সময় : ০৬:১৯:৪৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উদ্দেশে খোলা চিঠি লিখেছেন জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সাবেক স্ত্রী বিদিশা। সোমবার তিনি এই চিঠিটি নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেন।

তারেক রহমানের উদ্দেশে সেখানে তিনি লিখেছেন, ‘আপনি আজ বাংলাদেশের লক্ষ লক্ষ মানুষের প্রতিনিধিত্ব করছেন এবং অনেক নাগরিকের কাছে আশার প্রতীক হয়ে উঠেছেন। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম আপনাকে একজন আধুনিক ও ভবিষ্যতমুখী নেতা হিসেবে দেখতে চায়।

তারা বিশ্বাস করতে চায় যে আপনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আরো প্রযুক্তিনির্ভর, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও অগ্রসর রাষ্ট্রে পরিণত হতে পারে।’

তিনি লেখেন, “নির্বাচনকে সামনে রেখে আপনি বিভিন্ন সমাবেশে বিএনপির পক্ষ থেকে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন—বিশেষ করে স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়, বিমানবন্দর, বাসস্ট্যান্ড ও রেলস্টেশনে বিনামূল্যে ইন্টারনেট এবং পরবর্তী সময় ‘ঘরে ঘরে ফ্রি ইন্টারনেট’ নিশ্চিত করার কথা বলেছেন। পাশাপাশি কড়াইল বস্তিতে বহুতল ভবন নির্মাণ এবং ফ্যামিলি কার্ড চালুর প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন। এসব উদ্যোগ নিঃসন্দেহে মানুষের জীবনমান উন্নয়নের সঙ্গে সম্পর্কিত এবং এজন্য অনেক নাগরিক আপনাকে সাধুবাদ জানাচ্ছে।

তবুও একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে আমি আপনার কাছে কয়েকটি বিনীত প্রশ্ন রাখতে চাই—এই প্রশ্নগুলো সমালোচনা নয়, বরং আপনার পরিকল্পনাকে আরো ভালোভাবে বোঝার আগ্রহ থেকে।”

‘প্রথমত, বাংলাদেশ প্রায় ২০ কোটি মানুষের দেশ। এত বড় জনগোষ্ঠীর জন্য দেশব্যাপী সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ইন্টারনেট নিশ্চিত করা প্রযুক্তিগত ও আর্থিকভাবে বিশাল চ্যালেঞ্জ। আপনি কি দয়া করে সংক্ষেপে জানাবেন—এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য আপনার সরকার কী ধরনের অবকাঠামো ও অর্থনৈতিক মডেল বিবেচনা করছে?’

‘দ্বিতীয়ত, দেশের টেলিকম অপারেটররা বর্তমানে ইন্টারনেটকে ব্যবসা হিসেবে পরিচালনা করে।

এই প্রেক্ষাপটে সরকার কীভাবে তাদের সঙ্গে সমন্বয় করবে—সেটি জানার জন্য নাগরিকদের কৌতূহল রয়েছে। আপনি কি মনে করেন, এটি সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা সম্ভব?’

‘তৃতীয়ত, অনেকেই সিঙ্গাপুরের উদাহরণ দেন। তবে সিঙ্গাপুরের আয়তন, জনসংখ্যা ও অর্থনৈতিক কাঠামো বাংলাদেশের তুলনায় ভিন্ন। আপনি কোন আন্তর্জাতিক মডেলকে বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে উপযোগী মনে করেন—তা জানলে জনগণ আপনার দৃষ্টিভঙ্গি ভালোভাবে বুঝতে পারবে।’

‘একই সঙ্গে আমি বিনীতভাবে কিছু বাস্তবসম্মত সম্ভাবনা তুলে ধরতে চাই—যদি আপনি উপযুক্ত মনে করেন, এগুলো বিবেচনা করতে পারেন: সারা দেশে পাবলিক ফ্রি ওয়াই-ফাই জোন সম্প্রসারণ, নিম্ন-আয়ের পরিবারের জন্য স্বল্পমূল্যে দ্রুত ইন্টারনেট, গ্রামাঞ্চলে শক্তিশালী নেটওয়ার্ক বিস্তার, শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ ইন্টারনেট সুবিধা।’

বিদিশা লেখেন, ‘জনাব তারেক রহমান, আপনার প্রতিশ্রুতি মানুষের মনে প্রত্যাশা জাগিয়েছে—এটি সত্য। সেই প্রত্যাশাকে বাস্তবে রূপ দিতে আপনার পরিকল্পনার স্বচ্ছ রূপরেখা জাতির সামনে তুলে ধরলে তা আরো বেশি আস্থা তৈরি করবে বলে আমি বিশ্বাস করি। আমি আন্তরিকভাবে আশা করি, আপনি এই প্রশ্নগুলোকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করবেন এবং ভবিষ্যতে আপনার ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার দৃষ্টিভঙ্গি আরো স্পষ্টভাবে জনগণের সামনে উপস্থাপন করবেন। আমি একজন স্পেশাল চাইল্ড এর মা, আমার সন্তান এরিক এরশাদ যখনই জানতে পেরেছে আপনি ঘরে ঘরে ফ্রি ইন্টারনেট পৌঁছে দিবেন সে খুব খুশি হয়েছে ( যদিও তার প্রয়োজন নেই) , কারণ তার লেখাপড়া, গান বাজনা সবকিছু ইন্টারনেট নির্ভরশীল।’

শ্রদ্ধাসহ,

একজন সচেতন নাগরিক; বিদিশা এরশাদ (এরিক এরশাদের মা)।’