ক্রোয়েশিয়াকে ৩-১ গোলে উড়িয়ে ব্রাজিলের মধুর প্রতিশোধ
- আপডেট সময় : ০৭:৪২:১৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬ ৫৯ বার পড়া হয়েছে
কাতার বিশ্বকাপের সেই দুঃসহ স্মৃতি কি তবে ফিকে হতে শুরু করেছে? মঙ্গলবার রাতে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার অরল্যান্ডোতে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ৩-১ গোলের দুর্দান্ত জয়ে অন্তত সেই ইঙ্গিতই দিল সেলেসাওরা। গত সপ্তাহে ফ্রান্সের কাছে হারের তিক্ততা ভুলে কার্লো আনচেলত্তির শিষ্যরা মাঠ ছেড়েছে ৪৬ হাজার দর্শকের করতালিতে ভিজে। বিশ্বকাপের চূড়ান্ত দল ঘোষণার আগে এটিই ছিল ব্রাজিলের শেষ ‘অগ্নিপরীক্ষা’, আর সেই পরীক্ষায় তরুণ তুর্কিরা লেটার মার্কস নিয়ে পাশ করেছে।
দলে ছয়টি পরিবর্তন এনে আনচেলত্তি এক নতুন ব্রাজিলকে মাঠে নামিয়েছিলেন। যদিও এই একাদশ আগে কখনো এক সঙ্গে খেলেনি, তবুও মাঠের রসায়নে তার কোনো কমতি ছিল না। প্রথমার্ধ থেকেই ক্রোয়াট রক্ষণভাগকে ব্যস্ত করে তোলে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও দানিলো সান্তোস জুটি।
বিরতির ঠিক আগে ৪৬ মিনিটে ম্যাথিউস কুনহার নিখুঁত পাস থেকে বল পান ভিনিসিয়ুস। তিন ডিফেন্ডারকে ড্রিবলিংয়ে বোকা বানিয়ে তিনি বল বাড়ান দানিলো সান্তোসের দিকে, যিনি অসামান্য দক্ষতায় লক্ষ্যভেদ করে ব্রাজিলকে ১-০ তে এগিয়ে দেন।
দ্বিতীয়ার্ধে আনচেলত্তি আটটি পরিবর্তন আনলে খেলার গতি কিছুটা কমে আসে। এই সুযোগে ৩৮ মিনিটে ক্রোয়েশিয়ার লোভরো মেয়ার সমতা ফিরিয়ে ব্রাজিলের শিবিরে স্তব্ধতা নামিয়ে আনেন। কিন্তু নাটকীয়তা তখনও বাকি ছিল। সমতা ফেরার ঠিক পরেই মাঠে নামেন ব্রাজিলের নতুন সেনসেশন এন্ড্রিক।
৪০ মিনিটে তার ক্ষিপ্র গতির দৌড় থামাতে গিয়ে বক্সের ভেতর ফাউল করেন ক্রোয়াট ডিফেন্ডার সুতালো। পেনাল্টি! এন্ড্রিক নিজে শট না নিয়ে বল তুলে দেন ইগর থিয়াগোর হাতে। হলুদ জার্সিতে নিজের অভিষেক গোলটি করতে ভুল করেননি থিয়াগো।
খেলার অতিরিক্ত সময়ে আবারও সেই এন্ড্রিক ম্যাজিক। তার চোখ ধাঁধানো কাউন্টার অ্যাটাক থেকে বল পান গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লি। গোলরক্ষককে পরাস্ত করে ৩-১ ব্যবধান নিশ্চিত করেন তিনি। কাতার বিশ্বকাপে শেষ মুহূর্তে গোল হজম করে বিদায় নেওয়ার যে ক্ষত ছিল, আজ যেন তার মধুর প্রতিশোধ নিল ব্রাজিল।
১৮ মে বিশ্বকাপের ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত দল ঘোষণা করবেন আনচেলত্তি। ম্যাচে দানিলো সান্তোস এবং ইগর থিয়াগো নিজেদের দাবি জোরালো করেছেন। এন্ড্রিক বদলি হিসেবে নেমে যে প্রভাব দেখিয়েছেন, তাতে তার জায়গা পাওয়া নিয়ে কোনো সন্দেহ থাকার কথা নয়। অন্যদিকে, গোলরক্ষক বেন্তো একটি ভুলের কারণে কিছুটা পিছিয়ে পড়েছেন, ফলে আলিসন ও এডারসনের পাল্লাই ভারী থাকছে।
বিশ্বকাপের আগে ব্রাজিল আরও দুটি প্রীতি ম্যাচ খেলবে পানামা ও মিশরের বিপক্ষে। এরপর ১৩ জুন মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে তাদের হেক্সা মিশন। আজকের এই জয় শুধু একটি জয় নয়, বরং আনচেলত্তির জন্য একরাশ আত্মবিশ্বাস। বিশেষ করে রিজার্ভ বেঞ্চের শক্তি যেভাবে জ্বলে উঠেছে, তাতে ২০২৬ বিশ্বকাপে ব্রাজিলকে নিয়ে বাজি ধরাই যায়। ‘জোগা বোনিতো’ হয়তো ফিরছে, তবে এবার তার সাথে মিশে আছে আধুনিক ফুটবলের ক্ষিপ্রতা ও জেদ।














