ঢাকা ০৫:২২ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

একমাসের শিশুকে ভুলে দেওয়া হলো জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন— মুহূর্তেই নিস্তেজ

Live News Bangla71
  • আপডেট সময় : ১১:২৬:১৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬ ৩৫ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

টাঙ্গাইলের ভুঞাপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একমাস বয়সী শিশুকে টিকা দিতে গেলে ভুলে শিশুটিকে জলাতঙ্কের (র‌্যাবিস) ভ্যাকসিন দিয়ে দেওয়া হয়। এর কিছু সময় ফাহিতা নামের ওই শিশুটি নিস্তেজ হয়ে পড়ে বলে জানিয়েছে তার পরিবারের সদস্যরা। এই ঘটনায় শিশুটির পরিবারের সদস্যরা ঘটনায় জড়িদের বিচার দাবি করেছেন।

অন্যদিকে ভুলে এই ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

তাদের অভিযোগ, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য পরিদর্শক মোহাম্মদ কাইয়ুম ওই শিশুকে এই ভ্যাকসিন দেন। ভ্যাকসিন দেওয়ার পর শিশুটি ক্রমেই নিস্তেজ হয়ে পড়ছে। ভুল ভ্যাকসিন দেওয়ার পর তার প্রতিবাদ করলে তাদের সঙ্গে খারাপ ব্যাবহার করা হয়।

ভুক্তভোগী শিশু ফাহিতা উপজেলার ছাব্বিশা গ্রামের মৌ খাতুন ও মো. ফারুকের মেয়ে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার ছাব্বিশা গ্রামের মৌ খাতুন বুধবার দুপুরে তার এক মাস ৫দিন বয়সী শিশু ফাহিতাকে রুটিন অনুযায়ী টিকা দেওয়ার জন্য স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের টিকা কেন্দ্রে যান। এসময় সেখানে দায়িত্ব স্বাস্থ্য পরিদর্শক মোহাম্মদ কাইয়ুম ওই শিশুকে দুই ডোজ জলাতঙ্কের র‌্যাবিক্স ভ্যাকসিন দেন। এর কিছুক্ষণ পর শিশুর শারীরিক অবস্থা খারাপ হওয়ায় ঘটনাটি প্রকাশ পেলে স্বজনরা এর প্রতিবাদ করে। মুহূর্তেই ঘটনাটি প্রচার হওয়ার পর হাসপাতালে আসা অন্যান্য শিশুর স্বজনদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

অভিযোগ রয়েছে, অভিযুক্ত স্বাস্থ্য পরিদর্শক মোহাম্মদ কাইয়ুম অবসর যাওয়ার পর সেখানে দায়িত্ব পালনের কথা ছিল সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক নজরুল ইসলাম নুরুর। কিন্তু নুরুল ইসলাম হাসপাতালে না থাকায় অবসরে থাকা কাইয়ুমকে দিয়ে ভ্যাকসিন কার্যক্রম পরিচালনা করছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

মৌ খাতুন ও মো. ফারুক জানান, প্রতিবাদ করলে খারাপ ব্যাবহার করেন কাইয়ুম ও নুরুল ইসলাম। ভ্যাকসিন দেওয়ার পর শিশুটি ক্রমেই নিস্তেজ হয়ে পড়ছে। এ ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছে শিশুটির পরিবার।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স স্বাস্থ্য পরিদর্শক মোহাম্মদ কাইয়ুম বলেন, ভুলে শিশুটিকে জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে। এটা অনিচ্ছাকৃত ভুল।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. লুৎফর রহমান আজাদ বলেন, ঘটনাটি অনাকাঙ্ক্ষিত। তিনি অবসরে চলে গেছেন। তারপরও ভ্যাকসিন কার্যক্রম চালানোর জন্য তাকে নেওয়া আসা হয়েছিল।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

একমাসের শিশুকে ভুলে দেওয়া হলো জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন— মুহূর্তেই নিস্তেজ

আপডেট সময় : ১১:২৬:১৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬

টাঙ্গাইলের ভুঞাপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একমাস বয়সী শিশুকে টিকা দিতে গেলে ভুলে শিশুটিকে জলাতঙ্কের (র‌্যাবিস) ভ্যাকসিন দিয়ে দেওয়া হয়। এর কিছু সময় ফাহিতা নামের ওই শিশুটি নিস্তেজ হয়ে পড়ে বলে জানিয়েছে তার পরিবারের সদস্যরা। এই ঘটনায় শিশুটির পরিবারের সদস্যরা ঘটনায় জড়িদের বিচার দাবি করেছেন।

অন্যদিকে ভুলে এই ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

তাদের অভিযোগ, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য পরিদর্শক মোহাম্মদ কাইয়ুম ওই শিশুকে এই ভ্যাকসিন দেন। ভ্যাকসিন দেওয়ার পর শিশুটি ক্রমেই নিস্তেজ হয়ে পড়ছে। ভুল ভ্যাকসিন দেওয়ার পর তার প্রতিবাদ করলে তাদের সঙ্গে খারাপ ব্যাবহার করা হয়।

ভুক্তভোগী শিশু ফাহিতা উপজেলার ছাব্বিশা গ্রামের মৌ খাতুন ও মো. ফারুকের মেয়ে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার ছাব্বিশা গ্রামের মৌ খাতুন বুধবার দুপুরে তার এক মাস ৫দিন বয়সী শিশু ফাহিতাকে রুটিন অনুযায়ী টিকা দেওয়ার জন্য স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের টিকা কেন্দ্রে যান। এসময় সেখানে দায়িত্ব স্বাস্থ্য পরিদর্শক মোহাম্মদ কাইয়ুম ওই শিশুকে দুই ডোজ জলাতঙ্কের র‌্যাবিক্স ভ্যাকসিন দেন। এর কিছুক্ষণ পর শিশুর শারীরিক অবস্থা খারাপ হওয়ায় ঘটনাটি প্রকাশ পেলে স্বজনরা এর প্রতিবাদ করে। মুহূর্তেই ঘটনাটি প্রচার হওয়ার পর হাসপাতালে আসা অন্যান্য শিশুর স্বজনদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

অভিযোগ রয়েছে, অভিযুক্ত স্বাস্থ্য পরিদর্শক মোহাম্মদ কাইয়ুম অবসর যাওয়ার পর সেখানে দায়িত্ব পালনের কথা ছিল সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক নজরুল ইসলাম নুরুর। কিন্তু নুরুল ইসলাম হাসপাতালে না থাকায় অবসরে থাকা কাইয়ুমকে দিয়ে ভ্যাকসিন কার্যক্রম পরিচালনা করছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

মৌ খাতুন ও মো. ফারুক জানান, প্রতিবাদ করলে খারাপ ব্যাবহার করেন কাইয়ুম ও নুরুল ইসলাম। ভ্যাকসিন দেওয়ার পর শিশুটি ক্রমেই নিস্তেজ হয়ে পড়ছে। এ ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছে শিশুটির পরিবার।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স স্বাস্থ্য পরিদর্শক মোহাম্মদ কাইয়ুম বলেন, ভুলে শিশুটিকে জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে। এটা অনিচ্ছাকৃত ভুল।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. লুৎফর রহমান আজাদ বলেন, ঘটনাটি অনাকাঙ্ক্ষিত। তিনি অবসরে চলে গেছেন। তারপরও ভ্যাকসিন কার্যক্রম চালানোর জন্য তাকে নেওয়া আসা হয়েছিল।