ঢাকা ১১:০১ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

ইসির নির্দেশ মানাই এখন সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার: প্রধান উপদেষ্টা

Live News Bangla71
  • আপডেট সময় : ০৬:৪১:২৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬ ৯৮ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন উপলক্ষে আয়োজিত গণভোটকে সামনে রেখে দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনায় একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার (২১ জানুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে এ সভা হয়।

বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বর্তমান সময়ে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। নির্বাচন কমিশনকে সর্বাত্মক সহায়তা করাই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান দায়িত্ব। এই নির্বাচন জাতির জন্য একটি বড় পরীক্ষা এবং এটি সফলভাবে সম্পন্ন হলে তা ভবিষ্যতের জন্য একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

তিনি বলেন, নির্বাচনের দিন যেন কোথাও কোনো ধরনের ঘাটতি না থাকে, সে বিষয়ে সবাইকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে। ১২ ফেব্রুয়ারিকে সামনে রেখে আজ থেকেই প্রস্তুতির ধাপে ধাপে পরীক্ষা শুরু হলো। ২০২৬ সালের নির্বাচন যেন একটি আদর্শ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়, সে লক্ষ্যেই কাজ করতে হবে।

ড. ইউনূস আরও বলেন, নির্বাচন ঘিরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার প্রধান দায়িত্ব থাকবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওপর। একই সঙ্গে প্রযুক্তিগত নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আধুনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। এবারের নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রগুলোতে বডি ক্যামেরা ও সিসি ক্যামেরা ব্যবহার করা হবে এবং কেন্দ্রীয় কন্ট্রোল রুম থেকে সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হবে।

তিনি বাহিনীগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে যেন কোনো ধরনের সমন্বয়হীনতা দেখা না দেয়।

প্রধান উপদেষ্টা জানান, এবারের নির্বাচন দেশি-বিদেশি গণমাধ্যম ও পর্যবেক্ষকদের ব্যাপক আগ্রহের কেন্দ্রে রয়েছে। এ কারণে সবাইকে আরও বেশি দায়িত্বশীল ও সতর্ক থাকতে হবে। বর্তমান প্রস্তুতি ও পরিস্থিতি বিবেচনায় একটি শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন সম্ভব বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

নির্বাচন কমিশনের সচিব আখতার আহমেদ বৈঠকে জানান, নিবন্ধিত ৫৯টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে ৫১টি দল এবারের নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য ২৬টি দেশের প্রতিনিধিদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের একটি বড় পর্যবেক্ষক দল বাংলাদেশে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তিনি জানান, নির্বাচনী প্রচারণা আজ মধ্যরাত থেকে শুরু হয়ে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত চলবে। সাইবার জগতে অপতথ্য ও গুজব ছড়ানো এবারের একটি বড় চ্যালেঞ্জ উল্লেখ করে তিনি গণমাধ্যমের দায়িত্বশীল ভূমিকার আহ্বান জানান।

বৈঠকে জানানো হয়, নির্বাচনের দিন নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ, মোবাইল নেটওয়ার্ক ও ইন্টারনেট সেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো কাজ করছে।

সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামান জানান, অতীতের সহিংস ঘটনায় লুট হওয়া অস্ত্র ও গোলাবারুদের উল্লেখযোগ্য অংশ ইতোমধ্যে উদ্ধার করা হয়েছে। নির্বাচনের সময় জনমনে নিরাপত্তা ও স্বস্তি নিশ্চিত করতে বাহিনীগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করবে বলেও তিনি জানান।

সভায় আরও জানানো হয়, ভোটকেন্দ্রের ভেতরে প্রিজাইডিং কর্মকর্তার নিরাপত্তায় সশস্ত্র আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। প্রয়োজনে সশস্ত্র বাহিনী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী হিসেবে ভোটকেন্দ্র প্রাঙ্গণে দায়িত্ব পালন করতে পারবে।

বডি ক্যামেরা, ড্রোন ব্যবহার এবং কেন্দ্রীয় মনিটরিং ব্যবস্থার মাধ্যমে নির্বাচন-পূর্ব, নির্বাচনকালীন ও নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে বলেও সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

উচ্চপর্যায়ের এ বৈঠকে সশস্ত্র বাহিনী, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও গোয়েন্দা সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

ইসির নির্দেশ মানাই এখন সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার: প্রধান উপদেষ্টা

আপডেট সময় : ০৬:৪১:২৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন উপলক্ষে আয়োজিত গণভোটকে সামনে রেখে দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনায় একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার (২১ জানুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে এ সভা হয়।

বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বর্তমান সময়ে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। নির্বাচন কমিশনকে সর্বাত্মক সহায়তা করাই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান দায়িত্ব। এই নির্বাচন জাতির জন্য একটি বড় পরীক্ষা এবং এটি সফলভাবে সম্পন্ন হলে তা ভবিষ্যতের জন্য একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

তিনি বলেন, নির্বাচনের দিন যেন কোথাও কোনো ধরনের ঘাটতি না থাকে, সে বিষয়ে সবাইকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে। ১২ ফেব্রুয়ারিকে সামনে রেখে আজ থেকেই প্রস্তুতির ধাপে ধাপে পরীক্ষা শুরু হলো। ২০২৬ সালের নির্বাচন যেন একটি আদর্শ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়, সে লক্ষ্যেই কাজ করতে হবে।

ড. ইউনূস আরও বলেন, নির্বাচন ঘিরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার প্রধান দায়িত্ব থাকবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওপর। একই সঙ্গে প্রযুক্তিগত নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আধুনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। এবারের নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রগুলোতে বডি ক্যামেরা ও সিসি ক্যামেরা ব্যবহার করা হবে এবং কেন্দ্রীয় কন্ট্রোল রুম থেকে সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হবে।

তিনি বাহিনীগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে যেন কোনো ধরনের সমন্বয়হীনতা দেখা না দেয়।

প্রধান উপদেষ্টা জানান, এবারের নির্বাচন দেশি-বিদেশি গণমাধ্যম ও পর্যবেক্ষকদের ব্যাপক আগ্রহের কেন্দ্রে রয়েছে। এ কারণে সবাইকে আরও বেশি দায়িত্বশীল ও সতর্ক থাকতে হবে। বর্তমান প্রস্তুতি ও পরিস্থিতি বিবেচনায় একটি শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন সম্ভব বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

নির্বাচন কমিশনের সচিব আখতার আহমেদ বৈঠকে জানান, নিবন্ধিত ৫৯টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে ৫১টি দল এবারের নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য ২৬টি দেশের প্রতিনিধিদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের একটি বড় পর্যবেক্ষক দল বাংলাদেশে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তিনি জানান, নির্বাচনী প্রচারণা আজ মধ্যরাত থেকে শুরু হয়ে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত চলবে। সাইবার জগতে অপতথ্য ও গুজব ছড়ানো এবারের একটি বড় চ্যালেঞ্জ উল্লেখ করে তিনি গণমাধ্যমের দায়িত্বশীল ভূমিকার আহ্বান জানান।

বৈঠকে জানানো হয়, নির্বাচনের দিন নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ, মোবাইল নেটওয়ার্ক ও ইন্টারনেট সেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো কাজ করছে।

সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামান জানান, অতীতের সহিংস ঘটনায় লুট হওয়া অস্ত্র ও গোলাবারুদের উল্লেখযোগ্য অংশ ইতোমধ্যে উদ্ধার করা হয়েছে। নির্বাচনের সময় জনমনে নিরাপত্তা ও স্বস্তি নিশ্চিত করতে বাহিনীগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করবে বলেও তিনি জানান।

সভায় আরও জানানো হয়, ভোটকেন্দ্রের ভেতরে প্রিজাইডিং কর্মকর্তার নিরাপত্তায় সশস্ত্র আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। প্রয়োজনে সশস্ত্র বাহিনী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী হিসেবে ভোটকেন্দ্র প্রাঙ্গণে দায়িত্ব পালন করতে পারবে।

বডি ক্যামেরা, ড্রোন ব্যবহার এবং কেন্দ্রীয় মনিটরিং ব্যবস্থার মাধ্যমে নির্বাচন-পূর্ব, নির্বাচনকালীন ও নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে বলেও সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

উচ্চপর্যায়ের এ বৈঠকে সশস্ত্র বাহিনী, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও গোয়েন্দা সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।