ঢাকা ০৭:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

উত্তপ্ত’ বিসিবি-আইসিসির ভিডিও কনফারেন্স বৈঠকে যা ঘটেছিল

Live News Bangla71
  • আপডেট সময় : ১১:০৬:১০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬ ৭০ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

নিরাপত্তার কারণে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে যাবে না বাংলাদেশ, এই বিষয়ে নিজেদের সিদ্ধান্তের কথা আইসিসিকে দুই দফায় জানিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। অন্যদিকে, আইসিসিও বিসিবিকে বোঝানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, শেষ মুহূর্তে এসে ভেন্যু পরিবর্তন প্রায় অসম্ভব। ভারতের নিরাপত্তা নিয়ে বিসিবি যতটা শঙ্কা প্রকাশ করছে, ততটা শঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই বলেও দাবি তাদের।

এখনো এই বিষয়ে কোনো সুরাহা না মিললেও গতকাল দুপুরে নিয়ে প্রথম ভার্চ্যুয়াল সভা করেন বিসিবি ও আইসিসি কর্মকর্তারা। ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে হওয়া সভায় বিসিবি ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে না যাওয়ার ব্যাপারে তাদের অনড় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে। চুপ করে থাকেনি আইসিসিও। পাল্টা যুক্তি দাঁড় করিয়েছে তারা। সব মিলিয়ে ভিডিও কনফারেন্সে হওয়া বৈঠক বেশ উত্তপ্তই ছিল বলে জানা গেছে।

সভায় বিসিবি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, নিরাপত্তার কারণে বাংলাদেশ দল ভারতে খেলতে যাবে না, এটা সরকারের সিদ্ধান্ত। এ ব্যাপারে দ্বিতীয় চিন্তার সুযোগ নেই। বিসিবি এও অনুরোধ জানিয়েছে যে, কলকাতা ও মুম্বাই থেকে বাংলাদেশের ম্যাচগুলো যেন শ্রীলঙ্কা বা অন্য কোনো দেশে সরিয়ে নেওয়া হয়। বিসিবি আশাবাদী, আইসিসি শেষ পর্যন্ত তাদের অনুরোধে ইতিবাচক সাড়া দেবে।

এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিসিবি জানিয়েছে, টুর্নামেন্টের সূচি এরই মধ্যে ঘোষিত হয়ে যাওয়ায় বিসিবিকে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার অনুরোধ করেছে আইসিসি। তবে বিসিবি অবস্থান বদলায়নি। সম্ভাব্য সমাধান খুঁজে বের করতে দুই পক্ষ আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে একমত হয়েছে। একটি সূত্র অবশ্য জানিয়েছে, কোনো কিছু চূড়ান্ত হওয়ার আগে বিশ্বকাপের নিরাপত্তা নিয়ে বিসিবি-আইসিসি বার্তা আদান-প্রদানের বিষয়টি বাইরে চলে আসায় সভায় অসন্তোষও প্রকাশ করেছে আইসিসি।

৭ ফরোয়ার্ড নিয়ে ব্রাজিলের শক্তিশালী দল ঘোষণা
বাংলাদেশ ক্রিকেটের পরবর্তী ‘সুপারস্টার’ কে, জানালেন মঈন আলী
সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, বিসিবি-আইসিসি ভিডিও কনফারেন্সে দুপক্ষে ভালো যুক্তিতর্ক হয়েছে। সভায় বিসিবির পক্ষ থেকে আইসিসির কাছে জানতে চাওয়া হয়, যেখানে তাদের (আইসিসির) দেওয়া রিপোর্টেই ‘ইন্টারনাল থ্রেট অ্যাসেসমেন্ট’ বলা হয়েছে, বাংলাদেশ দল ভারতে গেলে মোস্তাফিজুর রহমানকে ঘিরে নিরাপত্তা বিঘ্নের আশঙ্কা আছে, বাংলাদেশের জার্সি পরে বের হওয়া দর্শকদেরও বিপদের কারণ হতে পারে, সেখানে আইসিসি কীভাবে বিসিবিকে ভারতে দল পাঠাতে বলে?

জবাবে আইসিসি বলেছে, ভারতে যেটুকু নিরাপত্তা শঙ্কা আছে, সেটি ‘লো মডারেট’ বা ‘নিম্ন মাঝারি’ পর্যায়ের। পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা করে এটি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব। আইসিসির এই যুক্তির পরিপ্রেক্ষিতে বিসিবি পাল্টা প্রশ্ন তোলে—ভারতে খেলতে গেলে বাংলাদেশ দলের পাশাপাশি বোর্ড কর্মকর্তা, সাংবাদিকেরাও যাবেন। তাদের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা কে দেবে?

বিসিবি মনে করে, উগ্রপন্থিদের দাবির মুখে ভারতের এ সিদ্ধান্তে পরিষ্কার যে, সেখানে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের নিরাপত্তা নেই। বিসিবির এ যুক্তির জবাবে আইসিসি বলে, বাংলাদেশের একজন আম্পায়ার শরফুদ্দৌলা ইবনে শহীদ বর্তমানে ভারতে কোনো রকম নিরাপত্তা-সংকট ছাড়াই নিউজিল্যান্ড-ভারত সিরিজে আম্পায়ারিং করছেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিসিবি সাফ বলে দেয়, একজনের নিরাপত্তা দেওয়া আর পুরো একটি দল এবং তার সঙ্গে যাওয়া কর্মকর্তা, সাংবাদিক, দর্শকদের নিরাপত্তা দেওয়া এক নয়। এখানে ঝুঁকি অনেক বেশি।

উল্লেখ্য, ভিডিও কনফারেন্সে বিসিবির পক্ষে ছিলেন বোর্ড সভাপতি আমিনুল ইসলাম, দুই সহসভাপতি ফারুক আহমেদ ও সাখাওয়াত হোসেন, ক্রিকেট পরিচালনা কমিটির প্রধান নাজমূল আবেদীন এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিজাম উদ্দিন চৌধুরী। অন্যদিকে আইসিসিকে নেতৃত্ব দেন সংস্থার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সংযোগ গুপ্তা। চার সদস্যের প্রতিনিধিদলে ছিলেন আইসিসির নিরাপত্তা ও দুর্নীতি দমন বিভাগের কর্মকর্তারা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

উত্তপ্ত’ বিসিবি-আইসিসির ভিডিও কনফারেন্স বৈঠকে যা ঘটেছিল

আপডেট সময় : ১১:০৬:১০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬

নিরাপত্তার কারণে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে যাবে না বাংলাদেশ, এই বিষয়ে নিজেদের সিদ্ধান্তের কথা আইসিসিকে দুই দফায় জানিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। অন্যদিকে, আইসিসিও বিসিবিকে বোঝানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, শেষ মুহূর্তে এসে ভেন্যু পরিবর্তন প্রায় অসম্ভব। ভারতের নিরাপত্তা নিয়ে বিসিবি যতটা শঙ্কা প্রকাশ করছে, ততটা শঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই বলেও দাবি তাদের।

এখনো এই বিষয়ে কোনো সুরাহা না মিললেও গতকাল দুপুরে নিয়ে প্রথম ভার্চ্যুয়াল সভা করেন বিসিবি ও আইসিসি কর্মকর্তারা। ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে হওয়া সভায় বিসিবি ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে না যাওয়ার ব্যাপারে তাদের অনড় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে। চুপ করে থাকেনি আইসিসিও। পাল্টা যুক্তি দাঁড় করিয়েছে তারা। সব মিলিয়ে ভিডিও কনফারেন্সে হওয়া বৈঠক বেশ উত্তপ্তই ছিল বলে জানা গেছে।

সভায় বিসিবি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, নিরাপত্তার কারণে বাংলাদেশ দল ভারতে খেলতে যাবে না, এটা সরকারের সিদ্ধান্ত। এ ব্যাপারে দ্বিতীয় চিন্তার সুযোগ নেই। বিসিবি এও অনুরোধ জানিয়েছে যে, কলকাতা ও মুম্বাই থেকে বাংলাদেশের ম্যাচগুলো যেন শ্রীলঙ্কা বা অন্য কোনো দেশে সরিয়ে নেওয়া হয়। বিসিবি আশাবাদী, আইসিসি শেষ পর্যন্ত তাদের অনুরোধে ইতিবাচক সাড়া দেবে।

এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিসিবি জানিয়েছে, টুর্নামেন্টের সূচি এরই মধ্যে ঘোষিত হয়ে যাওয়ায় বিসিবিকে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার অনুরোধ করেছে আইসিসি। তবে বিসিবি অবস্থান বদলায়নি। সম্ভাব্য সমাধান খুঁজে বের করতে দুই পক্ষ আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে একমত হয়েছে। একটি সূত্র অবশ্য জানিয়েছে, কোনো কিছু চূড়ান্ত হওয়ার আগে বিশ্বকাপের নিরাপত্তা নিয়ে বিসিবি-আইসিসি বার্তা আদান-প্রদানের বিষয়টি বাইরে চলে আসায় সভায় অসন্তোষও প্রকাশ করেছে আইসিসি।

৭ ফরোয়ার্ড নিয়ে ব্রাজিলের শক্তিশালী দল ঘোষণা
বাংলাদেশ ক্রিকেটের পরবর্তী ‘সুপারস্টার’ কে, জানালেন মঈন আলী
সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, বিসিবি-আইসিসি ভিডিও কনফারেন্সে দুপক্ষে ভালো যুক্তিতর্ক হয়েছে। সভায় বিসিবির পক্ষ থেকে আইসিসির কাছে জানতে চাওয়া হয়, যেখানে তাদের (আইসিসির) দেওয়া রিপোর্টেই ‘ইন্টারনাল থ্রেট অ্যাসেসমেন্ট’ বলা হয়েছে, বাংলাদেশ দল ভারতে গেলে মোস্তাফিজুর রহমানকে ঘিরে নিরাপত্তা বিঘ্নের আশঙ্কা আছে, বাংলাদেশের জার্সি পরে বের হওয়া দর্শকদেরও বিপদের কারণ হতে পারে, সেখানে আইসিসি কীভাবে বিসিবিকে ভারতে দল পাঠাতে বলে?

জবাবে আইসিসি বলেছে, ভারতে যেটুকু নিরাপত্তা শঙ্কা আছে, সেটি ‘লো মডারেট’ বা ‘নিম্ন মাঝারি’ পর্যায়ের। পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা করে এটি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব। আইসিসির এই যুক্তির পরিপ্রেক্ষিতে বিসিবি পাল্টা প্রশ্ন তোলে—ভারতে খেলতে গেলে বাংলাদেশ দলের পাশাপাশি বোর্ড কর্মকর্তা, সাংবাদিকেরাও যাবেন। তাদের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা কে দেবে?

বিসিবি মনে করে, উগ্রপন্থিদের দাবির মুখে ভারতের এ সিদ্ধান্তে পরিষ্কার যে, সেখানে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের নিরাপত্তা নেই। বিসিবির এ যুক্তির জবাবে আইসিসি বলে, বাংলাদেশের একজন আম্পায়ার শরফুদ্দৌলা ইবনে শহীদ বর্তমানে ভারতে কোনো রকম নিরাপত্তা-সংকট ছাড়াই নিউজিল্যান্ড-ভারত সিরিজে আম্পায়ারিং করছেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিসিবি সাফ বলে দেয়, একজনের নিরাপত্তা দেওয়া আর পুরো একটি দল এবং তার সঙ্গে যাওয়া কর্মকর্তা, সাংবাদিক, দর্শকদের নিরাপত্তা দেওয়া এক নয়। এখানে ঝুঁকি অনেক বেশি।

উল্লেখ্য, ভিডিও কনফারেন্সে বিসিবির পক্ষে ছিলেন বোর্ড সভাপতি আমিনুল ইসলাম, দুই সহসভাপতি ফারুক আহমেদ ও সাখাওয়াত হোসেন, ক্রিকেট পরিচালনা কমিটির প্রধান নাজমূল আবেদীন এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিজাম উদ্দিন চৌধুরী। অন্যদিকে আইসিসিকে নেতৃত্ব দেন সংস্থার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সংযোগ গুপ্তা। চার সদস্যের প্রতিনিধিদলে ছিলেন আইসিসির নিরাপত্তা ও দুর্নীতি দমন বিভাগের কর্মকর্তারা।