ঢাকা ০১:১৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

কলেজছাত্রীকে অপহরণ ও ধর্ষণের দায়ে যুবকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

Live News Bangla71
  • আপডেট সময় : ০২:১৫:২৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬ ১২৩ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় কলেজছাত্রীকে অপহরণের দায়ে সোহেল শেখ (৩৫) নামের এক যুবককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। ওই ছাত্রীকে অপহরণের পর ধর্ষণের দায়ে অন্য আরেকটি ধারায়ও তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

রোববার (১৫ মার্চ) দুপুর একটার দিকে ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) শামীমা পারভীন এ আদেশ দেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত ওই যুবক উপজেলার আলফাডাঙ্গা উপজেলার পাঁচুড়িয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ চরনারানদিয়া গ্রামের বাসিন্দা। অপহরণ ও ধর্ষণের শিকার কিশোরী পার্শ্ববর্তী বোয়ালমারী উপজেলার একটি গ্রামের বাসিন্দা। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। রায় ঘোষণার পর তাকে পুলিশ পাহারায় জেলা কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।

দুইটি ধারার রায়েই যাবজ্জীবনের পাশাপাশি ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার টাকা অনাদায়ে তাকে আরও এক বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। তবে ওই ব্যক্তি এই দুই সাজা একত্রে ভোগ করতে পারবেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালে ওই কিশোরী বোয়ালমারী উপজেলার একটি কলেজে একাদশ শ্রেণিতে পড়াশোনা করত। বাড়ি থেকে কলেজে যাওয়ার পথে মো. সোহেল শেখ তাকে বিরক্ত করত। এ ঘটনায় মেয়ের পরিবারের লোকজন ছেলের অভিভাবকদের কাছে নালিশ করেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ২০১৬ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর ওই তরুণীকে নিজের সহযোগীদের নিয়ে মাইক্রোবাসে করে অপহরণ করে মো. সোহেল শেখ। এ ঘটনায় ওই বছরের ২৪ সেপ্টেম্বর ওই কিশোরীর বাবা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করেন। এজাহারে সোহেল শেখের পাশাপাশি তার ভাই রাসেল শেখ (৩২) ও তাদের সহযোগী আরিফ শেখকেও (৪০) আসামি করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বোয়ালমারী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. সানোয়ার হোসেন ২০১৭ সালের ২ মার্চ সোহেলসহ তিনজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন।

মামলার দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্যপ্রমাণ শেষে আদালত সোহেল শেখকে অপহরণ ও ধর্ষণ—এই দুটি পৃথক ধারায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দেন। প্রতিটি ধারায় তাকে ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তবে আদালত উল্লেখ করেছেন যে, সাজাপ্রাপ্ত আসামি এই দুই সাজা একত্রে ভোগ করতে পারবেন। অন্যদিকে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় মামলার অপর দুই আসামি রাসেল শেখ ও আরিফ শেখকে আদালত খালাস প্রদান করেছেন। রায় ঘোষণার পর দণ্ডপ্রাপ্ত সোহেল শেখকে পুলিশ পাহারায় জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ওই আদালতের পিপি গোলাম রব্বানী বলেন, আদালত সোহেল শেখের দুটি অপরাধে দুটি ধারায় রায় প্রদান করেছেন—একটি অপহরণ ও অপরটি ধর্ষণ। দুইটি অপরাধে তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অপর দুই আসামির অপরাধ প্রমাণিত না হয় তাদের খালাস দেওয়া হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

কলেজছাত্রীকে অপহরণ ও ধর্ষণের দায়ে যুবকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

আপডেট সময় : ০২:১৫:২৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় কলেজছাত্রীকে অপহরণের দায়ে সোহেল শেখ (৩৫) নামের এক যুবককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। ওই ছাত্রীকে অপহরণের পর ধর্ষণের দায়ে অন্য আরেকটি ধারায়ও তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

রোববার (১৫ মার্চ) দুপুর একটার দিকে ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) শামীমা পারভীন এ আদেশ দেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত ওই যুবক উপজেলার আলফাডাঙ্গা উপজেলার পাঁচুড়িয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ চরনারানদিয়া গ্রামের বাসিন্দা। অপহরণ ও ধর্ষণের শিকার কিশোরী পার্শ্ববর্তী বোয়ালমারী উপজেলার একটি গ্রামের বাসিন্দা। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। রায় ঘোষণার পর তাকে পুলিশ পাহারায় জেলা কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।

দুইটি ধারার রায়েই যাবজ্জীবনের পাশাপাশি ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার টাকা অনাদায়ে তাকে আরও এক বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। তবে ওই ব্যক্তি এই দুই সাজা একত্রে ভোগ করতে পারবেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালে ওই কিশোরী বোয়ালমারী উপজেলার একটি কলেজে একাদশ শ্রেণিতে পড়াশোনা করত। বাড়ি থেকে কলেজে যাওয়ার পথে মো. সোহেল শেখ তাকে বিরক্ত করত। এ ঘটনায় মেয়ের পরিবারের লোকজন ছেলের অভিভাবকদের কাছে নালিশ করেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ২০১৬ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর ওই তরুণীকে নিজের সহযোগীদের নিয়ে মাইক্রোবাসে করে অপহরণ করে মো. সোহেল শেখ। এ ঘটনায় ওই বছরের ২৪ সেপ্টেম্বর ওই কিশোরীর বাবা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করেন। এজাহারে সোহেল শেখের পাশাপাশি তার ভাই রাসেল শেখ (৩২) ও তাদের সহযোগী আরিফ শেখকেও (৪০) আসামি করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বোয়ালমারী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. সানোয়ার হোসেন ২০১৭ সালের ২ মার্চ সোহেলসহ তিনজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন।

মামলার দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্যপ্রমাণ শেষে আদালত সোহেল শেখকে অপহরণ ও ধর্ষণ—এই দুটি পৃথক ধারায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দেন। প্রতিটি ধারায় তাকে ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তবে আদালত উল্লেখ করেছেন যে, সাজাপ্রাপ্ত আসামি এই দুই সাজা একত্রে ভোগ করতে পারবেন। অন্যদিকে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় মামলার অপর দুই আসামি রাসেল শেখ ও আরিফ শেখকে আদালত খালাস প্রদান করেছেন। রায় ঘোষণার পর দণ্ডপ্রাপ্ত সোহেল শেখকে পুলিশ পাহারায় জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ওই আদালতের পিপি গোলাম রব্বানী বলেন, আদালত সোহেল শেখের দুটি অপরাধে দুটি ধারায় রায় প্রদান করেছেন—একটি অপহরণ ও অপরটি ধর্ষণ। দুইটি অপরাধে তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অপর দুই আসামির অপরাধ প্রমাণিত না হয় তাদের খালাস দেওয়া হয়েছে।