ঢাকা ০৯:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

চট্টগ্রামে উন্নয়ন ও পরিবর্তনের রূপরেখা দিলেন তারেক রহমান

Live News Bangla71
  • আপডেট সময় : ১০:৫৬:২৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬ ৭৩ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

দীর্ঘ প্রায় দুই দশক পর চট্টগ্রামে ফিরে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশের রাজনীতি, অর্থনীতি ও ভবিষ্যৎ উন্নয়ন নিয়ে একটি সমন্বিত রূপরেখা তুলে ধরেছেন। রোববার নগরের পলোগ্রাউন্ড মাঠে আয়োজিত মহাসমাবেশে তিনি দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, কৃষি ও শিল্পায়ন, জলাবদ্ধতা নিরসন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, আইনশৃঙ্খলা উন্নয়ন, দুর্নীতি দমন ও পরিবেশ রক্ষার বিষয়ে বিএনপির পরিকল্পনা তুলে ধরেন।

সমাবেশে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণে মাঠ ও আশপাশের এলাকা সকাল থেকেই ব্যানার-ফেস্টুনে ভরে ওঠে। দুপুরের দিকে উত্তাল জনতার সামনে বক্তব্য শুরু করেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রাম থেকেই শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন এবং এই শহরেই তিনি শহীদ হন। এখানেই বেগম খালেদা জিয়াকে দেশনেত্রী উপাধি দেওয়া হয়েছিল। চট্টগ্রামের সঙ্গে আমার ও আমার পরিবারের গভীর আবেগের সম্পর্ক রয়েছে।’

তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে যেমন স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছিল, তেমনি ২০২৪ সালের আন্দোলনের মাধ্যমে জনগণ আবারও দেশকে রক্ষা করেছে। বাংলাদেশের মানুষ পরিবর্তন চেয়েছে, যে পরিবর্তনের মাধ্যমে শিক্ষা ও চিকিৎসার সুযোগ নিশ্চিত হবে।

রাজনৈতিক সমালোচনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রতিপক্ষের সমালোচনা করে মানুষের জীবন বদলানো যায় না। বিএনপি যতবার ক্ষমতায় গেছে, ততবারই মানুষের জন্য কাজ করেছে।

দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও কৃষি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, উৎপাদন বাড়ানো ছাড়া বাজার স্থিতিশীল করা সম্ভব নয়। এ জন্য কৃষকদের কাছে কৃষক কার্ড পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে তারা রাষ্ট্রীয় সুবিধা সহজে পেতে পারে।

চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতার কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, খাল ও নালা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় নগরজুড়ে পানি জমে। পরিকল্পিতভাবে খাল খনন করে এই সমস্যা সমাধান করা হবে।

শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, চট্টগ্রামে থাকা ইপিজেডগুলো বিএনপির আমলেই গড়ে উঠেছিল এবং সেগুলো লাখ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে। বিএনপি সরকারে গেলে নতুন ইপিজেড স্থাপন করে চট্টগ্রামকে দেশের বাণিজ্যিক রাজধানীতে রূপান্তর করা হবে।

আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বিষয়ে তিনি বলেন, মানুষের নিরাপত্তা ছাড়া কোনো উন্নয়ন সম্ভব নয়। অতীতে বিএনপি সরকারের সময় দলের কেউ অপরাধ করলে তাকেও ছাড় দেওয়া হয়নি। ভবিষ্যতেও আইনশৃঙ্খলা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে।

দুর্নীতি দমন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিএনপি দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেবে। বেগম খালেদা জিয়ার সময় দুর্নীতি দমনে অগ্রগতি হয়েছিল এবং ভবিষ্যতেও দুর্নীতিবাজদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।

এর আগে সকালে রেডিসন ব্লু হোটেলে তরুণদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তারেক রহমান জানান, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় জলাবদ্ধতা দূর করতে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের পরিকল্পনা রয়েছে। তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ শর্তে ব্যাংক ঋণের ব্যবস্থা করা হবে এবং বিদেশে পড়তে যাওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য স্টুডেন্ট লোন চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

পরিবেশ রক্ষার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, বায়ুদূষণ কমাতে পাঁচ বছরে ৫০ কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে এবং দেশের নার্সারিগুলোর উৎপাদন ক্ষমতা বাড়িয়ে এই লক্ষ্য পূরণ করা হবে।

সমাবেশের শেষ পর্যায়ে তারেক রহমান ভোটারদের ধানের শীষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ভোটের দিন ভোরে নামাজ শেষে লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দিয়ে পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিতে হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

চট্টগ্রামে উন্নয়ন ও পরিবর্তনের রূপরেখা দিলেন তারেক রহমান

আপডেট সময় : ১০:৫৬:২৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬

দীর্ঘ প্রায় দুই দশক পর চট্টগ্রামে ফিরে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশের রাজনীতি, অর্থনীতি ও ভবিষ্যৎ উন্নয়ন নিয়ে একটি সমন্বিত রূপরেখা তুলে ধরেছেন। রোববার নগরের পলোগ্রাউন্ড মাঠে আয়োজিত মহাসমাবেশে তিনি দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, কৃষি ও শিল্পায়ন, জলাবদ্ধতা নিরসন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, আইনশৃঙ্খলা উন্নয়ন, দুর্নীতি দমন ও পরিবেশ রক্ষার বিষয়ে বিএনপির পরিকল্পনা তুলে ধরেন।

সমাবেশে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণে মাঠ ও আশপাশের এলাকা সকাল থেকেই ব্যানার-ফেস্টুনে ভরে ওঠে। দুপুরের দিকে উত্তাল জনতার সামনে বক্তব্য শুরু করেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রাম থেকেই শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন এবং এই শহরেই তিনি শহীদ হন। এখানেই বেগম খালেদা জিয়াকে দেশনেত্রী উপাধি দেওয়া হয়েছিল। চট্টগ্রামের সঙ্গে আমার ও আমার পরিবারের গভীর আবেগের সম্পর্ক রয়েছে।’

তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে যেমন স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছিল, তেমনি ২০২৪ সালের আন্দোলনের মাধ্যমে জনগণ আবারও দেশকে রক্ষা করেছে। বাংলাদেশের মানুষ পরিবর্তন চেয়েছে, যে পরিবর্তনের মাধ্যমে শিক্ষা ও চিকিৎসার সুযোগ নিশ্চিত হবে।

রাজনৈতিক সমালোচনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রতিপক্ষের সমালোচনা করে মানুষের জীবন বদলানো যায় না। বিএনপি যতবার ক্ষমতায় গেছে, ততবারই মানুষের জন্য কাজ করেছে।

দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও কৃষি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, উৎপাদন বাড়ানো ছাড়া বাজার স্থিতিশীল করা সম্ভব নয়। এ জন্য কৃষকদের কাছে কৃষক কার্ড পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে তারা রাষ্ট্রীয় সুবিধা সহজে পেতে পারে।

চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতার কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, খাল ও নালা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় নগরজুড়ে পানি জমে। পরিকল্পিতভাবে খাল খনন করে এই সমস্যা সমাধান করা হবে।

শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, চট্টগ্রামে থাকা ইপিজেডগুলো বিএনপির আমলেই গড়ে উঠেছিল এবং সেগুলো লাখ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে। বিএনপি সরকারে গেলে নতুন ইপিজেড স্থাপন করে চট্টগ্রামকে দেশের বাণিজ্যিক রাজধানীতে রূপান্তর করা হবে।

আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বিষয়ে তিনি বলেন, মানুষের নিরাপত্তা ছাড়া কোনো উন্নয়ন সম্ভব নয়। অতীতে বিএনপি সরকারের সময় দলের কেউ অপরাধ করলে তাকেও ছাড় দেওয়া হয়নি। ভবিষ্যতেও আইনশৃঙ্খলা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে।

দুর্নীতি দমন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিএনপি দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেবে। বেগম খালেদা জিয়ার সময় দুর্নীতি দমনে অগ্রগতি হয়েছিল এবং ভবিষ্যতেও দুর্নীতিবাজদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।

এর আগে সকালে রেডিসন ব্লু হোটেলে তরুণদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তারেক রহমান জানান, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় জলাবদ্ধতা দূর করতে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের পরিকল্পনা রয়েছে। তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ শর্তে ব্যাংক ঋণের ব্যবস্থা করা হবে এবং বিদেশে পড়তে যাওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য স্টুডেন্ট লোন চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

পরিবেশ রক্ষার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, বায়ুদূষণ কমাতে পাঁচ বছরে ৫০ কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে এবং দেশের নার্সারিগুলোর উৎপাদন ক্ষমতা বাড়িয়ে এই লক্ষ্য পূরণ করা হবে।

সমাবেশের শেষ পর্যায়ে তারেক রহমান ভোটারদের ধানের শীষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ভোটের দিন ভোরে নামাজ শেষে লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দিয়ে পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিতে হবে।