ঢাকা ১১:২২ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

জামায়াত নেতাকর্মীরা দেশেই ছিলেন, মুচলেকা দিয়ে পালিয়ে যাননি : শফিকুর রহমান

Live News Bangla71
  • আপডেট সময় : ০৯:২৭:৩২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬ ৭০ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

জামায়াত নেতাকর্মীরা জুলুম-নির্যাতন সহ্য করে দেশেই ছিলেন। দেশ থেকে কোথাও মুচলেকা দিয়ে পালিয়ে যাননি। যে দলের নেতারা দেশ ও দেশের মানুষকে ভালোবাসে তারা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যায় না বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

শনিবার গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার এস এম পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, আমরা সেই বাংলাদেশ গড়তে চাই, যেখানে অর্থের বিনিময়ে বিচার কেনা যায় না। যেখানে ধনী-গরিব-শিক্ষিত সবার জন্য অধিকার সমান হবে।

জামায়াত আমির বলেন, কৃষিকে আর পুরান ধাঁচে চালানো হবে না। এখানে আধুনিকায়ন করে আধুনিক লজিস্টিক সরবরাহ করে ন্যায্যমূল্যে তা কৃষকের হাতে তুলে দিয়ে আমরা এই কৃষি উৎপাদন বাড়িয়ে তুলব।

জামায়াত আমির অভিযোগ করে বলেন, কৃষিপণ্য উৎপাদন করার পর বাজারে তা সঠিক মূল্যে পাওয়া যায় না। সংরক্ষণের অভাবে অনেক সময় উৎপাদিত ফসল নষ্ট হয়ে যায়। এসব সমস্যা সমাধানের মাধ্যমে ফসলের ন্যায্যমূল্য দেওয়া হবে। আমরা আপনাদের কথা দিচ্ছি, ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা হবে।

ফসল ও সবজির সংরক্ষণও নিশ্চিত করা হবে বলে জানান তিনি। বিভিন্ন স্থানে ফসল ও সবজির সংরক্ষণাগার গড়ে তোলা হবে বলে প্রতিশ্রুতি দেন শফিকুর রহমান। সারা বছর দেশের মানুষ ন্যায্য দামে কৃষিপণ্য পাবেন বলেও আশ্বাস দেন তিনি।

জামায়াতের আমির বলেন, হ্যাঁ জয়যুক্ত না হলে রংপুরের মেধাবী শিক্ষার্থী আবু সাঈদের রক্তের সঙ্গে আমাদের বেঈমানি করা হবে। আবু সাঈদরা বুক পেতে দিয়েছিল স্বৈরাচার হটানোর জন্য।

জামায়াত নির্বাচিত হলে সুযোগ পাব পাঁচ বছরের জন্য। যারা চাঁদাবাজি করছেন, তাদের কাজ দিয়ে সম্মানিত করব। তাদের আর চাঁদাবাজি করতে হবে না। পাঁচ বছর আমরা এই দেশের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে জনগণের জন্য জনবান্ধব বাংলাদেশ গড়ে তুলব।
কাউকে ভাতার লোভ দেখিয়ে ভোট চাই না, কাজ দিয়ে দেশকে বেকারমুক্ত করার প্রতিশ্রুতি দিতে চাই। জামায়াত ক্ষমতায় গেলে আমরা বেকার যুবক-যুবতীদের কাজের ব্যবস্থা করে দেব। জামায়াত নেতাকর্মীরা জুলুম নির্যাতন সহ্য করে দেশেই ছিলেন। দেশ থেকে কোথাও মুচলেকা দিয়ে পালিয়ে যাননি। যে দলের নেতারা দেশ ও দেশের মানুষকে ভালোবাসে তারা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যায় না।

গাইবান্ধা জেলায় ইপিজেড নির্মাণ, মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল, বালাশীঘাট ঘাট থেকে বাহাদুরাবাদ ঘাটের জন্য টানেল নির্মাণ, প্রত্যেক উপজেলায় স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতের জন্য চিকিৎসাকেন্দ্রগুলো আধুনিকীকরণ করা, রাজধানীর মতো শিক্ষার মান বাড়াতে উন্নত শিক্ষা পদক্ষেপ গ্রহণ করা, চরাঞ্চলের উৎপাদিত ফসল সংরক্ষণ করে কৃষকদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করাসহ নানা প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

জনসভায় সভাপতিত্ব করেন গাইবান্ধা-৩ (পলাশবাড়ী-সাদুল্লাপুর) আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী অধ্যক্ষ মাওলানা নজরুল ইসলাম লেবু। এতে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন— জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কমিটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল হালিম, জাগপা সহসভাপতি রাশেদ প্রধান, এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রাশেদুল ইসলাম জুয়েল, শিবিরের কেন্দ্রীয় কমিটির সেক্রেটারি সিগবাতুল্লাহ সিগবা, পাঁচ আসনের মনোনীত প্রার্থীসহ স্থানীয় নেতারা।

জনসভা শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে জামায়াতে ইসলামীর আমির গাইবান্ধার পাঁচটি সংসদীয় আসনের প্রার্থীদের হাতে দলীয় প্রতীক ‘দাঁড়িপাল্লা’ তুলে দেন। এ সময় তিনি তাদের পক্ষে দাঁড়িপাল্লা মার্কায় ভোট চান।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

জামায়াত নেতাকর্মীরা দেশেই ছিলেন, মুচলেকা দিয়ে পালিয়ে যাননি : শফিকুর রহমান

আপডেট সময় : ০৯:২৭:৩২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬

জামায়াত নেতাকর্মীরা জুলুম-নির্যাতন সহ্য করে দেশেই ছিলেন। দেশ থেকে কোথাও মুচলেকা দিয়ে পালিয়ে যাননি। যে দলের নেতারা দেশ ও দেশের মানুষকে ভালোবাসে তারা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যায় না বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

শনিবার গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার এস এম পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, আমরা সেই বাংলাদেশ গড়তে চাই, যেখানে অর্থের বিনিময়ে বিচার কেনা যায় না। যেখানে ধনী-গরিব-শিক্ষিত সবার জন্য অধিকার সমান হবে।

জামায়াত আমির বলেন, কৃষিকে আর পুরান ধাঁচে চালানো হবে না। এখানে আধুনিকায়ন করে আধুনিক লজিস্টিক সরবরাহ করে ন্যায্যমূল্যে তা কৃষকের হাতে তুলে দিয়ে আমরা এই কৃষি উৎপাদন বাড়িয়ে তুলব।

জামায়াত আমির অভিযোগ করে বলেন, কৃষিপণ্য উৎপাদন করার পর বাজারে তা সঠিক মূল্যে পাওয়া যায় না। সংরক্ষণের অভাবে অনেক সময় উৎপাদিত ফসল নষ্ট হয়ে যায়। এসব সমস্যা সমাধানের মাধ্যমে ফসলের ন্যায্যমূল্য দেওয়া হবে। আমরা আপনাদের কথা দিচ্ছি, ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা হবে।

ফসল ও সবজির সংরক্ষণও নিশ্চিত করা হবে বলে জানান তিনি। বিভিন্ন স্থানে ফসল ও সবজির সংরক্ষণাগার গড়ে তোলা হবে বলে প্রতিশ্রুতি দেন শফিকুর রহমান। সারা বছর দেশের মানুষ ন্যায্য দামে কৃষিপণ্য পাবেন বলেও আশ্বাস দেন তিনি।

জামায়াতের আমির বলেন, হ্যাঁ জয়যুক্ত না হলে রংপুরের মেধাবী শিক্ষার্থী আবু সাঈদের রক্তের সঙ্গে আমাদের বেঈমানি করা হবে। আবু সাঈদরা বুক পেতে দিয়েছিল স্বৈরাচার হটানোর জন্য।

জামায়াত নির্বাচিত হলে সুযোগ পাব পাঁচ বছরের জন্য। যারা চাঁদাবাজি করছেন, তাদের কাজ দিয়ে সম্মানিত করব। তাদের আর চাঁদাবাজি করতে হবে না। পাঁচ বছর আমরা এই দেশের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে জনগণের জন্য জনবান্ধব বাংলাদেশ গড়ে তুলব।
কাউকে ভাতার লোভ দেখিয়ে ভোট চাই না, কাজ দিয়ে দেশকে বেকারমুক্ত করার প্রতিশ্রুতি দিতে চাই। জামায়াত ক্ষমতায় গেলে আমরা বেকার যুবক-যুবতীদের কাজের ব্যবস্থা করে দেব। জামায়াত নেতাকর্মীরা জুলুম নির্যাতন সহ্য করে দেশেই ছিলেন। দেশ থেকে কোথাও মুচলেকা দিয়ে পালিয়ে যাননি। যে দলের নেতারা দেশ ও দেশের মানুষকে ভালোবাসে তারা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যায় না।

গাইবান্ধা জেলায় ইপিজেড নির্মাণ, মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল, বালাশীঘাট ঘাট থেকে বাহাদুরাবাদ ঘাটের জন্য টানেল নির্মাণ, প্রত্যেক উপজেলায় স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতের জন্য চিকিৎসাকেন্দ্রগুলো আধুনিকীকরণ করা, রাজধানীর মতো শিক্ষার মান বাড়াতে উন্নত শিক্ষা পদক্ষেপ গ্রহণ করা, চরাঞ্চলের উৎপাদিত ফসল সংরক্ষণ করে কৃষকদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করাসহ নানা প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

জনসভায় সভাপতিত্ব করেন গাইবান্ধা-৩ (পলাশবাড়ী-সাদুল্লাপুর) আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী অধ্যক্ষ মাওলানা নজরুল ইসলাম লেবু। এতে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন— জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কমিটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল হালিম, জাগপা সহসভাপতি রাশেদ প্রধান, এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রাশেদুল ইসলাম জুয়েল, শিবিরের কেন্দ্রীয় কমিটির সেক্রেটারি সিগবাতুল্লাহ সিগবা, পাঁচ আসনের মনোনীত প্রার্থীসহ স্থানীয় নেতারা।

জনসভা শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে জামায়াতে ইসলামীর আমির গাইবান্ধার পাঁচটি সংসদীয় আসনের প্রার্থীদের হাতে দলীয় প্রতীক ‘দাঁড়িপাল্লা’ তুলে দেন। এ সময় তিনি তাদের পক্ষে দাঁড়িপাল্লা মার্কায় ভোট চান।