ঢাকা ০৬:৩৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

নেত্রকোনায় তলিয়ে গেছে ১৪ হাজার হেক্টর জমির ধান, দিশেহারা কৃষক

Live News Bangla71
  • আপডেট সময় : ০৭:৩২:২৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২ মে ২০২৬ ৪৩ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টিতে নেত্রকোনা জেলার বিস্তীর্ণ হাওরাঞ্চল এখন পানির নিচে। ডুবে গেছে ১৪ হাজার হেক্টর জমির সোনালি বোরো ধান। বছরের একমাত্র ফসল হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষকরা।

তবুও থেমে নেই তাদের জীবনসংগ্রাম। অনেক কৃষক নৌকা নিয়ে পানির নিচে ডুবিয়ে ধান কেটে সংগ্রহ করছেন। পচা ও ভেজা ধানই এখন তাদের একমাত্র ভরসা—যা দিয়ে সারা বছরের খাদ্য চাহিদা মেটানোর চেষ্টা করছেন তারা।

গত দুই দিন রোদের দেখা মিললেও শুক্রবার (১ মে) মধ্যরাত থেকে আবার বৃষ্টি শুরু হওয়ায় নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে হাওরজুড়ে। ভেজা ধানের বাজারমূল্যও খুব কম। প্রতি কেজি ধান বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৬ থেকে ৭ টাকায়, ফলে ক্ষতির বোঝা আরও বাড়ছে কৃষকদের ওপর।

জেলা কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে হাওর উপজেলাগুলোতে প্রায় ৪১ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ করা হয়েছিল। এর মধ্যে আগাম বন্যায় তলিয়ে গেছে অন্তত ১৪ হাজার হেক্টর ফসল। এতে অনেক কৃষকই এখন নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন।

এদিকে জেলার নদ-নদীর পানি পরিস্থিতিও উদ্বেগজনক। সোমেশ্বরী নদী বিজয়পুর স্টেশনে আজ শনিবার (২ মে) দুপুর ১২টায় পানি সমতল ৯.৮৪ মিটার, যা বিপদসীমার ৬.০৫ মিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও বৃদ্ধি পাচ্ছে। একই নদীর দুর্গাপুর পয়েন্টে পানি কিছুটা কমেছে।

উব্দাখালী নদী কলমাকান্দা স্টেশনে পানি এখনও বিপদসীমার ০.৭৩ মিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে, যদিও হ্রাসের প্রবণতা রয়েছে।

কংশ নদী জারিয়া পয়েন্টে পানি বিপদসীমার ১.০৩ মিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

অন্যদিকে ধনু নদী খালিয়াজুড়ি পয়েন্টে পানি বিপদসীমার সামান্য নিচে অবস্থান করছে এবং স্থিতিশীল রয়েছে। মগড়া নদী আটপাড়া স্টেশনে পানি বৃদ্ধি পেলেও এখনও বিপদসীমার নিচে রয়েছে।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, দ্রুত সরকারি সহায়তা না পেলে হাওরাঞ্চলে খাদ্য সংকটসহ বড় ধরনের মানবিক বিপর্যয় দেখা দিতে পারে। কৃষকদের বাঁচাতে জরুরি ত্রাণ, খাদ্য সহায়তা ও কৃষিঋণ পুনর্বিন্যাসের দাবি জানিয়েছেন তারা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

নেত্রকোনায় তলিয়ে গেছে ১৪ হাজার হেক্টর জমির ধান, দিশেহারা কৃষক

আপডেট সময় : ০৭:৩২:২৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২ মে ২০২৬

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টিতে নেত্রকোনা জেলার বিস্তীর্ণ হাওরাঞ্চল এখন পানির নিচে। ডুবে গেছে ১৪ হাজার হেক্টর জমির সোনালি বোরো ধান। বছরের একমাত্র ফসল হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষকরা।

তবুও থেমে নেই তাদের জীবনসংগ্রাম। অনেক কৃষক নৌকা নিয়ে পানির নিচে ডুবিয়ে ধান কেটে সংগ্রহ করছেন। পচা ও ভেজা ধানই এখন তাদের একমাত্র ভরসা—যা দিয়ে সারা বছরের খাদ্য চাহিদা মেটানোর চেষ্টা করছেন তারা।

গত দুই দিন রোদের দেখা মিললেও শুক্রবার (১ মে) মধ্যরাত থেকে আবার বৃষ্টি শুরু হওয়ায় নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে হাওরজুড়ে। ভেজা ধানের বাজারমূল্যও খুব কম। প্রতি কেজি ধান বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৬ থেকে ৭ টাকায়, ফলে ক্ষতির বোঝা আরও বাড়ছে কৃষকদের ওপর।

জেলা কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে হাওর উপজেলাগুলোতে প্রায় ৪১ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ করা হয়েছিল। এর মধ্যে আগাম বন্যায় তলিয়ে গেছে অন্তত ১৪ হাজার হেক্টর ফসল। এতে অনেক কৃষকই এখন নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন।

এদিকে জেলার নদ-নদীর পানি পরিস্থিতিও উদ্বেগজনক। সোমেশ্বরী নদী বিজয়পুর স্টেশনে আজ শনিবার (২ মে) দুপুর ১২টায় পানি সমতল ৯.৮৪ মিটার, যা বিপদসীমার ৬.০৫ মিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও বৃদ্ধি পাচ্ছে। একই নদীর দুর্গাপুর পয়েন্টে পানি কিছুটা কমেছে।

উব্দাখালী নদী কলমাকান্দা স্টেশনে পানি এখনও বিপদসীমার ০.৭৩ মিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে, যদিও হ্রাসের প্রবণতা রয়েছে।

কংশ নদী জারিয়া পয়েন্টে পানি বিপদসীমার ১.০৩ মিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

অন্যদিকে ধনু নদী খালিয়াজুড়ি পয়েন্টে পানি বিপদসীমার সামান্য নিচে অবস্থান করছে এবং স্থিতিশীল রয়েছে। মগড়া নদী আটপাড়া স্টেশনে পানি বৃদ্ধি পেলেও এখনও বিপদসীমার নিচে রয়েছে।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, দ্রুত সরকারি সহায়তা না পেলে হাওরাঞ্চলে খাদ্য সংকটসহ বড় ধরনের মানবিক বিপর্যয় দেখা দিতে পারে। কৃষকদের বাঁচাতে জরুরি ত্রাণ, খাদ্য সহায়তা ও কৃষিঋণ পুনর্বিন্যাসের দাবি জানিয়েছেন তারা।