ঢাকা ০৩:৪৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থায় পুনরাবৃত্তি ঠেকাতেই এবারের গণভোট: আলী রীয়াজ

Live News Bangla71
  • আপডেট সময় : ০৫:৫২:১১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারী ২০২৬ ১৩৭ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেছেন, বাংলাদেশ যাতে ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থায় আর কখনো ফিরে না যায়, সে জন্যই এবারের গণভোট।
গণভোট বিষয়ে দিক নির্দেশনা প্রদানের লক্ষ্যে বুধবার (৭ জানুয়ারি) কৃষি বিভাগের ১৭ হাজার কর্মকর্তা ও মাঠকর্মীর জন্য অনলাইন প্ল্যাটফর্ম জুমে আয়োজিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ এমদাদ উল্লাহ মিয়ানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা এবং আওতাধীন সকল দপ্তর-সংস্থার কর্মকর্তা ও মাঠ কর্মীরা ভার্চুয়ালি এই সভায় অংশ নেন।

অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, “গণভোটের এই সুযোগ আগামী ৫ বছর বা ১০ বছরে আর আসবে না। ভবিষ্যতের বাংলাদেশ কীভাবে চলবে, তা ঠিক করে দেওয়ার এই সুযোগকে কাজে লাগাতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।”

তিনি আরো বলেন, “বাংলাদেশের যে কয়টি মন্ত্রণালয়ের উপজেলা-ইউনিয়ন ও গ্রাম পর্যায়ে জনবল আছে, তাদের মধ্যে কৃষি মন্ত্রণালয় অন্যতম। জনগণের সঙ্গে তাদের যোগাযোগের মধ্য দিয়ে গণভোট বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখার সুযোগ তৈরি হয়েছে।”

গণভোট-সংক্রান্ত জনসচেতনতামূলক প্রচার কার্যক্রমের মুখ্য সমন্বয়ক আলী রীয়াজ বলেন, “২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান ও বিগত ১৬ বছরের সংগ্রামে হাজারো মানুষ প্রাণ দিয়েছেন। আমরা যাতে আগের অবস্থায় ফিরে না যাই তারা সেই ব্যবস্থা করার দায়িত্ব দিয়ে গেছেন।”
কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে প্রধান উপদেষ্টার এই বিশেষ সহকারী বলেন, “গণভোটকে আপনারা মানুষের কাছে সহজ ভাষায় উপস্থাপন করুন। গণভোটকে হ্যাঁ-না ভোট হিসেবে উপস্থাপনের পরামশর্ও দেন তিনি। পাশাপাশি এর ফলে কী কী পরিবর্তন আসবে, তা সময় নিয়ে মানুষকে বুঝিয়ে বলার নির্দেশনা দেন।”

প্রধান উপদেষ্টার আরেক বিশেষ সহকারী মনির হায়দার বলেন, “ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুস্থ, সুন্দর ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ দেখতে চাই। গত ৫৪ বছরেও এই অতি সাধারণ আকাঙ্ক্ষা পূরণে খুব বেশি অগ্রগতি হয়নি বলেও উল্লেখ করেন।”
তিনি আরো বলেন, “জুলাই অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে সবাই উপলব্ধি করেছি যে শাসন ও সাংবিধানিক ব্যবস্থার একটি বড় ধরনের সংস্কার প্রয়োজন।”

আগামীতে ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থা যাতে ফিরে না আসে, তা নিশ্চিত করতে সবাইকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে গণভোটে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান মনির হায়দার।
এসময় তিনি গণভোট বিষয়ে জনমত সৃষ্টির জন্য প্রস্তুতকৃত লিফলেটের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলো কর্মকর্তাদের সামনে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব জানান, গণভোট বিষয়ে জনগণকে সচেতন করে তুলতে মন্ত্রণালয় ও দপ্তর-সংস্থাগুলো ড্রপ-ডাউন ব্যানার স্থাপন, নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় লিফলেট প্রস্তুত ও বিতরণ, কৃষি তথ্য সার্ভিসের মোবাইল ভ্যান ও আঞ্চলিক রেডিও সেন্টার থেকে প্রচার, প্রকল্প এলাকায় সচেতনতা সৃষ্টিতে সভা-সমাবেশ আয়োজন করা হয়েছে। পাশাপাশি কৃষি বিভাগের ২৪/৭ হটলাইন সার্ভিস গণভোট বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টিতে কাজ করবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থায় পুনরাবৃত্তি ঠেকাতেই এবারের গণভোট: আলী রীয়াজ

আপডেট সময় : ০৫:৫২:১১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারী ২০২৬

প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেছেন, বাংলাদেশ যাতে ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থায় আর কখনো ফিরে না যায়, সে জন্যই এবারের গণভোট।
গণভোট বিষয়ে দিক নির্দেশনা প্রদানের লক্ষ্যে বুধবার (৭ জানুয়ারি) কৃষি বিভাগের ১৭ হাজার কর্মকর্তা ও মাঠকর্মীর জন্য অনলাইন প্ল্যাটফর্ম জুমে আয়োজিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ এমদাদ উল্লাহ মিয়ানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা এবং আওতাধীন সকল দপ্তর-সংস্থার কর্মকর্তা ও মাঠ কর্মীরা ভার্চুয়ালি এই সভায় অংশ নেন।

অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, “গণভোটের এই সুযোগ আগামী ৫ বছর বা ১০ বছরে আর আসবে না। ভবিষ্যতের বাংলাদেশ কীভাবে চলবে, তা ঠিক করে দেওয়ার এই সুযোগকে কাজে লাগাতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।”

তিনি আরো বলেন, “বাংলাদেশের যে কয়টি মন্ত্রণালয়ের উপজেলা-ইউনিয়ন ও গ্রাম পর্যায়ে জনবল আছে, তাদের মধ্যে কৃষি মন্ত্রণালয় অন্যতম। জনগণের সঙ্গে তাদের যোগাযোগের মধ্য দিয়ে গণভোট বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখার সুযোগ তৈরি হয়েছে।”

গণভোট-সংক্রান্ত জনসচেতনতামূলক প্রচার কার্যক্রমের মুখ্য সমন্বয়ক আলী রীয়াজ বলেন, “২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান ও বিগত ১৬ বছরের সংগ্রামে হাজারো মানুষ প্রাণ দিয়েছেন। আমরা যাতে আগের অবস্থায় ফিরে না যাই তারা সেই ব্যবস্থা করার দায়িত্ব দিয়ে গেছেন।”
কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে প্রধান উপদেষ্টার এই বিশেষ সহকারী বলেন, “গণভোটকে আপনারা মানুষের কাছে সহজ ভাষায় উপস্থাপন করুন। গণভোটকে হ্যাঁ-না ভোট হিসেবে উপস্থাপনের পরামশর্ও দেন তিনি। পাশাপাশি এর ফলে কী কী পরিবর্তন আসবে, তা সময় নিয়ে মানুষকে বুঝিয়ে বলার নির্দেশনা দেন।”

প্রধান উপদেষ্টার আরেক বিশেষ সহকারী মনির হায়দার বলেন, “ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুস্থ, সুন্দর ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ দেখতে চাই। গত ৫৪ বছরেও এই অতি সাধারণ আকাঙ্ক্ষা পূরণে খুব বেশি অগ্রগতি হয়নি বলেও উল্লেখ করেন।”
তিনি আরো বলেন, “জুলাই অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে সবাই উপলব্ধি করেছি যে শাসন ও সাংবিধানিক ব্যবস্থার একটি বড় ধরনের সংস্কার প্রয়োজন।”

আগামীতে ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থা যাতে ফিরে না আসে, তা নিশ্চিত করতে সবাইকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে গণভোটে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান মনির হায়দার।
এসময় তিনি গণভোট বিষয়ে জনমত সৃষ্টির জন্য প্রস্তুতকৃত লিফলেটের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলো কর্মকর্তাদের সামনে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব জানান, গণভোট বিষয়ে জনগণকে সচেতন করে তুলতে মন্ত্রণালয় ও দপ্তর-সংস্থাগুলো ড্রপ-ডাউন ব্যানার স্থাপন, নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় লিফলেট প্রস্তুত ও বিতরণ, কৃষি তথ্য সার্ভিসের মোবাইল ভ্যান ও আঞ্চলিক রেডিও সেন্টার থেকে প্রচার, প্রকল্প এলাকায় সচেতনতা সৃষ্টিতে সভা-সমাবেশ আয়োজন করা হয়েছে। পাশাপাশি কৃষি বিভাগের ২৪/৭ হটলাইন সার্ভিস গণভোট বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টিতে কাজ করবে।