ঢাকা ০৭:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

বিপদ কেটে যাওয়ায় আমরা আবারও অহংকারী হয়ে গেছি : আসিফ

Live News Bangla71
  • আপডেট সময় : ১০:০১:৫৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ৭০ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সামাজিক নিরাপত্তাহীনতা ও শিল্পী জীবনের বাস্তবতা নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন বাংলা সংগীতের জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী আসিফ আকবর। শুক্রবার ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি করোনাকালের তিক্ত অভিজ্ঞতা এবং বর্তমান মিউজিক ইন্ডাস্ট্রির দুরবস্থা তুলে ধরেন।

আসিফ লিখেছেন, ‘পবিত্র রমজান মাস এলেই করোনাকালীন যন্ত্রনা তাড়িয়ে বেড়ায়। এমনিতেই বাংলাদেশের সমস্ত সমস‍্যা প্রতিফলিত হয় সংস্কৃতি অঙ্গনে, প্রথম চালানেই বন্ধ হয় সংগীতের কার্যক্রম।

এই দেশে শিল্পীদের রাষ্ট্রীয়ভাবে সামাজিক নিরাপত্তা প্রাপ্তির কোনো অপশন নেই। ব‍্যাংক লোন দেয় না। বাড়িওয়ালা দেয় না বাসা ভাড়া। তবু থেমে নেই চর্চা, চলছে পেশা নিয়ে টিকে থাকার যুদ্ধ।

করোনাকালের স্মৃতি শেয়ার করতে গিয়ে তিনি জানান, ‘সেই সময় আমরা মোবাইল ফোনে রেকর্ডিং করতাম। স্টুডিও বন্ধ, টেকনিশিয়ান নেই, সব কাজ বাসাতেই হতো। নিরাপত্তার কারণে অনেক মিউজিশিয়ান শহর ছেড়ে চলে যান, কেউ প্রবাসে, কেউ পেশা বদলেছেন। তবু ধ্রুব গুহ দাদার মতো দুই-একজন বোকা প্রডিউসার আমাদের পাশে ছিলেন।


বর্তমান মিউজিক ইন্ডাস্ট্রির অবস্থা নিয়েও তাঁর সমালোচনা, ‘এখন দেশে মিউজিক বা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি বলে কিছু নেই। আছে সেগুলোর কঙ্কালসার অবয়ব। এই অবয়ব দিয়ে ল‍্যাবেও (গবেষণা) কাজ হবে না।’

সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে একদল চাটুকার শ্রেণির ওঠা-নামাকে তিনি তুলনা করেছেন ‘টম অ্যান্ড জেরি’র সঙ্গে।

আসিফের কথায়, ‘যেভাবে সরকার যায় সরকার আসে, ঠিক সেভাবেই চাটুকারের দল যায়, চাটুকারের দল আসে।

একঘেয়ে গালভরা বুলি আর স্বপ্ন পোড়া ছাই। এই টম অ্যান্ড জেরির গল্প যেন শেষ হওয়ার নয়! করোনা শিক্ষা আর আতঙ্ক নিয়ে এসেছিল, চলেও গেছে। আমরা সব ভুলে যাই বরাবরের মতো, বিপদ কেটে যাওয়ায় আবারও অহংকারী হয়ে গেছি। সংস্কৃতিকর্মীদের নিজেদের স্বার্থপরতায় প্রতি পদে পদে নিহত হয় সম্ভাবনা। আর সাংস্কৃতিক বলয়ে ছড়ি ঘোরায় অভিশপ্ত পদাতিক।’

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

বিপদ কেটে যাওয়ায় আমরা আবারও অহংকারী হয়ে গেছি : আসিফ

আপডেট সময় : ১০:০১:৫৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

সামাজিক নিরাপত্তাহীনতা ও শিল্পী জীবনের বাস্তবতা নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন বাংলা সংগীতের জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী আসিফ আকবর। শুক্রবার ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি করোনাকালের তিক্ত অভিজ্ঞতা এবং বর্তমান মিউজিক ইন্ডাস্ট্রির দুরবস্থা তুলে ধরেন।

আসিফ লিখেছেন, ‘পবিত্র রমজান মাস এলেই করোনাকালীন যন্ত্রনা তাড়িয়ে বেড়ায়। এমনিতেই বাংলাদেশের সমস্ত সমস‍্যা প্রতিফলিত হয় সংস্কৃতি অঙ্গনে, প্রথম চালানেই বন্ধ হয় সংগীতের কার্যক্রম।

এই দেশে শিল্পীদের রাষ্ট্রীয়ভাবে সামাজিক নিরাপত্তা প্রাপ্তির কোনো অপশন নেই। ব‍্যাংক লোন দেয় না। বাড়িওয়ালা দেয় না বাসা ভাড়া। তবু থেমে নেই চর্চা, চলছে পেশা নিয়ে টিকে থাকার যুদ্ধ।

করোনাকালের স্মৃতি শেয়ার করতে গিয়ে তিনি জানান, ‘সেই সময় আমরা মোবাইল ফোনে রেকর্ডিং করতাম। স্টুডিও বন্ধ, টেকনিশিয়ান নেই, সব কাজ বাসাতেই হতো। নিরাপত্তার কারণে অনেক মিউজিশিয়ান শহর ছেড়ে চলে যান, কেউ প্রবাসে, কেউ পেশা বদলেছেন। তবু ধ্রুব গুহ দাদার মতো দুই-একজন বোকা প্রডিউসার আমাদের পাশে ছিলেন।


বর্তমান মিউজিক ইন্ডাস্ট্রির অবস্থা নিয়েও তাঁর সমালোচনা, ‘এখন দেশে মিউজিক বা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি বলে কিছু নেই। আছে সেগুলোর কঙ্কালসার অবয়ব। এই অবয়ব দিয়ে ল‍্যাবেও (গবেষণা) কাজ হবে না।’

সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে একদল চাটুকার শ্রেণির ওঠা-নামাকে তিনি তুলনা করেছেন ‘টম অ্যান্ড জেরি’র সঙ্গে।

আসিফের কথায়, ‘যেভাবে সরকার যায় সরকার আসে, ঠিক সেভাবেই চাটুকারের দল যায়, চাটুকারের দল আসে।

একঘেয়ে গালভরা বুলি আর স্বপ্ন পোড়া ছাই। এই টম অ্যান্ড জেরির গল্প যেন শেষ হওয়ার নয়! করোনা শিক্ষা আর আতঙ্ক নিয়ে এসেছিল, চলেও গেছে। আমরা সব ভুলে যাই বরাবরের মতো, বিপদ কেটে যাওয়ায় আবারও অহংকারী হয়ে গেছি। সংস্কৃতিকর্মীদের নিজেদের স্বার্থপরতায় প্রতি পদে পদে নিহত হয় সম্ভাবনা। আর সাংস্কৃতিক বলয়ে ছড়ি ঘোরায় অভিশপ্ত পদাতিক।’