ঢাকা ০৫:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

বেঞ্চে পা তুলে পরীক্ষা দিলো এসএসসি পরীক্ষার্থীরা

Live News Bangla71
  • আপডেট সময় : ০৪:৪৩:০৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬ ৩৭ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

টানা কয়েক ঘণ্টার ভারী বৃষ্টিতে জলাবদ্ধ হয়ে পড়েছে কুমিল্লা নগরীর বিস্তীর্ণ এলাকা। কোথাও হাঁটু ও কোথাও কোমর সমান পানিতে তলিয়ে গেছে সড়ক ও নিম্নাঞ্চল। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন বাইরে বের হওয়া মানুষরা।

মঙ্গলবার (২৭ এপ্রিল) সকাল থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত জেলায় ভারী বর্ষণের ফলে এমন ভোগান্তিতে পড়েন নগরবাসী।

টানা বৃষ্টিতে নগরীর আদালত সড়ক, লাকসাম সড়ক, সালাউদ্দিন মোড়, মনোহরপুর, রেইসকোর্স, ঈদগাহ সড়কসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়। অনেক স্থানে দোকানপাট ও বাসাবাড়িতেও পানি ঢুকে পড়ে। টানা বর্ষণে ফসলেরও ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করছে কৃষি বিভাগ।

সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েন এসএসসি পরীক্ষার্থী ও সঙ্গে থাকা অভিভাবকরা। পরীক্ষার কেন্দ্রে পানি থাকার কারণে বেঞ্চে পা তুলে বসে পরীক্ষা দিতে হয়েছে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের। হল পর্যবেক্ষকের দায়িত্বে থাকা শিক্ষকদের চেয়ারে পা তুলে বসতে হয়েছে। বৃষ্টি ও ঝড় শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বিভিন্ন কেন্দ্রে বিদ্যুৎ চলে যায়। কোনো কোনো কেন্দ্রে মোমবাতি ও চার্জলাইট জ্বালিয়ে পরীক্ষা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। আবার অনেক কেন্দ্রে পানি জমে যাওয়ায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকে পরীক্ষা দিতে হয়েছে তাদের। পরীক্ষা শেষে শিক্ষার্থীদের হাঁটু ও কোমর সমান পানি মাড়িয়ে কেন্দ্র থেকে বের যেতে দেখা যায়।

ঈশ্বরপাঠশালা স্কুল কেন্দ্রের এক অভিভাবক বলেন, ‘পরীক্ষা শুরু হওয়ার ২০ মিনিট পরেই বিদ্যুৎ চলে যায়। এরপর মোমবাতি ও চার্জার লাইট দিয়ে ভেতরে পরীক্ষা দেয়ার ব্যবস্থা করা হয়। কিন্তু অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে কিছুক্ষণের মধ্যেই কেন্দ্রে পানি প্রবেশ করে। স্কুলের পুরাতন ভবনে যে সকল শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা দিয়েছে তাদের অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে লিখতে হয়েছে।’

এদিকে জলাবদ্ধতায় ব্যবসায়ীরাও ক্ষতির মুখে পড়েছেন। মগবাড়ি এলাকার এক ব্যবসায়ী আবদুস সালাম বলেন, ‘বৃষ্টিতে দোকানে পানি ঢুকে সব ভিজে গেছে। সিটি কর্তৃপক্ষের উচিৎ দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা এবং ভবিষ্যতে যেন বৃষ্টির পানি জমে জনদুর্ভোগ তৈরি না হয় সে উদ্যোগ গ্রহণ করে তা বাস্তবায়ন করা।’

পরিস্থিতি মোকাবিলায় কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে পানি নিষ্কাশনের কাজ শুরু করা হয়েছে। প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপুর নির্দেশে কর্মীরা ড্রেন ও খালের মুখ পরিষ্কার করছেন। তবে বিকেল পর্যন্ত নিম্নাঞ্চলের অনেক জায়গায় পানি জমে থাকতে দেখা যায়।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সকাল থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত জেলায় ১০২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আবহাওয়ার এমন পরিস্থিতি আরও কয়েকদিন অব্যাহত থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু বিকেলে জানিয়েছেন, যেসব ড্রেনের মাধ্যমে নগরীর পানি বহির্গমন করে সেসব ড্রেন ও খাল তাৎক্ষণিক পরিষ্কার করে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এতে নগরীর জলাবদ্ধতা অনেকাংশেই কমে যাবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

বেঞ্চে পা তুলে পরীক্ষা দিলো এসএসসি পরীক্ষার্থীরা

আপডেট সময় : ০৪:৪৩:০৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬

টানা কয়েক ঘণ্টার ভারী বৃষ্টিতে জলাবদ্ধ হয়ে পড়েছে কুমিল্লা নগরীর বিস্তীর্ণ এলাকা। কোথাও হাঁটু ও কোথাও কোমর সমান পানিতে তলিয়ে গেছে সড়ক ও নিম্নাঞ্চল। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন বাইরে বের হওয়া মানুষরা।

মঙ্গলবার (২৭ এপ্রিল) সকাল থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত জেলায় ভারী বর্ষণের ফলে এমন ভোগান্তিতে পড়েন নগরবাসী।

টানা বৃষ্টিতে নগরীর আদালত সড়ক, লাকসাম সড়ক, সালাউদ্দিন মোড়, মনোহরপুর, রেইসকোর্স, ঈদগাহ সড়কসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়। অনেক স্থানে দোকানপাট ও বাসাবাড়িতেও পানি ঢুকে পড়ে। টানা বর্ষণে ফসলেরও ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করছে কৃষি বিভাগ।

সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েন এসএসসি পরীক্ষার্থী ও সঙ্গে থাকা অভিভাবকরা। পরীক্ষার কেন্দ্রে পানি থাকার কারণে বেঞ্চে পা তুলে বসে পরীক্ষা দিতে হয়েছে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের। হল পর্যবেক্ষকের দায়িত্বে থাকা শিক্ষকদের চেয়ারে পা তুলে বসতে হয়েছে। বৃষ্টি ও ঝড় শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বিভিন্ন কেন্দ্রে বিদ্যুৎ চলে যায়। কোনো কোনো কেন্দ্রে মোমবাতি ও চার্জলাইট জ্বালিয়ে পরীক্ষা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। আবার অনেক কেন্দ্রে পানি জমে যাওয়ায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকে পরীক্ষা দিতে হয়েছে তাদের। পরীক্ষা শেষে শিক্ষার্থীদের হাঁটু ও কোমর সমান পানি মাড়িয়ে কেন্দ্র থেকে বের যেতে দেখা যায়।

ঈশ্বরপাঠশালা স্কুল কেন্দ্রের এক অভিভাবক বলেন, ‘পরীক্ষা শুরু হওয়ার ২০ মিনিট পরেই বিদ্যুৎ চলে যায়। এরপর মোমবাতি ও চার্জার লাইট দিয়ে ভেতরে পরীক্ষা দেয়ার ব্যবস্থা করা হয়। কিন্তু অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে কিছুক্ষণের মধ্যেই কেন্দ্রে পানি প্রবেশ করে। স্কুলের পুরাতন ভবনে যে সকল শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা দিয়েছে তাদের অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে লিখতে হয়েছে।’

এদিকে জলাবদ্ধতায় ব্যবসায়ীরাও ক্ষতির মুখে পড়েছেন। মগবাড়ি এলাকার এক ব্যবসায়ী আবদুস সালাম বলেন, ‘বৃষ্টিতে দোকানে পানি ঢুকে সব ভিজে গেছে। সিটি কর্তৃপক্ষের উচিৎ দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা এবং ভবিষ্যতে যেন বৃষ্টির পানি জমে জনদুর্ভোগ তৈরি না হয় সে উদ্যোগ গ্রহণ করে তা বাস্তবায়ন করা।’

পরিস্থিতি মোকাবিলায় কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে পানি নিষ্কাশনের কাজ শুরু করা হয়েছে। প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপুর নির্দেশে কর্মীরা ড্রেন ও খালের মুখ পরিষ্কার করছেন। তবে বিকেল পর্যন্ত নিম্নাঞ্চলের অনেক জায়গায় পানি জমে থাকতে দেখা যায়।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সকাল থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত জেলায় ১০২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আবহাওয়ার এমন পরিস্থিতি আরও কয়েকদিন অব্যাহত থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু বিকেলে জানিয়েছেন, যেসব ড্রেনের মাধ্যমে নগরীর পানি বহির্গমন করে সেসব ড্রেন ও খাল তাৎক্ষণিক পরিষ্কার করে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এতে নগরীর জলাবদ্ধতা অনেকাংশেই কমে যাবে।