ঢাকা ০৭:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ধান তলিয়ে যেতে দেখে কৃষকের মৃত্যু

Live News Bangla71
  • আপডেট সময় : ০৩:৪৭:২৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ মে ২০২৬ ৩৪ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

৫০ হাজার টাকা ধার নিয়ে জমিতে ধান রোপণ করেছিলেন আহাদ মিয়া (৫৫)। কয়েক দিন পরই ধান ঘরে উঠানোর কথা। তবে অতিবৃষ্টির পানিতে ডুবে যায় সেই স্বপ্ন। জমি থেকে পানি সরছিল না তিন দিন ধরে।

আর এটা দেখেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন কৃষক আহাদ মিয়া।

শনিবার সকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার গোয়ালনগর ইউনিয়নের রামপুর গ্রামের হাওর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত আহাদ মিয়া গোয়ালনগর ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের রামপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যেতে পারেন বলে চিকিৎসকদের ধারণা।

জেলা ও উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, নাসিরনগর উপজেলার হাওর এলাকার অন্তত এক হাজার হেক্টর ধানি জমি পানিতে তলিয়ে আছে। পচে যাওয়ার ভয়ে গত দুই দিন ধরে কৃষকরা পানির নিচে থাকা অপরিপক্ব ধান কেটে নিয়ে আসছেন। ইতিমধ্যেই ক্ষতিগ্রস্ত দু’শ কৃষকের তালিকা করা হয়েছে, যাদেরকে সরকারি সহায়তার আওতায় নিয়ে আসা হবে।

শনিবার নাসিরনগর উপজেলার মেদির হাওর থেকে কৃষকরা ধান কাটেন।

দৈনিক ১২ শ থেকে ১৫ শ টাকা মজুরি দিয়ে ধান কাটানো হচ্ছে। তবে কয়েকদিন ধরে পানির নিচে থাকায় ইতিমধ্যেই কিছু ধানে পচন ধরেছে। এ ছাড়া কিছু ধান এখনো পুরোপুরি পাকেনি। এ অবস্থায় কৃষকরা পুরোপুরি লোকসানের আশঙ্কা করছেন।
নাসিরনগরের মহাকাল পাড়ার কৃষক আবু লাল মিয়া জানান, তিনি ২০ কানি জমিতে ধান রোপণ করেছিলেন।

মাত্র পাঁচ কানি জমির ধান পানির নিচ থেকে কেটে আনতে পেরেছেন। এখনো ১৫ কানি জমির ধান পানির নিচে তলিয়ে আছে। কি করবেন বুঝতে পারছেন না।
আবু লাল নামে এক কৃষক বলেন, ‘দাদন ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে উচ্চ মূল্যে সুদের কথা বলে টাকা এনে জমিতে ধান রোপণ করেছি। আশা ছিল ধান বিক্রি করে ওই দেনা পরিশোধ করব। কিন্তু পানিতে ধান তলিয়ে যাওয়ায় কিভাবে কি করব বুঝে উঠতে পারছি না।’

এদিকে পানিতে জমি তলিয়ে যাওয়া দেখে মারা যাওয়া কৃষক আহাদ মিয়ার বড় ভাই স্থানীয় ইউপি সদস্য আহম্মদ হোসেন বলেন, ‘সকালে কয়েকজন শ্রমিক নিয়ে ধান কাটতে গিয়েছিল আমার ভাই। সব ধান তলিয়ে গেছে দেখে অসুস্থ হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যায়।’

আহাদ মিয়ার ভাতিজা ফারুক মিয়া জানান, ৫০ হাজার টাকা ঋণ করে তার চাচা ছয় বিঘা জমিতে ধান আবাদ করেছিলেন। সব জমির ধান পানিতে চলে যাওয়ার বিষয়টি তিনি সহ্য করতে পারেননি। এমন দৃশ্য দেখে তিনি ঘটনাস্থলেই অসুস্থ হয়ে মারা যান।

নাসিরনগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. ইমরান হোসেন শনিবার সন্ধ্যায় জানান, আহাদ মিয়া নামে এক কৃষক জমিতে ধান কাটতে গিয়ে ঘটনাস্থলেই মারা গেছেন। পরিবারের সদস্যরা তার লাশ নিয়ে গেছেন।

তিনি আরো জানান, নাসিরনগরের হাওরে প্রায় এক হাজার বিঘা জমি পানিতে তলিয়ে আছে। কিছু কৃষক ধান কাটতে শুরু করেছেন। ক্ষতিগ্রস্ত দু’শ কৃষকের তালিকা করে পাঠানো হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ধান তলিয়ে যেতে দেখে কৃষকের মৃত্যু

আপডেট সময় : ০৩:৪৭:২৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ মে ২০২৬

৫০ হাজার টাকা ধার নিয়ে জমিতে ধান রোপণ করেছিলেন আহাদ মিয়া (৫৫)। কয়েক দিন পরই ধান ঘরে উঠানোর কথা। তবে অতিবৃষ্টির পানিতে ডুবে যায় সেই স্বপ্ন। জমি থেকে পানি সরছিল না তিন দিন ধরে।

আর এটা দেখেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন কৃষক আহাদ মিয়া।

শনিবার সকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার গোয়ালনগর ইউনিয়নের রামপুর গ্রামের হাওর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত আহাদ মিয়া গোয়ালনগর ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের রামপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যেতে পারেন বলে চিকিৎসকদের ধারণা।

জেলা ও উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, নাসিরনগর উপজেলার হাওর এলাকার অন্তত এক হাজার হেক্টর ধানি জমি পানিতে তলিয়ে আছে। পচে যাওয়ার ভয়ে গত দুই দিন ধরে কৃষকরা পানির নিচে থাকা অপরিপক্ব ধান কেটে নিয়ে আসছেন। ইতিমধ্যেই ক্ষতিগ্রস্ত দু’শ কৃষকের তালিকা করা হয়েছে, যাদেরকে সরকারি সহায়তার আওতায় নিয়ে আসা হবে।

শনিবার নাসিরনগর উপজেলার মেদির হাওর থেকে কৃষকরা ধান কাটেন।

দৈনিক ১২ শ থেকে ১৫ শ টাকা মজুরি দিয়ে ধান কাটানো হচ্ছে। তবে কয়েকদিন ধরে পানির নিচে থাকায় ইতিমধ্যেই কিছু ধানে পচন ধরেছে। এ ছাড়া কিছু ধান এখনো পুরোপুরি পাকেনি। এ অবস্থায় কৃষকরা পুরোপুরি লোকসানের আশঙ্কা করছেন।
নাসিরনগরের মহাকাল পাড়ার কৃষক আবু লাল মিয়া জানান, তিনি ২০ কানি জমিতে ধান রোপণ করেছিলেন।

মাত্র পাঁচ কানি জমির ধান পানির নিচ থেকে কেটে আনতে পেরেছেন। এখনো ১৫ কানি জমির ধান পানির নিচে তলিয়ে আছে। কি করবেন বুঝতে পারছেন না।
আবু লাল নামে এক কৃষক বলেন, ‘দাদন ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে উচ্চ মূল্যে সুদের কথা বলে টাকা এনে জমিতে ধান রোপণ করেছি। আশা ছিল ধান বিক্রি করে ওই দেনা পরিশোধ করব। কিন্তু পানিতে ধান তলিয়ে যাওয়ায় কিভাবে কি করব বুঝে উঠতে পারছি না।’

এদিকে পানিতে জমি তলিয়ে যাওয়া দেখে মারা যাওয়া কৃষক আহাদ মিয়ার বড় ভাই স্থানীয় ইউপি সদস্য আহম্মদ হোসেন বলেন, ‘সকালে কয়েকজন শ্রমিক নিয়ে ধান কাটতে গিয়েছিল আমার ভাই। সব ধান তলিয়ে গেছে দেখে অসুস্থ হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যায়।’

আহাদ মিয়ার ভাতিজা ফারুক মিয়া জানান, ৫০ হাজার টাকা ঋণ করে তার চাচা ছয় বিঘা জমিতে ধান আবাদ করেছিলেন। সব জমির ধান পানিতে চলে যাওয়ার বিষয়টি তিনি সহ্য করতে পারেননি। এমন দৃশ্য দেখে তিনি ঘটনাস্থলেই অসুস্থ হয়ে মারা যান।

নাসিরনগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. ইমরান হোসেন শনিবার সন্ধ্যায় জানান, আহাদ মিয়া নামে এক কৃষক জমিতে ধান কাটতে গিয়ে ঘটনাস্থলেই মারা গেছেন। পরিবারের সদস্যরা তার লাশ নিয়ে গেছেন।

তিনি আরো জানান, নাসিরনগরের হাওরে প্রায় এক হাজার বিঘা জমি পানিতে তলিয়ে আছে। কিছু কৃষক ধান কাটতে শুরু করেছেন। ক্ষতিগ্রস্ত দু’শ কৃষকের তালিকা করে পাঠানো হয়েছে।