ঢাকা ০৯:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

ভবঘুরের বেশে’ ছয়জনকে খুন, পুড়িয়ে ফেলতেন মরদেহ

Live News Bangla71
  • আপডেট সময় : ০২:১৫:৩৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬ ৭৬ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ঢাকার সাভারের পরিত্যক্ত পৌরসভা কমিউনিটি সেন্টার ও আশপাশের এলাকায় গত ছয় মাসে সংঘটিত ছয়টি হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন করেছে পুলিশ। এসব হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে মশিউর রহমান খান সম্রাট (৪০), যিনি ‘সাইকো সম্রাট’ নামে পরিচিত। ভবঘুরের ছদ্মবেশে চলাফেরা করে তিনি একের পর এক খুন করেছেন বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে।

রোববার (১৮ জানুয়ারি) সাভার পৌর কমিউনিটি সেন্টারের পরিত্যক্ত ভবনের ভেতর থেকে এক কিশোরীসহ দুজনের পোড়া মরদেহ উদ্ধারের পর সেখানে স্থাপিত সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে সন্দেহভাজন হিসেবে সম্রাটকে শনাক্ত করে পুলিশ। পরে সাভার মডেল থানার সামনে থেকে তাকে আটক করা হয়।

সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সকালে তাকে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি রেকর্ডের জন্য বিচারকের খাস কামরায় নেওয়া হয়।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সম্রাট ছয়টি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। এ ঘটনায় তাকে ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

ঢাকা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম, অপস ও ট্রাফিক উত্তর) আরাফাতুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, আসামি নিজেকে সাভার পৌর এলাকার ব্যাংক কলোনির বাসিন্দা দাবি করলেও সেখানে তার কোনো স্থায়ী ঠিকানা পাওয়া যায়নি। তিনি মূলত ভবঘুরের মতো জীবনযাপন করতেন। জিজ্ঞাসাবাদে তার মধ্যে মানসিক ভারসাম্যহীনতার কোনো লক্ষণ পাওয়া যায়নি বলেও জানান তিনি।

পুলিশ জানায়, গত পাঁচ মাসে পরিত্যক্ত কমিউনিটি সেন্টার থেকে পাঁচটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া সাভার মডেল মসজিদের পাশের একটি চায়ের দোকানের পেছন থেকে আসমা বেগম (৭৫) নামের এক বৃদ্ধার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ছয়জন ভুক্তভোগীর মধ্যে পাঁচজনের পরিচয় এখনো নিশ্চিত করা যায়নি।

প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, সম্রাট প্রথম হত্যাকাণ্ডটি করেন ২০২৫ সালের ৪ জুলাই। ওই রাতে তিনি সাভার মডেল মসজিদের সামনে আসমা বেগমকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। এরপর ২৯ আগস্ট কমিউনিটি সেন্টারের ভেতরে এক যুবককে হত্যার পর মরদেহ পুড়িয়ে দেন। একই স্থানে ১১ অক্টোবর এক নারীকে, ১৯ ডিসেম্বর আরেক যুবককে হত্যা করেন তিনি। সর্বশেষ শনিবার রাতে এক কিশোরীসহ দুজনকে হত্যার পর মরদেহ পুড়িয়ে ফেলার কথা স্বীকার করেছেন সম্রাট।

পুলিশ জানিয়েছে, প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আইন অনুযায়ী পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে। রিমান্ডে নেওয়ার পর জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার উদ্দেশ্য ও অন্যান্য সহযোগীদের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে বলে আশা করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

ভবঘুরের বেশে’ ছয়জনকে খুন, পুড়িয়ে ফেলতেন মরদেহ

আপডেট সময় : ০২:১৫:৩৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬

ঢাকার সাভারের পরিত্যক্ত পৌরসভা কমিউনিটি সেন্টার ও আশপাশের এলাকায় গত ছয় মাসে সংঘটিত ছয়টি হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন করেছে পুলিশ। এসব হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে মশিউর রহমান খান সম্রাট (৪০), যিনি ‘সাইকো সম্রাট’ নামে পরিচিত। ভবঘুরের ছদ্মবেশে চলাফেরা করে তিনি একের পর এক খুন করেছেন বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে।

রোববার (১৮ জানুয়ারি) সাভার পৌর কমিউনিটি সেন্টারের পরিত্যক্ত ভবনের ভেতর থেকে এক কিশোরীসহ দুজনের পোড়া মরদেহ উদ্ধারের পর সেখানে স্থাপিত সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে সন্দেহভাজন হিসেবে সম্রাটকে শনাক্ত করে পুলিশ। পরে সাভার মডেল থানার সামনে থেকে তাকে আটক করা হয়।

সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সকালে তাকে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি রেকর্ডের জন্য বিচারকের খাস কামরায় নেওয়া হয়।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সম্রাট ছয়টি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। এ ঘটনায় তাকে ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

ঢাকা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম, অপস ও ট্রাফিক উত্তর) আরাফাতুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, আসামি নিজেকে সাভার পৌর এলাকার ব্যাংক কলোনির বাসিন্দা দাবি করলেও সেখানে তার কোনো স্থায়ী ঠিকানা পাওয়া যায়নি। তিনি মূলত ভবঘুরের মতো জীবনযাপন করতেন। জিজ্ঞাসাবাদে তার মধ্যে মানসিক ভারসাম্যহীনতার কোনো লক্ষণ পাওয়া যায়নি বলেও জানান তিনি।

পুলিশ জানায়, গত পাঁচ মাসে পরিত্যক্ত কমিউনিটি সেন্টার থেকে পাঁচটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া সাভার মডেল মসজিদের পাশের একটি চায়ের দোকানের পেছন থেকে আসমা বেগম (৭৫) নামের এক বৃদ্ধার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ছয়জন ভুক্তভোগীর মধ্যে পাঁচজনের পরিচয় এখনো নিশ্চিত করা যায়নি।

প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, সম্রাট প্রথম হত্যাকাণ্ডটি করেন ২০২৫ সালের ৪ জুলাই। ওই রাতে তিনি সাভার মডেল মসজিদের সামনে আসমা বেগমকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। এরপর ২৯ আগস্ট কমিউনিটি সেন্টারের ভেতরে এক যুবককে হত্যার পর মরদেহ পুড়িয়ে দেন। একই স্থানে ১১ অক্টোবর এক নারীকে, ১৯ ডিসেম্বর আরেক যুবককে হত্যা করেন তিনি। সর্বশেষ শনিবার রাতে এক কিশোরীসহ দুজনকে হত্যার পর মরদেহ পুড়িয়ে ফেলার কথা স্বীকার করেছেন সম্রাট।

পুলিশ জানিয়েছে, প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আইন অনুযায়ী পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে। রিমান্ডে নেওয়ার পর জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার উদ্দেশ্য ও অন্যান্য সহযোগীদের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে বলে আশা করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।