ঢাকা ১২:৩০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

মাকে হত্যা করে হাসপাতালে নিতে অটোরিকশা ডাকতে গিয়ে ধরা ছেলে

Live News Bangla71
  • আপডেট সময় : ০৫:৪৯:১৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ৬৯ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

অভিযোগে সুমন (৪২) নামের এক ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশে দিয়েছে স্থানীয়রা। শনিবার (৩১ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ৯টার দিকে নগরীর খড়খড়ি কৃষি ব্যাংক মোড় এলাকায় এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

নিহত নারীর নাম সোহাগী বেগম (৫৫)। তিনি মৃত আজিজুল ইসলামের স্ত্রী। সোহাগীর দুই ছেলে ও এক মেয়ের মধ্যে অভিযুক্ত সুমন সবার বড়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সুমন মাদকাসক্ত ছিলেন। ধারণা করা হচ্ছে, মায়ের কাছে নেশার টাকা চাওয়া নিয়ে বিরোধের জেরে তিনি সোহাগী বেগমের পেট ও বুকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করেন। এতে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। হত্যার পর সুমন তার মায়ের মরদেহ বাড়ি থেকে প্রায় ১০০ মিটার দূরে সড়কে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে আসেন। এরপর মরদেহটি রাস্তার ওপর শুইয়ে রেখে হাসপাতালে নেওয়ার কথা বলে অটোরিকশা খুঁজতে যান।

রাস্তায় এক নারীর নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়দের মধ্যে হইচই পড়ে যায়। এ সময় লোকজন সুমনকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করলে এবং পুলিশ আসার খবর শুনে তিনি দৌঁড়ে নিজ বাড়িতে গিয়ে ঘরের দরজা বন্ধ করে দেন। পরে পুলিশ গিয়ে ঘেরাও করে সুমনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। পুলিশ মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে পাঠিয়েছে।

প্রতিবেশীরা জানান, ঘটনার সময় সুমনের বাড়িতে উচ্চশব্দে গান বাজছিল। তাদের ধারণা, গানের শব্দের আড়ালে নেশার টাকার জন্য মাকে কুপিয়ে হত্যা করেছেন তিনি।

চন্দ্রিমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম জানান, অভিযুক্ত যুবককে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে তিনি মাদকাসক্ত। এই হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) উপ-পুলিশ কমিশনার ও মুখপাত্র গাজিউর রহমান বলেন, ছেলেটি তার মাকে কুপিয়ে হত্যার পর স্থানীয়দের হাতে ধরা পড়ে। পুলিশ তাকে হেফাজতে নিয়েছে এবং এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

মাকে হত্যা করে হাসপাতালে নিতে অটোরিকশা ডাকতে গিয়ে ধরা ছেলে

আপডেট সময় : ০৫:৪৯:১৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

অভিযোগে সুমন (৪২) নামের এক ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশে দিয়েছে স্থানীয়রা। শনিবার (৩১ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ৯টার দিকে নগরীর খড়খড়ি কৃষি ব্যাংক মোড় এলাকায় এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

নিহত নারীর নাম সোহাগী বেগম (৫৫)। তিনি মৃত আজিজুল ইসলামের স্ত্রী। সোহাগীর দুই ছেলে ও এক মেয়ের মধ্যে অভিযুক্ত সুমন সবার বড়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সুমন মাদকাসক্ত ছিলেন। ধারণা করা হচ্ছে, মায়ের কাছে নেশার টাকা চাওয়া নিয়ে বিরোধের জেরে তিনি সোহাগী বেগমের পেট ও বুকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করেন। এতে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। হত্যার পর সুমন তার মায়ের মরদেহ বাড়ি থেকে প্রায় ১০০ মিটার দূরে সড়কে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে আসেন। এরপর মরদেহটি রাস্তার ওপর শুইয়ে রেখে হাসপাতালে নেওয়ার কথা বলে অটোরিকশা খুঁজতে যান।

রাস্তায় এক নারীর নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়দের মধ্যে হইচই পড়ে যায়। এ সময় লোকজন সুমনকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করলে এবং পুলিশ আসার খবর শুনে তিনি দৌঁড়ে নিজ বাড়িতে গিয়ে ঘরের দরজা বন্ধ করে দেন। পরে পুলিশ গিয়ে ঘেরাও করে সুমনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। পুলিশ মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে পাঠিয়েছে।

প্রতিবেশীরা জানান, ঘটনার সময় সুমনের বাড়িতে উচ্চশব্দে গান বাজছিল। তাদের ধারণা, গানের শব্দের আড়ালে নেশার টাকার জন্য মাকে কুপিয়ে হত্যা করেছেন তিনি।

চন্দ্রিমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম জানান, অভিযুক্ত যুবককে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে তিনি মাদকাসক্ত। এই হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) উপ-পুলিশ কমিশনার ও মুখপাত্র গাজিউর রহমান বলেন, ছেলেটি তার মাকে কুপিয়ে হত্যার পর স্থানীয়দের হাতে ধরা পড়ে। পুলিশ তাকে হেফাজতে নিয়েছে এবং এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হবে।