ঢাকা ০৮:২৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

শহীদ ওসমান হাদি হত্যার বিচার চেয়ে স্ত্রীর ফেসবুকে পোস্ট

Live News Bangla71
  • আপডেট সময় : ০৭:৪১:২৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬ ৭৮ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

শহীদ শরিফ ওসমান হাদির হত্যার বিচার চেয়ে ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন তার স্ত্রী রাবেয়া ইসলাম সম্পা।

গতকাল বুধবার (১৪ জানুয়ারি) দুপুর ২টা ৪০ মিনিটে এক স্ট্যাটাসে সম্পা প্রশ্ন করেন, ‘ওসমান হাদির হত্যার বিচার কি আদৌ হবে?’

ফেসুবক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘ওসমান হাদির হত্যার বিচার কি আদৌ হবে! ইনকিলাব মঞ্চ কোনো প্রোগ্রামের ডাক কেন দিচ্ছে না!’

তিনি লেখেন, ‘প্রথমত, বিচার হবে না এই শব্দটাকেই মাথায় আনা যাবে না। বিচার হতেই হবে সেটা যেকোনো মূল্যে। বিচার আদায় না হলে ওসমান হাদিরা, বিপ্লবী বীরেরা এদেশে আর জন্মাবে না।

তবে এত দেরি বা সময় কেন লাগছে? ওসমান হাদি একটা অনুষ্ঠানে তার বক্তব্যে রবীন্দ্রনাথ এর দুটো লাইন বলেছিলেন,‘সহজ করে বলতে আমায় কহ যে, সহজ কথা যায় না বলা সহজে। তাই যুক্তি, তর্ক, ব্যাখ্যা কিছুই টানছি না, শুধু এতটুকুই বলা আপনি বা আপনারাও জানেন কেন সব সহজে হচ্ছে না! জাস্ট মনে রাখবেন ওসমান হাদি বলে গিয়েছেন- আমাদের লড়াই অনেক দীর্ঘ। মুমিনের জীবন মানেই লড়াই সংগ্রাম। তাই সংগ্রাম চালিয়ে যেতে হবে।’

সম্পা লেখেন, ‘ইনকিলাব মঞ্চ নিয়ে শহিদ ওসমান হাদির নিজের বলা কয়েকটা কথা আপনাদের জানাতে ইচ্ছে হলো- ‘আমার প্রথম সন্তান ইনকিলাব মঞ্চ, দ্বিতীয় সন্তান ফিরনাস। পোলাপানগুলারে বেতন দেই না, ঠিকভাবে খাবারও খেতে পারে না কাজের জন্য। নিঃস্বার্থভাবে আমার সাথে লেগে থাকে। ওদের ভবিষ্যতের চিন্তাও ওদের নাই। আমার তো ওদের ভবিষ্যৎ গড়ে দিতে হবে ডিয়ার।’

তিনি লেখেন, ‘আপনারা যারা ওসমান হাদিরে শুধু তার কথা শুনে, ভিডিও দেখে তাকে এত ভালোবাসেন, দোয়া করেন, কান্না করেন। তাহলে ভাবেন, ওসমান হাদির এই ভাই-বোনগুলোর মনের অবস্থা কি এখন! যাদের কাছে ভাই ছিল ২৪ ঘণ্টা ছায়ার মতো, তারা কোন অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে! ওসমান হাদি এখন বেঁচে থাকলে হয়তো বলতো, আমারে বলেন ঠিক আছে, কিন্তু আমার ইনকিলাব মঞ্চের ভাই-বোনগুলোরে নিয়ে কথা বলবেন না। তাহলে আমি সহ্য করবো না।’

সবশেষে পোস্টে তিনি ওসমান হাদি একটি কথা উল্লেখ করে লেখেন, ‘দাসত্বই যে জমিনের নিশ্চল নিয়তি, লড়াই-ই সেখানে সর্বোত্তম ইবাদত।’

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

শহীদ ওসমান হাদি হত্যার বিচার চেয়ে স্ত্রীর ফেসবুকে পোস্ট

আপডেট সময় : ০৭:৪১:২৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬

শহীদ শরিফ ওসমান হাদির হত্যার বিচার চেয়ে ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন তার স্ত্রী রাবেয়া ইসলাম সম্পা।

গতকাল বুধবার (১৪ জানুয়ারি) দুপুর ২টা ৪০ মিনিটে এক স্ট্যাটাসে সম্পা প্রশ্ন করেন, ‘ওসমান হাদির হত্যার বিচার কি আদৌ হবে?’

ফেসুবক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘ওসমান হাদির হত্যার বিচার কি আদৌ হবে! ইনকিলাব মঞ্চ কোনো প্রোগ্রামের ডাক কেন দিচ্ছে না!’

তিনি লেখেন, ‘প্রথমত, বিচার হবে না এই শব্দটাকেই মাথায় আনা যাবে না। বিচার হতেই হবে সেটা যেকোনো মূল্যে। বিচার আদায় না হলে ওসমান হাদিরা, বিপ্লবী বীরেরা এদেশে আর জন্মাবে না।

তবে এত দেরি বা সময় কেন লাগছে? ওসমান হাদি একটা অনুষ্ঠানে তার বক্তব্যে রবীন্দ্রনাথ এর দুটো লাইন বলেছিলেন,‘সহজ করে বলতে আমায় কহ যে, সহজ কথা যায় না বলা সহজে। তাই যুক্তি, তর্ক, ব্যাখ্যা কিছুই টানছি না, শুধু এতটুকুই বলা আপনি বা আপনারাও জানেন কেন সব সহজে হচ্ছে না! জাস্ট মনে রাখবেন ওসমান হাদি বলে গিয়েছেন- আমাদের লড়াই অনেক দীর্ঘ। মুমিনের জীবন মানেই লড়াই সংগ্রাম। তাই সংগ্রাম চালিয়ে যেতে হবে।’

সম্পা লেখেন, ‘ইনকিলাব মঞ্চ নিয়ে শহিদ ওসমান হাদির নিজের বলা কয়েকটা কথা আপনাদের জানাতে ইচ্ছে হলো- ‘আমার প্রথম সন্তান ইনকিলাব মঞ্চ, দ্বিতীয় সন্তান ফিরনাস। পোলাপানগুলারে বেতন দেই না, ঠিকভাবে খাবারও খেতে পারে না কাজের জন্য। নিঃস্বার্থভাবে আমার সাথে লেগে থাকে। ওদের ভবিষ্যতের চিন্তাও ওদের নাই। আমার তো ওদের ভবিষ্যৎ গড়ে দিতে হবে ডিয়ার।’

তিনি লেখেন, ‘আপনারা যারা ওসমান হাদিরে শুধু তার কথা শুনে, ভিডিও দেখে তাকে এত ভালোবাসেন, দোয়া করেন, কান্না করেন। তাহলে ভাবেন, ওসমান হাদির এই ভাই-বোনগুলোর মনের অবস্থা কি এখন! যাদের কাছে ভাই ছিল ২৪ ঘণ্টা ছায়ার মতো, তারা কোন অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে! ওসমান হাদি এখন বেঁচে থাকলে হয়তো বলতো, আমারে বলেন ঠিক আছে, কিন্তু আমার ইনকিলাব মঞ্চের ভাই-বোনগুলোরে নিয়ে কথা বলবেন না। তাহলে আমি সহ্য করবো না।’

সবশেষে পোস্টে তিনি ওসমান হাদি একটি কথা উল্লেখ করে লেখেন, ‘দাসত্বই যে জমিনের নিশ্চল নিয়তি, লড়াই-ই সেখানে সর্বোত্তম ইবাদত।’