ঢাকা ১১:০৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

ইরান-খামেনির প্রতি ১০০-এর বেশি মুসলিম আলেমের অটল সমর্থন

Live News Bangla71
  • আপডেট সময় : ০৩:৫০:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬ ৮৫ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের ১০০ জনেরও বেশি প্রখ্যাত মুসলিম আলেম, ফকিহ ও বুদ্ধিজীবী ইরান এবং ইসলামী বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনির প্রতি তাদের অটল সমর্থন ঘোষণা করেছেন। তারা দেশটিতে চলমান বিদেশি মদদপুষ্ট অস্থিরতার তীব্র নিন্দা জানান।

এক যৌথ বিবৃতিতে তারা আয়াতুল্লাহ খামেনির প্রজ্ঞাবান ও দৃঢ় নেতৃত্বের প্রশংসা করেন এবং তার বিরুদ্ধে যে কোনো জঘন্য হত্যার হুমকিকে পুরো মুসলিম উম্মাহর বিরুদ্ধে শত্রুতার ঘোষণা হিসেবে আখ্যা দেন।আলেমরা পবিত্র কুরআনের আয়াতের প্রতি ইঙ্গিত করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে পৃথিবীতে ফিতনা সৃষ্টিকারী হিসেবে অভিহিত করেন। তাদের অভিযোগ, প্রকাশ্য হুমকি, বিভিন্ন দেশের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করা এবং বেসামরিক জনগণের হত্যাকাণ্ডের জন্য তারা দায়ী।

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘যারা হুমকি ও ভীতি প্রদর্শন করে, তারা সরাসরি অনিরাপত্তা, উত্তেজনা এবং সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতির জন্য দায়ী। আমরা সতর্ক করছি, এ ধরনের আচরণে অটল থাকলে এর পরিণতি দৃশ্যমান হিসাবের বাইরেও যেতে পারে এবং এর দায়ভার হুমকিদাতাদের ওপরেই পড়বে।’

সাম্প্রতিক অস্থিরতা শুরু হয় তেহরানের গ্র্যান্ড বাজারে কিছু ব্যবসায়ীর শান্তিপূর্ণ ও বিচ্ছিন্ন প্রতিবাদ থেকে। জাতীয় মুদ্রার ওঠানামা ও উচ্চ মূল্যস্ফীতির প্রতিবাদে এই আন্দোলন গড়ে ওঠে, যা মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেনসহ কয়েকটি ইউরোপীয় দেশের আরোপিত অবৈধ নিষেধাজ্ঞার ফল বলে উল্লেখ করা হয়।

এক সপ্তাহ ধরে এসব প্রতিবাদ শান্তিপূর্ণ ছিল। এ সময় ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান ও তার প্রশাসন প্রতিবাদকারীদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনায় বসে তাদের দাবি শোনেন।

তবে ৮ জানুয়ারি থেকে পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটে। অর্থনৈতিক দাবিকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া শান্তিপূর্ণ আন্দোলন বিদেশি মদদপুষ্ট দাঙ্গাবাজ ও নাশকতাকারীদের দ্বারা সহিংসতায় রূপ নেয়।

সশস্ত্র দাঙ্গাবাজরা দোকানপাট, ব্যাংক, বাসস্টেশন ও মসজিদসহ বিভিন্ন সরকারি ও জনসাধারণের স্থাপনায় হামলা চালায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে তারা বেশ কয়েকজন নিরাপত্তা সদস্যকে হত্যা করে।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিদেশি মদদপুষ্ট সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো অস্ত্র ব্যবহার ও বিতরণ করেছে এবং ইচ্ছাকৃতভাবে বেসামরিক মানুষ ও নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্যবস্তু করেছে—এমন প্রমাণ তারা সংগ্রহ করেছে।

ইরানি কর্তৃপক্ষ এই সন্ত্রাসী ও ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডের জন্য সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দায়ী করছে। এসব ঘটনায় বহু নিরাপত্তা সদস্যের পাশাপাশি সাধারণ নাগরিকও নিহত হয়েছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

ইরান-খামেনির প্রতি ১০০-এর বেশি মুসলিম আলেমের অটল সমর্থন

আপডেট সময় : ০৩:৫০:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬

বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের ১০০ জনেরও বেশি প্রখ্যাত মুসলিম আলেম, ফকিহ ও বুদ্ধিজীবী ইরান এবং ইসলামী বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনির প্রতি তাদের অটল সমর্থন ঘোষণা করেছেন। তারা দেশটিতে চলমান বিদেশি মদদপুষ্ট অস্থিরতার তীব্র নিন্দা জানান।

এক যৌথ বিবৃতিতে তারা আয়াতুল্লাহ খামেনির প্রজ্ঞাবান ও দৃঢ় নেতৃত্বের প্রশংসা করেন এবং তার বিরুদ্ধে যে কোনো জঘন্য হত্যার হুমকিকে পুরো মুসলিম উম্মাহর বিরুদ্ধে শত্রুতার ঘোষণা হিসেবে আখ্যা দেন।আলেমরা পবিত্র কুরআনের আয়াতের প্রতি ইঙ্গিত করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে পৃথিবীতে ফিতনা সৃষ্টিকারী হিসেবে অভিহিত করেন। তাদের অভিযোগ, প্রকাশ্য হুমকি, বিভিন্ন দেশের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করা এবং বেসামরিক জনগণের হত্যাকাণ্ডের জন্য তারা দায়ী।

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘যারা হুমকি ও ভীতি প্রদর্শন করে, তারা সরাসরি অনিরাপত্তা, উত্তেজনা এবং সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতির জন্য দায়ী। আমরা সতর্ক করছি, এ ধরনের আচরণে অটল থাকলে এর পরিণতি দৃশ্যমান হিসাবের বাইরেও যেতে পারে এবং এর দায়ভার হুমকিদাতাদের ওপরেই পড়বে।’

সাম্প্রতিক অস্থিরতা শুরু হয় তেহরানের গ্র্যান্ড বাজারে কিছু ব্যবসায়ীর শান্তিপূর্ণ ও বিচ্ছিন্ন প্রতিবাদ থেকে। জাতীয় মুদ্রার ওঠানামা ও উচ্চ মূল্যস্ফীতির প্রতিবাদে এই আন্দোলন গড়ে ওঠে, যা মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেনসহ কয়েকটি ইউরোপীয় দেশের আরোপিত অবৈধ নিষেধাজ্ঞার ফল বলে উল্লেখ করা হয়।

এক সপ্তাহ ধরে এসব প্রতিবাদ শান্তিপূর্ণ ছিল। এ সময় ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান ও তার প্রশাসন প্রতিবাদকারীদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনায় বসে তাদের দাবি শোনেন।

তবে ৮ জানুয়ারি থেকে পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটে। অর্থনৈতিক দাবিকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া শান্তিপূর্ণ আন্দোলন বিদেশি মদদপুষ্ট দাঙ্গাবাজ ও নাশকতাকারীদের দ্বারা সহিংসতায় রূপ নেয়।

সশস্ত্র দাঙ্গাবাজরা দোকানপাট, ব্যাংক, বাসস্টেশন ও মসজিদসহ বিভিন্ন সরকারি ও জনসাধারণের স্থাপনায় হামলা চালায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে তারা বেশ কয়েকজন নিরাপত্তা সদস্যকে হত্যা করে।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিদেশি মদদপুষ্ট সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো অস্ত্র ব্যবহার ও বিতরণ করেছে এবং ইচ্ছাকৃতভাবে বেসামরিক মানুষ ও নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্যবস্তু করেছে—এমন প্রমাণ তারা সংগ্রহ করেছে।

ইরানি কর্তৃপক্ষ এই সন্ত্রাসী ও ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডের জন্য সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দায়ী করছে। এসব ঘটনায় বহু নিরাপত্তা সদস্যের পাশাপাশি সাধারণ নাগরিকও নিহত হয়েছেন।