ঢাকা ০৪:০০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

শামীম ওসমানসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

Live News Bangla71
  • আপডেট সময় : ০৬:৪৭:৩৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬ ৮৩ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় নারায়ণগঞ্জের সদর ও ফতুল্লা এলাকায় শিশু রিয়া গোপসহ ১০ জনকে হত্যা মামলায় সাবেক এমপি শামীম ওসমানসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে পলাতক সবার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। প্রসিকিউশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল-১ সোমবার এ আদেশ দেন।

এদিন প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম। তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ১৯ ও ২১ জুলাই এবং ৫ আগস্ট তিন দিনে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা ও সাইনবোর্ড এলাকায় ১০ জনকে হত্যা করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে মানবতাবিরোধী অপরাধের তিনটি অভিযোগ আনা হয়। এসব অভিযোগ ট্রাইব্যুনালের সামনে উপস্থাপন করেন তিনি। একই সঙ্গে অভিযোগ আমলে নেওয়ার আবেদন করা হয়। পরে অভিযোগ আমলে নেওয়ার পাশাপাশি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে ১২ আসামিকে গ্রেপ্তার করে আগামী ২৬ জানুয়ারি হাজিরের নির্দেশ দেওয়া হয়।

প্রসিকিউশন জানায়, নারায়ণগঞ্জে জুলাইয়ে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের মামলায় অন্যতম আসামি শামীম ওসমান ও তাঁর ছেলে অয়ন ওসমান। ছাত্র-জনতার আন্দোলনে আসামিরা সবাই অস্ত্রধারী ছিলেন।

সোমবার সকালে আসামিদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রার দপ্তরে দাখিল করে প্রসিকিউশন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ট্রাইব্যুনালে শুনানি করে প্রসিকিউশন।

ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে শামীম ওসমানের ফোনালাপ
এদিন এই মামলার শুনানির সময় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে ফোনে শামীম ওসমানের কথোপকথনের কিছু অংশ তুলে ধরে প্রসিকিউশন। ওবায়দুল কাদেরকে ফোনালাপে শামীম ওসমান বলেন, ‘পুলিশ কিছু করতে পারছিল না। সাহায্য চাইছে। আমাকে অস্ত্র হাতে নিতে হয়েছে। আমি কিন্তু আর অস্ত্র ছাড়া মুভ করতে পারছি না। দৌড়াইয়া পানিতে নামাইছি সবগুলারে। দুইটারে ধরছি, এখন যাচ্ছি সিদ্ধিরগঞ্জে। আর সজল মোল্লার সাথে আলাপ করছি, বলছি তোমরা আমাকে সাপোর্ট দাও। আমরা চিটাগং রোড খালি করতাছি। আপনি একটু আপাকে অর্থাৎ নেত্রীকে একটু বলে দিয়েন, অস্ত্র হাতে আমার ছবি দেখলে উনি যেন রাগ না করেন।’

পরে প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম বলেন, গুলি ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে অসংখ্য ছাত্র-জনতাকে আহত করা হয়। এখানে শামীম ওসমান, তাঁর ছেলে অয়ন ওসমান, ভাতিজা আজমেরী ওসমানসহ ১২ জনকে আসামি করা হয়েছে।

প্রসিকিউটর তামিম বলেন, এ ঘটনার অন্যতম প্রধান আসামি শামীম ওসমান। জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে নিয়মিত মোবাইল ফোনে যোগাযোগ রাখতেন তিনি। যার কল রেকর্ড ও সিডিআর আমরা ট্রাইব্যুনালে জমা দিয়েছি। শামীম ওসমান অস্ত্র ব্যবহার করে নারায়ণগঞ্জে হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছেন। নারায়ণগঞ্জ শেষ করে তিনি সিদ্ধিরগঞ্জে গিয়েছেন। সিদ্ধিরগঞ্জ শেষ করে গেছেন চিটাগং রোডে।

চানখাঁরপুলে ছয় হত্যা মামলার রায় আজ
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর চানখাঁরপুলে ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ আটজনের বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা করা হবে আজ মঙ্গলবার। উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল-১ গত ২৪ ডিসেম্বর এই তারিখ ঠিক করেন।

এ মামলার আট আসামির মধ্যে গ্রেপ্তার চারজন হলেন শাহবাগ থানার সাবেক পরিদর্শক (অপারেশন) মো. আরশাদ হোসেন, কনস্টেবল মো. সুজন মিয়া, মো. ইমাজ হোসেন ইমন ‍ও মো. নাসিরুল ইসলাম। সোমবার তাদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করে পুলিশ।

পলাতক চার আসামি হলেন– ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, সাবেক যুগ্ম কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী, রমনা অঞ্চলের সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার শাহ আলম মো. আখতারুল ইসলাম ও রমনা অঞ্চলের সাবেক সহকারী কমিশনার মোহাম্মদ ইমরুল।

এই মামলায় ২০২৫ সালের ১৪ জুলাই আটজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয় ১২ নভেম্বর। সবমিলিয়ে ২৩ কার্যদিবসে ২৬ জনের সাক্ষ্য ও জেরা সম্পন্ন হয়।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট চানখাঁরপুল এলাকায় শিক্ষার্থীদের ওপর গুলি চালায় পুলিশ। এতে বহু হতাহতের ঘটনার পাশাপাশি শাহরিয়ার খান আনাস, শেখ জুনায়েদ, মো. ইয়াকুব, মো. রাকিব হাওলাদার, মো. ইসমামুল হক ও মানিক মিয়া শাহরিক নিহত হন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

শামীম ওসমানসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

আপডেট সময় : ০৬:৪৭:৩৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় নারায়ণগঞ্জের সদর ও ফতুল্লা এলাকায় শিশু রিয়া গোপসহ ১০ জনকে হত্যা মামলায় সাবেক এমপি শামীম ওসমানসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে পলাতক সবার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। প্রসিকিউশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল-১ সোমবার এ আদেশ দেন।

এদিন প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম। তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ১৯ ও ২১ জুলাই এবং ৫ আগস্ট তিন দিনে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা ও সাইনবোর্ড এলাকায় ১০ জনকে হত্যা করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে মানবতাবিরোধী অপরাধের তিনটি অভিযোগ আনা হয়। এসব অভিযোগ ট্রাইব্যুনালের সামনে উপস্থাপন করেন তিনি। একই সঙ্গে অভিযোগ আমলে নেওয়ার আবেদন করা হয়। পরে অভিযোগ আমলে নেওয়ার পাশাপাশি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে ১২ আসামিকে গ্রেপ্তার করে আগামী ২৬ জানুয়ারি হাজিরের নির্দেশ দেওয়া হয়।

প্রসিকিউশন জানায়, নারায়ণগঞ্জে জুলাইয়ে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের মামলায় অন্যতম আসামি শামীম ওসমান ও তাঁর ছেলে অয়ন ওসমান। ছাত্র-জনতার আন্দোলনে আসামিরা সবাই অস্ত্রধারী ছিলেন।

সোমবার সকালে আসামিদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রার দপ্তরে দাখিল করে প্রসিকিউশন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ট্রাইব্যুনালে শুনানি করে প্রসিকিউশন।

ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে শামীম ওসমানের ফোনালাপ
এদিন এই মামলার শুনানির সময় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে ফোনে শামীম ওসমানের কথোপকথনের কিছু অংশ তুলে ধরে প্রসিকিউশন। ওবায়দুল কাদেরকে ফোনালাপে শামীম ওসমান বলেন, ‘পুলিশ কিছু করতে পারছিল না। সাহায্য চাইছে। আমাকে অস্ত্র হাতে নিতে হয়েছে। আমি কিন্তু আর অস্ত্র ছাড়া মুভ করতে পারছি না। দৌড়াইয়া পানিতে নামাইছি সবগুলারে। দুইটারে ধরছি, এখন যাচ্ছি সিদ্ধিরগঞ্জে। আর সজল মোল্লার সাথে আলাপ করছি, বলছি তোমরা আমাকে সাপোর্ট দাও। আমরা চিটাগং রোড খালি করতাছি। আপনি একটু আপাকে অর্থাৎ নেত্রীকে একটু বলে দিয়েন, অস্ত্র হাতে আমার ছবি দেখলে উনি যেন রাগ না করেন।’

পরে প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম বলেন, গুলি ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে অসংখ্য ছাত্র-জনতাকে আহত করা হয়। এখানে শামীম ওসমান, তাঁর ছেলে অয়ন ওসমান, ভাতিজা আজমেরী ওসমানসহ ১২ জনকে আসামি করা হয়েছে।

প্রসিকিউটর তামিম বলেন, এ ঘটনার অন্যতম প্রধান আসামি শামীম ওসমান। জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে নিয়মিত মোবাইল ফোনে যোগাযোগ রাখতেন তিনি। যার কল রেকর্ড ও সিডিআর আমরা ট্রাইব্যুনালে জমা দিয়েছি। শামীম ওসমান অস্ত্র ব্যবহার করে নারায়ণগঞ্জে হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছেন। নারায়ণগঞ্জ শেষ করে তিনি সিদ্ধিরগঞ্জে গিয়েছেন। সিদ্ধিরগঞ্জ শেষ করে গেছেন চিটাগং রোডে।

চানখাঁরপুলে ছয় হত্যা মামলার রায় আজ
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর চানখাঁরপুলে ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ আটজনের বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা করা হবে আজ মঙ্গলবার। উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল-১ গত ২৪ ডিসেম্বর এই তারিখ ঠিক করেন।

এ মামলার আট আসামির মধ্যে গ্রেপ্তার চারজন হলেন শাহবাগ থানার সাবেক পরিদর্শক (অপারেশন) মো. আরশাদ হোসেন, কনস্টেবল মো. সুজন মিয়া, মো. ইমাজ হোসেন ইমন ‍ও মো. নাসিরুল ইসলাম। সোমবার তাদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করে পুলিশ।

পলাতক চার আসামি হলেন– ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, সাবেক যুগ্ম কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী, রমনা অঞ্চলের সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার শাহ আলম মো. আখতারুল ইসলাম ও রমনা অঞ্চলের সাবেক সহকারী কমিশনার মোহাম্মদ ইমরুল।

এই মামলায় ২০২৫ সালের ১৪ জুলাই আটজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয় ১২ নভেম্বর। সবমিলিয়ে ২৩ কার্যদিবসে ২৬ জনের সাক্ষ্য ও জেরা সম্পন্ন হয়।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট চানখাঁরপুল এলাকায় শিক্ষার্থীদের ওপর গুলি চালায় পুলিশ। এতে বহু হতাহতের ঘটনার পাশাপাশি শাহরিয়ার খান আনাস, শেখ জুনায়েদ, মো. ইয়াকুব, মো. রাকিব হাওলাদার, মো. ইসমামুল হক ও মানিক মিয়া শাহরিক নিহত হন।