ঢাকা ০২:১৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

খামেনি হত্যায় যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলকে কঠোর বার্তা ইরানের প্রেসিডেন্টের

Live News Bangla71
  • আপডেট সময় : ০৫:২৫:২০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১ মার্চ ২০২৬ ৬৩ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির হত্যায় জড়িত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের উদ্দেশে কঠোর বার্তা দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।

রবিবার (১ মার্চ) সকালে ইরানের প্রেসিডেন্ট তার অফিস থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে খামেনির হত্যাকে ‘গুরুতর অপরাধ’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং এর কঠিন প্রতিশোধ নেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘এই গুরুতর অপরাধ কখনো অপ্রতিক্রিয়ায় থাকবে না এবং এটি ইসলামি বিশ্বের ও শিয়াবাদের ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায় খুলবে। এই মহান নেতার বিশুদ্ধ রক্ত একটি উন্মাদ স্রোতের মতো প্রবাহিত হবে এবং মার্কিন-জায়োনিস্টদের শোষণ ও অপরাধ নির্মূল করবে।’

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ‘এইবারও আমরা আমাদের সব শক্তি ও দৃঢ়তার সঙ্গে, ইসলামি জাতি এবং বিশ্বের মুক্ত মানুষদের সমর্থন নিয়ে, এই গুরুতর অপরাধের পরিকল্পনাকারী ও দায়ীদের অনুতপ্ত করে তুলব।’

পেজেশকিয়ান ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোকের পাশাপাশি সাত দিনের সরকারি ছুটির ঘোষণাও দিয়েছেন।

এদিকে খামেনির মৃত্যুর খবর রবিবার পাওয়া গেলেও তিনি হামলার শিকার হয়েছেন আগের দিন ভোরেই। ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল জানিয়েছে, শনিবার ভোরে তেহরানে নিজ কার্যালয়ে আয়াতুল্লাহ খামেনিকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়। এদিন তার বাসভবনের স্যাটেলাইট ছবি প্রকাশ করেছিল সংবাদমাধ্যম বিবিসি। স্যাটেলাইটে প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে, খামেনির প্রাসাদটি ধসে পড়েছে। এটির চারপাশ কালো হয়ে গেছে। এতে বোঝা যাচ্ছে সেখানে বড় ধরনের বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে।

ইরানের আধা সরকারি বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজ জানিয়েছে, শনিবার ভোরে খামেনিকে তার কার্যালয়েই হত্যা করা হয়েছে। ওই সময় তিনি তার ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালনরত ছিলেন।

ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার শাসন ব্যবস্থা চালু হয় ১৯৭৯ সালে ইসলামি বিপ্লবের পর থেকে। এক বিপ্লবের মাধ্যমে ইরানে রেজা শাহ পাহলভীর রাজতন্ত্রকে উৎখাত করা হয়। তাকে উৎখাতের পর ইরানে ধর্মীয় প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়।

এরপর দেশটি দুজন সুপ্রিম লিডার বা সর্বোচ্চ নেতা পেয়েছে। তাদের পদবী হিসেবে আয়াতুল্লাহ ব্যবহার করা হয়, শিয়া ধর্মাবলম্বীদের কাছে যার অর্থ সিনিয়র ধর্মীয় নেতা। সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি দেশটির সামরিক বাহিনীর কমান্ডার-ইন-চিফ ছিলেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

খামেনি হত্যায় যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলকে কঠোর বার্তা ইরানের প্রেসিডেন্টের

আপডেট সময় : ০৫:২৫:২০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১ মার্চ ২০২৬

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির হত্যায় জড়িত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের উদ্দেশে কঠোর বার্তা দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।

রবিবার (১ মার্চ) সকালে ইরানের প্রেসিডেন্ট তার অফিস থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে খামেনির হত্যাকে ‘গুরুতর অপরাধ’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং এর কঠিন প্রতিশোধ নেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘এই গুরুতর অপরাধ কখনো অপ্রতিক্রিয়ায় থাকবে না এবং এটি ইসলামি বিশ্বের ও শিয়াবাদের ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায় খুলবে। এই মহান নেতার বিশুদ্ধ রক্ত একটি উন্মাদ স্রোতের মতো প্রবাহিত হবে এবং মার্কিন-জায়োনিস্টদের শোষণ ও অপরাধ নির্মূল করবে।’

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ‘এইবারও আমরা আমাদের সব শক্তি ও দৃঢ়তার সঙ্গে, ইসলামি জাতি এবং বিশ্বের মুক্ত মানুষদের সমর্থন নিয়ে, এই গুরুতর অপরাধের পরিকল্পনাকারী ও দায়ীদের অনুতপ্ত করে তুলব।’

পেজেশকিয়ান ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোকের পাশাপাশি সাত দিনের সরকারি ছুটির ঘোষণাও দিয়েছেন।

এদিকে খামেনির মৃত্যুর খবর রবিবার পাওয়া গেলেও তিনি হামলার শিকার হয়েছেন আগের দিন ভোরেই। ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল জানিয়েছে, শনিবার ভোরে তেহরানে নিজ কার্যালয়ে আয়াতুল্লাহ খামেনিকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়। এদিন তার বাসভবনের স্যাটেলাইট ছবি প্রকাশ করেছিল সংবাদমাধ্যম বিবিসি। স্যাটেলাইটে প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে, খামেনির প্রাসাদটি ধসে পড়েছে। এটির চারপাশ কালো হয়ে গেছে। এতে বোঝা যাচ্ছে সেখানে বড় ধরনের বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে।

ইরানের আধা সরকারি বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজ জানিয়েছে, শনিবার ভোরে খামেনিকে তার কার্যালয়েই হত্যা করা হয়েছে। ওই সময় তিনি তার ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালনরত ছিলেন।

ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার শাসন ব্যবস্থা চালু হয় ১৯৭৯ সালে ইসলামি বিপ্লবের পর থেকে। এক বিপ্লবের মাধ্যমে ইরানে রেজা শাহ পাহলভীর রাজতন্ত্রকে উৎখাত করা হয়। তাকে উৎখাতের পর ইরানে ধর্মীয় প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়।

এরপর দেশটি দুজন সুপ্রিম লিডার বা সর্বোচ্চ নেতা পেয়েছে। তাদের পদবী হিসেবে আয়াতুল্লাহ ব্যবহার করা হয়, শিয়া ধর্মাবলম্বীদের কাছে যার অর্থ সিনিয়র ধর্মীয় নেতা। সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি দেশটির সামরিক বাহিনীর কমান্ডার-ইন-চিফ ছিলেন।