ঢাকা ০৫:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

ইরানের সরকার পতনের কোনো লক্ষণ নেই, জানাল ইসরায়েল

Live News Bangla71
  • আপডেট সময় : ০১:০৪:৩৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ ২০২৬ ৬০ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ব্যাপক বিমান হামলার মুখে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির শিকার হলেও ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থা পতনের কোনো লক্ষণ নেই মনে করছে ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনী।

ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ওয়াল্লা’র এক প্রতিবেদনে এই দাবি করা হয়েছে। খবর মিডল ইস্ট আইয়ের।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের জুন মাসে ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে হওয়া যুদ্ধ থেকে তেহরান শিক্ষা নিয়েছে। বর্তমানে ইরানের সামরিক সক্ষমতা মাঝারি থেকে দুর্বল পর্যায়ে থাকলেও তারা এখনো কার্যকর রয়েছে। সেখানে বড় ধরনের প্রতিকূলতা থাকলেও শাসনব্যবস্থা ভেঙে পড়ার কোনো লক্ষণ নেই এবং ইরান যেকোনো শূন্যস্থান পূরণে প্রস্তুত রয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইরান সমস্যার সম্মুখীন হওয়ায় তারা এখন আরব উপসাগরীয় দেশগুলোকে বেশি লক্ষ্যবস্তু করছে।

এদিকে গত শনিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন যে, এই সন্ত্রাসী শাসকগোষ্ঠী যেন কখনো পারমাণবিক অস্ত্র না পায় সেটিই তার প্রশাসনের নীতি। পরে তিনি ইরানি জনগণকে তাদের সরকার উৎখাতের আহ্বান জানিয়ে বলেন, সব জায়গায় বোমা পড়বে এবং কাজ শেষ হলে জনগণ যেন সরকারের নিয়ন্ত্রণ নেয়।

একই সুরে গত মঙ্গলবার ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, এটি একটি দ্রুত ও চূড়ান্ত পদক্ষেপ হতে যাচ্ছে এবং তারা এমন পরিবেশ তৈরি করবেন যাতে ইরানি জনগণ একটি গণতান্ত্রিক সরকার গঠন করতে পারে। তবে গত চার দিনে মার্কিন প্রশাসনের অবস্থানে কিছুটা পরিবর্তন দেখা গেছে। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ জানিয়েছেন, এটি তথাকথিত শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের যুদ্ধ নয়।

হামলার খতিয়ান তুলে ধরে ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান ব্র্যাড কুপার জানান, মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানের অভ্যন্তরে ২ হাজার লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। পাশাপাশি ইসরায়েলি সেনাবাহিনী আরও ১ হাজার ৫০০টির বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা করেছে। তবে তেল আবিব ইউনিভার্সিটির অধিভুক্ত থিংক ট্যাংক ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল সিকিউরিটি স্টাডিজ (আইএনএসএস) জানিয়েছে, ইরান পাল্টা বিপুল সংখ্যক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছুড়তে সক্ষম হয়েছে।

আইএনএসএসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শনিবার যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরান ইসরায়েল অভিমুখে প্রায় ২০০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ১০০টি ড্রোন ছুড়েছে। এছাড়া উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর দিকে ইরান প্রায় ৫০০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ২ হাজার ড্রোন নিক্ষেপ করেছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ইরান ইসরায়েলকে প্রধান শত্রু মনে করলেও তাদের বেশিরভাগ হামলা নিকটবর্তী প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপরই কেন্দ্রীভূত করছে। এর মধ্যে ইসরায়েলের ঘনিষ্ঠ মিত্র সংযুক্ত আরব আমিরাতের ওপর সবচেয়ে বেশি হামলা চালানো হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

ইরানের সরকার পতনের কোনো লক্ষণ নেই, জানাল ইসরায়েল

আপডেট সময় : ০১:০৪:৩৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ ২০২৬

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ব্যাপক বিমান হামলার মুখে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির শিকার হলেও ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থা পতনের কোনো লক্ষণ নেই মনে করছে ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনী।

ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ওয়াল্লা’র এক প্রতিবেদনে এই দাবি করা হয়েছে। খবর মিডল ইস্ট আইয়ের।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের জুন মাসে ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে হওয়া যুদ্ধ থেকে তেহরান শিক্ষা নিয়েছে। বর্তমানে ইরানের সামরিক সক্ষমতা মাঝারি থেকে দুর্বল পর্যায়ে থাকলেও তারা এখনো কার্যকর রয়েছে। সেখানে বড় ধরনের প্রতিকূলতা থাকলেও শাসনব্যবস্থা ভেঙে পড়ার কোনো লক্ষণ নেই এবং ইরান যেকোনো শূন্যস্থান পূরণে প্রস্তুত রয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইরান সমস্যার সম্মুখীন হওয়ায় তারা এখন আরব উপসাগরীয় দেশগুলোকে বেশি লক্ষ্যবস্তু করছে।

এদিকে গত শনিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন যে, এই সন্ত্রাসী শাসকগোষ্ঠী যেন কখনো পারমাণবিক অস্ত্র না পায় সেটিই তার প্রশাসনের নীতি। পরে তিনি ইরানি জনগণকে তাদের সরকার উৎখাতের আহ্বান জানিয়ে বলেন, সব জায়গায় বোমা পড়বে এবং কাজ শেষ হলে জনগণ যেন সরকারের নিয়ন্ত্রণ নেয়।

একই সুরে গত মঙ্গলবার ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, এটি একটি দ্রুত ও চূড়ান্ত পদক্ষেপ হতে যাচ্ছে এবং তারা এমন পরিবেশ তৈরি করবেন যাতে ইরানি জনগণ একটি গণতান্ত্রিক সরকার গঠন করতে পারে। তবে গত চার দিনে মার্কিন প্রশাসনের অবস্থানে কিছুটা পরিবর্তন দেখা গেছে। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ জানিয়েছেন, এটি তথাকথিত শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের যুদ্ধ নয়।

হামলার খতিয়ান তুলে ধরে ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান ব্র্যাড কুপার জানান, মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানের অভ্যন্তরে ২ হাজার লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। পাশাপাশি ইসরায়েলি সেনাবাহিনী আরও ১ হাজার ৫০০টির বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা করেছে। তবে তেল আবিব ইউনিভার্সিটির অধিভুক্ত থিংক ট্যাংক ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল সিকিউরিটি স্টাডিজ (আইএনএসএস) জানিয়েছে, ইরান পাল্টা বিপুল সংখ্যক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছুড়তে সক্ষম হয়েছে।

আইএনএসএসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শনিবার যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরান ইসরায়েল অভিমুখে প্রায় ২০০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ১০০টি ড্রোন ছুড়েছে। এছাড়া উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর দিকে ইরান প্রায় ৫০০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ২ হাজার ড্রোন নিক্ষেপ করেছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ইরান ইসরায়েলকে প্রধান শত্রু মনে করলেও তাদের বেশিরভাগ হামলা নিকটবর্তী প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপরই কেন্দ্রীভূত করছে। এর মধ্যে ইসরায়েলের ঘনিষ্ঠ মিত্র সংযুক্ত আরব আমিরাতের ওপর সবচেয়ে বেশি হামলা চালানো হয়েছে।