ঢাকা ১১:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

‘ইরান যুদ্ধ অন্তত জুন মাস পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে’

Live News Bangla71
  • আপডেট সময় : ০৬:৪২:৪৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬ ১১৬ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

কমনওয়েলথ ব্যাংক অফ অস্ট্রেলিয়ার শীর্ষ ভূ-রাজনৈতিক কৌশলবিদ সতর্ক করেছেন, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত অন্তত আগামী জুন মাস পর্যন্ত স্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ম্যাডিসন কার্টরাইট নামের এই বিশেষজ্ঞ জানান, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চাইলেই একতরফাভাবে ইরানের বিরুদ্ধে শুরু করা এই যুদ্ধ থেকে নিজেকে সরিয়ে নিতে পারবেন না। তাঁর মতে, ট্রাম্পের পূর্ববর্তী বাণিজ্য নীতিগুলোতে ‘টাকো ট্রেড’ বা ‘ট্রাম্প অলওয়েজ চিকেনস আউট’ (অর্থাৎ শেষ মুহূর্তে পিছিয়ে যাওয়া) কৌশল কাজ করলেও সামরিক যুদ্ধের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। শুল্ক নীতি নির্ধারণ করা প্রেসিডেন্টের একক এখতিয়ার হলেও একটি যুদ্ধের সমাপ্তি টানার সিদ্ধান্ত তিনি একা নিতে পারেন না, কারণ এতে একাধিক আঞ্চলিক শক্তির স্বার্থ জড়িত রয়েছে।

অস্ট্রেলিয়ার ন্যাশনাল ক্যাবিনেট বর্তমানে জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় একটি ঐক্যবদ্ধ কৌশল তৈরির লক্ষ্যে কাজ করছে। এই প্রেক্ষাপটে কার্টরাইট ফেডারেল ও রাজ্য নেতাদের সতর্ক করে বলেছেন, দেশটির সীমিত জ্বালানি মজুতের কথা মাথায় রেখে একটি দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের পরিকল্পনা করা উচিত।

সিডনিসহ অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন স্থানে ইতিমধ্যেই পেট্রোল পাম্পগুলোতে জ্বালানি শূন্যতা দেখা দিয়েছে, যা বৈশ্বিক এই সংকটের ভয়াবহতা তুলে ধরছে। বিশ্লেষকের মতে, এই যুদ্ধ শেষ করার জন্য যেকোনো স্থায়ী চুক্তিতে অবশ্যই ইসরায়েল ও ইরানকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। অন্যথায় কেবল যুক্তরাষ্ট্রের পিছু হটার মাধ্যমে শান্তি ফিরে আসার সম্ভাবনা ক্ষীণ।

বর্তমানে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের দাবির মধ্যে কোনো সাধারণ ঐকমত্য বা মিল নেই, যা আলোচনার পথকে আরও জটিল করে তুলেছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যেও কৌশলগত মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে। কার্টরাইট ব্যাখ্যা করেন, যদি যুক্তরাষ্ট্র তার লক্ষ্য পূরণ না করেই যুদ্ধ থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নেয়, তবে ইসরায়েল সম্ভবত এককভাবে এই যুদ্ধ চালিয়ে যাবে।

অন্যদিকে, অনুকূল কোনো চুক্তি ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র হঠাৎ করে যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে গেলেই যে ইরান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি খুলে দেবে, তারও কোনো নিশ্চয়তা নেই। ফলে এই অচলাবস্থা কাটতে আরও কয়েক মাস সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সার্বিকভাবে মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত কেবল আঞ্চলিক নয় বরং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলছে। অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশগুলো এখন তাদের জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে চরম উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে। কার্টরাইটের এই পূর্বাভাস ইঙ্গিত দিচ্ছে, ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত যুদ্ধ জয়ের দাবি করা হলেও বাস্তব পরিস্থিতি অনেক বেশি জটিল ও সময়সাপেক্ষ।

জুন মাস পর্যন্ত এই অস্থিরতা বজায় থাকলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম এবং সরবরাহ ব্যবস্থা আরও বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারে। আপাতত কূটনৈতিক ও সামরিক—উভয় দিক থেকেই একটি ভারসাম্যপূর্ণ সমাধানের অপেক্ষায় রয়েছে বিশ্ব সম্প্রদায়।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

‘ইরান যুদ্ধ অন্তত জুন মাস পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে’

আপডেট সময় : ০৬:৪২:৪৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬

কমনওয়েলথ ব্যাংক অফ অস্ট্রেলিয়ার শীর্ষ ভূ-রাজনৈতিক কৌশলবিদ সতর্ক করেছেন, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত অন্তত আগামী জুন মাস পর্যন্ত স্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ম্যাডিসন কার্টরাইট নামের এই বিশেষজ্ঞ জানান, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চাইলেই একতরফাভাবে ইরানের বিরুদ্ধে শুরু করা এই যুদ্ধ থেকে নিজেকে সরিয়ে নিতে পারবেন না। তাঁর মতে, ট্রাম্পের পূর্ববর্তী বাণিজ্য নীতিগুলোতে ‘টাকো ট্রেড’ বা ‘ট্রাম্প অলওয়েজ চিকেনস আউট’ (অর্থাৎ শেষ মুহূর্তে পিছিয়ে যাওয়া) কৌশল কাজ করলেও সামরিক যুদ্ধের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। শুল্ক নীতি নির্ধারণ করা প্রেসিডেন্টের একক এখতিয়ার হলেও একটি যুদ্ধের সমাপ্তি টানার সিদ্ধান্ত তিনি একা নিতে পারেন না, কারণ এতে একাধিক আঞ্চলিক শক্তির স্বার্থ জড়িত রয়েছে।

অস্ট্রেলিয়ার ন্যাশনাল ক্যাবিনেট বর্তমানে জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় একটি ঐক্যবদ্ধ কৌশল তৈরির লক্ষ্যে কাজ করছে। এই প্রেক্ষাপটে কার্টরাইট ফেডারেল ও রাজ্য নেতাদের সতর্ক করে বলেছেন, দেশটির সীমিত জ্বালানি মজুতের কথা মাথায় রেখে একটি দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের পরিকল্পনা করা উচিত।

সিডনিসহ অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন স্থানে ইতিমধ্যেই পেট্রোল পাম্পগুলোতে জ্বালানি শূন্যতা দেখা দিয়েছে, যা বৈশ্বিক এই সংকটের ভয়াবহতা তুলে ধরছে। বিশ্লেষকের মতে, এই যুদ্ধ শেষ করার জন্য যেকোনো স্থায়ী চুক্তিতে অবশ্যই ইসরায়েল ও ইরানকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। অন্যথায় কেবল যুক্তরাষ্ট্রের পিছু হটার মাধ্যমে শান্তি ফিরে আসার সম্ভাবনা ক্ষীণ।

বর্তমানে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের দাবির মধ্যে কোনো সাধারণ ঐকমত্য বা মিল নেই, যা আলোচনার পথকে আরও জটিল করে তুলেছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যেও কৌশলগত মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে। কার্টরাইট ব্যাখ্যা করেন, যদি যুক্তরাষ্ট্র তার লক্ষ্য পূরণ না করেই যুদ্ধ থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নেয়, তবে ইসরায়েল সম্ভবত এককভাবে এই যুদ্ধ চালিয়ে যাবে।

অন্যদিকে, অনুকূল কোনো চুক্তি ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র হঠাৎ করে যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে গেলেই যে ইরান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি খুলে দেবে, তারও কোনো নিশ্চয়তা নেই। ফলে এই অচলাবস্থা কাটতে আরও কয়েক মাস সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সার্বিকভাবে মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত কেবল আঞ্চলিক নয় বরং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলছে। অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশগুলো এখন তাদের জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে চরম উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে। কার্টরাইটের এই পূর্বাভাস ইঙ্গিত দিচ্ছে, ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত যুদ্ধ জয়ের দাবি করা হলেও বাস্তব পরিস্থিতি অনেক বেশি জটিল ও সময়সাপেক্ষ।

জুন মাস পর্যন্ত এই অস্থিরতা বজায় থাকলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম এবং সরবরাহ ব্যবস্থা আরও বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারে। আপাতত কূটনৈতিক ও সামরিক—উভয় দিক থেকেই একটি ভারসাম্যপূর্ণ সমাধানের অপেক্ষায় রয়েছে বিশ্ব সম্প্রদায়।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান