ঢাকা ০৬:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

খামেনির ছেলেকে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা ঘোষণায় অসন্তুষ্ট ট্রাম্প

Live News Bangla71
  • আপডেট সময় : ০৬:৫০:৪০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৯ মার্চ ২০২৬ ১১২ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির ছেলে মুজতাবা হোসেইনি খামেনিকেই দেশটির পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত করা হয়েছে। এমন সিদ্ধান্তে বেশ অসন্তুষ্ট যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজের উপস্থাপক ব্রায়ান কিলমিড বলেন, ট্রাম্প তাকে বলেছেন, ‘আমি এমন সিদ্ধান্তে অসন্তুষ্ট।’

তবে, এখনো প্রকাশ্যে আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেননি ট্রাম্প।

যুদ্ধের শুরুর দিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, ইরানে সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি হবে যদি আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির উত্তরসূরি ‘আগের ব্যক্তির মতোই খারাপ’ হন।

এদিকে, ইরানের সাথে চলমান যুদ্ধ কখন থামানো হবে সে বিষয়গুলো ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সাথে পারস্পরিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প।

গতকাল রোববার (৮ মার্চ) ট্রাম্প বলেন, ‘এই যুদ্ধ শেষের ক্ষেত্রে নেতানিয়াহুর মতামত নেওয়া হবে। আমি মনে করি এটি পারস্পরিক বিষয়। সঠিক সময়ে আমরা সিদ্ধান্ত নেব।’

৫৬ বছর বয়সী মুজতাবা কখনও কোনো সরকারি পদে ছিলেন না এবং খুব কম জনসমক্ষে বক্তব্য দিয়েছেন। এমনকি ইরানের ভেতরেও তাকে শান্ত ও রহস্যময় চরিত্র হিসেবে দেখা হয়।

অস্ট্রেলিয়ার চার্লস স্টার্ট ইউনিভার্সিটির সেন্টার ফর ইসলামিক স্টাডিজ অ্যান্ড সিভিলাইজেশনের প্রধান অধ্যাপক মেহমেত ওজালপ এবিসিকে বলেন, ‘তিনি পর্দার আড়ালে কাজ করা এক গোপনীয় ব্যক্তি ছিলেন।’

অধ্যাপক মেহমেত বলেন, ‘তিনি মূলত তার বাবার প্রভাব ব্যবহার করতেন এবং বাবার কাছে যাওয়ার এক ধরনের ‘গেটকিপার’ ছিলেন, যা তাকে বিশেষ করে বিপ্লবী গার্ডদের কাছে খুব প্রভাবশালী করে তোলে।’

মুজতাবা খামেনির সঙ্গে শক্তিশালী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস কর্পস (আইআরজিসি)-এর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। এই বাহিনী ইসলামী প্রজাতন্ত্র এবং তার সীমান্ত রক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত।

তার বাবার ঘনিষ্ঠ মহলে প্রভাব থাকার কারণে তাকে একসময় ‘ক্ষমতার আড়ালের শক্তি’ বলেও অভিহিত করা হতো।

অধ্যাপক মেহমেত আরও বলেন, ‘মুজতাবার গণমাধ্যমে প্রবেশাধিকারও রেস্ট্রিক্টেড ছিল এবং দেশের প্রভাবশালী আলেমদের ওপরও তার প্রভাব ছিল।’

এই কারণে দীর্ঘদিন ধরেই তাকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতৃত্বে ওঠার সবচেয়ে সম্ভাব্য ব্যক্তি হিসেবে দেখা হচ্ছিল, বিশেষ করে, ২০২৪ সালে হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি নিহত হওয়ার পর।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

খামেনির ছেলেকে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা ঘোষণায় অসন্তুষ্ট ট্রাম্প

আপডেট সময় : ০৬:৫০:৪০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৯ মার্চ ২০২৬

ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির ছেলে মুজতাবা হোসেইনি খামেনিকেই দেশটির পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত করা হয়েছে। এমন সিদ্ধান্তে বেশ অসন্তুষ্ট যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজের উপস্থাপক ব্রায়ান কিলমিড বলেন, ট্রাম্প তাকে বলেছেন, ‘আমি এমন সিদ্ধান্তে অসন্তুষ্ট।’

তবে, এখনো প্রকাশ্যে আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেননি ট্রাম্প।

যুদ্ধের শুরুর দিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, ইরানে সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি হবে যদি আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির উত্তরসূরি ‘আগের ব্যক্তির মতোই খারাপ’ হন।

এদিকে, ইরানের সাথে চলমান যুদ্ধ কখন থামানো হবে সে বিষয়গুলো ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সাথে পারস্পরিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প।

গতকাল রোববার (৮ মার্চ) ট্রাম্প বলেন, ‘এই যুদ্ধ শেষের ক্ষেত্রে নেতানিয়াহুর মতামত নেওয়া হবে। আমি মনে করি এটি পারস্পরিক বিষয়। সঠিক সময়ে আমরা সিদ্ধান্ত নেব।’

৫৬ বছর বয়সী মুজতাবা কখনও কোনো সরকারি পদে ছিলেন না এবং খুব কম জনসমক্ষে বক্তব্য দিয়েছেন। এমনকি ইরানের ভেতরেও তাকে শান্ত ও রহস্যময় চরিত্র হিসেবে দেখা হয়।

অস্ট্রেলিয়ার চার্লস স্টার্ট ইউনিভার্সিটির সেন্টার ফর ইসলামিক স্টাডিজ অ্যান্ড সিভিলাইজেশনের প্রধান অধ্যাপক মেহমেত ওজালপ এবিসিকে বলেন, ‘তিনি পর্দার আড়ালে কাজ করা এক গোপনীয় ব্যক্তি ছিলেন।’

অধ্যাপক মেহমেত বলেন, ‘তিনি মূলত তার বাবার প্রভাব ব্যবহার করতেন এবং বাবার কাছে যাওয়ার এক ধরনের ‘গেটকিপার’ ছিলেন, যা তাকে বিশেষ করে বিপ্লবী গার্ডদের কাছে খুব প্রভাবশালী করে তোলে।’

মুজতাবা খামেনির সঙ্গে শক্তিশালী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস কর্পস (আইআরজিসি)-এর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। এই বাহিনী ইসলামী প্রজাতন্ত্র এবং তার সীমান্ত রক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত।

তার বাবার ঘনিষ্ঠ মহলে প্রভাব থাকার কারণে তাকে একসময় ‘ক্ষমতার আড়ালের শক্তি’ বলেও অভিহিত করা হতো।

অধ্যাপক মেহমেত আরও বলেন, ‘মুজতাবার গণমাধ্যমে প্রবেশাধিকারও রেস্ট্রিক্টেড ছিল এবং দেশের প্রভাবশালী আলেমদের ওপরও তার প্রভাব ছিল।’

এই কারণে দীর্ঘদিন ধরেই তাকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতৃত্বে ওঠার সবচেয়ে সম্ভাব্য ব্যক্তি হিসেবে দেখা হচ্ছিল, বিশেষ করে, ২০২৪ সালে হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি নিহত হওয়ার পর।