ঘুমালে বাড়িতে আগুন দেবে বসতি স্থাপনকারীরা’, পশ্চিম তীরে আতঙ্ক
- আপডেট সময় : ১২:০২:০২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬ ৬৭ বার পড়া হয়েছে
পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিনি গ্রাম রাস আইন আল-আউজার বাসিন্দা নাঈফ ঘাওয়ানমেহ (৪৫)। রাতের কনকনে ঠান্ডায় আগুন পোহাতে বসেন তিনি। ভাবেন, কয়েক সপ্তাহের মধ্যে প্রথমবার কিছুটা নীরবতা নেমে এসেছে। সংগীত থেমে গেছে, হয়ত ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের উৎসব আজকের মতো শেষ। তবুও ঘুমাতে ভয় পান তারা। আশঙ্কা করেন, ‘ঘুমালে বাড়িতে আগুন দেবে বসতি স্থাপনকারীরা’
ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতার মুখে তাদের গ্রাম রাস আইন আল-আউজা পুরোপুরি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। তাই এখনও আতঙ্ক কাটেনি গ্রামবাসীর।
স্থানীয়দের ভাষ্য, চলতি বছরের শুরু থেকে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের হামলা, হুমকি ও সম্পদ ধ্বংসের কারণে গ্রামটির প্রায় তিন-চতুর্থাংশ মানুষ তাদের বাড়িঘর ছাড়তে বাধ্য হয়েছে। প্রায় ৬৫০ জনের এই বেদুইন গ্রাম থেকে ইতিমধ্যে অন্তত ৪৫০ জন অন্যত্র চলে গেছেন।
গ্রামবাসীরা জানান, বসতি স্থাপনকারীরা তাদের পশু চুরি বা বিষ প্রয়োগে হত্যা করেছে, পানির উৎস বন্ধ করে দিয়েছে। এমনকি চারণভূমিতে যেতে বাধা দিচ্ছে। একসময়ের সমৃদ্ধ এই পশুপালননির্ভর গ্রামে যেখানে ২৪ হাজারের বেশি ভেড়া ছিল, সেখানে এখন সংখ্যা নেমে এসেছে তিন হাজারের নিচে।
৪৫ বছর বয়সী নাঈফ ঘাওয়ানমেহ বলেন, ‘দুই বছর ধরে রাতে মানসিক চাপের মধ্যে আছি। ঘুমালে ভয় হয়- বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেবে।’
তিনি বলেন, অনেক পরিবার চলে যাওয়ার আগে নিজেরাই আসবাব পুড়িয়ে ফেলেছে, যাতে সেগুলো বসতি স্থাপনকারীদের হাতে না পড়ে।
অনুভূতিটা খুব কঠিন উল্লেখ করে ঘাওয়ানমেহ বলেন, ‘সবাই চলে গেছে। একজনও নেই, সবাই চলে গেছে।’
তিনি জানান, তার পরিবারে ১৪ জন সদস্য রয়েছে। তারাও অন্যদের মতো গ্রাম ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে যাওয়ার কোনো জায়গা নেই।
জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা সমন্বয় দপ্তরের (ওসিএইচএ) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের অন্তত ১ হাজার ৮০০টি হামলার ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। এসব ঘটনায় বহু মানুষ হতাহত হয়েছে এবং শতাধিক ফিলিস্তিনি বসতি ও গ্রাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, বসতি স্থাপনকারীদের প্রায় সম্পূর্ণ দায়মুক্তি এবং নিরাপত্তা বাহিনীর নিষ্ক্রিয়তার কারণে এ ধরনের সহিংসতা বাড়ছে। আন্তর্জাতিক আইনে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপন অবৈধ হলেও বাস্তবে এসব বসতি সম্প্রসারণ অব্যাহত রয়েছে।
সূত্র: আল-জাজিরা
















