ঢাকা ০৭:১৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

ট্রাম্পের হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার হুমকি প্রত্যাখ্যান ইরানের নৌবাহিনী

Live News Bangla71
  • আপডেট সময় : ০৫:৪০:০৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬ ১৯ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী ঘিরে উত্তেজনা আরও তীব্র হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর হুঁশিয়ারি প্রত্যাখ্যান করে প্রণালীতে নতুন নিয়ম চালুর ঘোষণা দিয়েছে ইরান।

আইআরজিসি-র নৌবাহিনী তাদের দাপ্তরিক এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে জানিয়েছে, প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী বিদেশি জাহাজের ওপর ‘ট্রানজিট ফি’ আরোপসহ একটি নতুন ব্যবস্থা কার্যকর করতে তারা প্রস্তুত। তাদের দাবি, পারস্য উপসাগরে ইরানের ঘোষিত ‘নিউ অর্ডার’ বাস্তবায়ন এখন সময়ের ব্যাপার।

আইআরজিসি আরও স্পষ্ট করে বলেছে, হরমুজ প্রণালী আর আগের অবস্থায় ফিরবে না—বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল-এর জন্য।

এরই মধ্যে ইরানের পার্লামেন্ট একটি বিল পাস করেছে, যেখানে নির্দিষ্ট বিদেশি জাহাজের কাছ থেকে টোল আদায়ের বিধান রাখা হয়েছে। পাশাপাশি মার্কিন ও ইসরায়েলি জাহাজ চলাচলের ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞাও আরোপ করা হয়েছে। শিপিং বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান লয়েডস লিস্ট জানিয়েছে, ইতোমধ্যে কিছু জাহাজ চীনা মুদ্রা ইউয়ান বা ইরানি রিয়ালে অর্থ পরিশোধ করে এই প্রণালী ব্যবহার করছে।

অন্যদিকে, রবিবার এক্সে দেওয়া পোস্টে ট্রাম্প ইরানকে কঠোর হুমকি দেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রণালী খুলে না দিলে ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্র, সেতু ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলা চালানো হবে। তার ভাষায়, ইরানকে ‘নরকের মুখোমুখি’ হওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে, যদি তারা পিছু না হটে। বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের অস্থিরতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপ-এর ইরান প্রকল্প পরিচালক আলী ভায়েজ বলেছেন, তেহরান মনে করে হরমুজ প্রণালীর ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ পারমাণবিক অস্ত্রের চেয়েও কার্যকর। তিনি এটিকে ‘ব্যাপক বিপর্যয় সৃষ্টি করার সক্ষমতা’ হিসেবে উল্লেখ করেন।

উল্লেখ্য, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথটির সবচেয়ে সংকীর্ণ অংশ মাত্র ২১ মাইল প্রশস্ত, যেখানে জাহাজ চলাচলের কার্যকর পথ প্রায় ২ মাইলের মতো। ফলে সামান্য উত্তেজনাও বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

ট্রাম্পের হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার হুমকি প্রত্যাখ্যান ইরানের নৌবাহিনী

আপডেট সময় : ০৫:৪০:০৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬

কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী ঘিরে উত্তেজনা আরও তীব্র হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর হুঁশিয়ারি প্রত্যাখ্যান করে প্রণালীতে নতুন নিয়ম চালুর ঘোষণা দিয়েছে ইরান।

আইআরজিসি-র নৌবাহিনী তাদের দাপ্তরিক এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে জানিয়েছে, প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী বিদেশি জাহাজের ওপর ‘ট্রানজিট ফি’ আরোপসহ একটি নতুন ব্যবস্থা কার্যকর করতে তারা প্রস্তুত। তাদের দাবি, পারস্য উপসাগরে ইরানের ঘোষিত ‘নিউ অর্ডার’ বাস্তবায়ন এখন সময়ের ব্যাপার।

আইআরজিসি আরও স্পষ্ট করে বলেছে, হরমুজ প্রণালী আর আগের অবস্থায় ফিরবে না—বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল-এর জন্য।

এরই মধ্যে ইরানের পার্লামেন্ট একটি বিল পাস করেছে, যেখানে নির্দিষ্ট বিদেশি জাহাজের কাছ থেকে টোল আদায়ের বিধান রাখা হয়েছে। পাশাপাশি মার্কিন ও ইসরায়েলি জাহাজ চলাচলের ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞাও আরোপ করা হয়েছে। শিপিং বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান লয়েডস লিস্ট জানিয়েছে, ইতোমধ্যে কিছু জাহাজ চীনা মুদ্রা ইউয়ান বা ইরানি রিয়ালে অর্থ পরিশোধ করে এই প্রণালী ব্যবহার করছে।

অন্যদিকে, রবিবার এক্সে দেওয়া পোস্টে ট্রাম্প ইরানকে কঠোর হুমকি দেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রণালী খুলে না দিলে ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্র, সেতু ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলা চালানো হবে। তার ভাষায়, ইরানকে ‘নরকের মুখোমুখি’ হওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে, যদি তারা পিছু না হটে। বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের অস্থিরতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপ-এর ইরান প্রকল্প পরিচালক আলী ভায়েজ বলেছেন, তেহরান মনে করে হরমুজ প্রণালীর ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ পারমাণবিক অস্ত্রের চেয়েও কার্যকর। তিনি এটিকে ‘ব্যাপক বিপর্যয় সৃষ্টি করার সক্ষমতা’ হিসেবে উল্লেখ করেন।

উল্লেখ্য, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথটির সবচেয়ে সংকীর্ণ অংশ মাত্র ২১ মাইল প্রশস্ত, যেখানে জাহাজ চলাচলের কার্যকর পথ প্রায় ২ মাইলের মতো। ফলে সামান্য উত্তেজনাও বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।