ঢাকা ১১:৫১ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

নোয়াখালীতে ৫ কোটি টাকার পাইপ ১৯ লাখে বিক্রি, তদন্ত কমিটি

Live News Bangla71
  • আপডেট সময় : ০৫:২৭:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ জানুয়ারী ২০২৬ ১০৬ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

নোয়াখালী জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরে (ডিপিএইচই) সরকারি প্রায় ৫ কোটি টাকা মূল্যের পানির পাইপ মাত্র ১৯ লাখ টাকায় গোপন টেন্ডারের মাধ্যমে বিক্রি করা নিয়ে জেলা জুড়ে তীব্র আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়। বিষয়টি প্রধান প্রকৌশলীর নজরে এলে তিনি ঘটনাটি সরেজমিন তদন্ত করে রিপোর্ট দিতে নির্দেশ দেন।

বুধবার (৭ ডিসেম্বর) দিনভর সরেজমিনে এসে এ তদন্ত করেন চট্টগ্রাম সার্কেলের প্রকৌশলী তদন্ত কমিটির প্রধান মোহাম্মদ আলী আজগর।

স্থানীয় সূত্র জানায়, নোয়াখালী জেলার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যবহারের জন্য দীর্ঘদিন ধরে মজুদ থাকা বিপুল পরিমাণ জিআই ও পিভিসি পাইপ ‘অব্যবহৃত’ দেখিয়ে গোপনে নিলামে তোলা হয়।

তবে নিয়ম অনুযায়ী প্রকাশ্য নোটিশ, প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র ও মূল্য নির্ধারণ কমিটির সুপারিশ ছাড়াই নির্দিষ্ট একটি পক্ষকে সুবিধা দিতে গোপনে টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয় এমন অভিযোগ তুলেছে জেলার ঠিকাদাররা।
ঠিকাদারদের অভিযোগে আরো বলা হয়, বাজার মূল্য ও প্রকল্প মূল্য অনুযায়ী এসব পাইপের আনুমানিক মূল্য প্রায় ৫ কোটি টাকা হলেও মাত্র ১৯ লাখ টাকায় বিক্রি দেখানো হয়েছে। এতে করে রাষ্ট্রের কোটি কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জানতে চাইলে তদন্ত কর্মকর্তা চট্টগ্রাম সার্কেলের প্রকৌশলী মোহাম্মদ আলী আজগর বলেন, বিষয়টি এখন তদন্তাধীন।

ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ৭ কর্মদিবসের ভেতরে তদন্ত শেষ করতে বলেছে। লিখিত অভিযোগ পেলে ভালো হতো। সবকিছু ও কাগজপত্র যাচাই-বাচাই করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ড্যানিডা প্রকল্পের অর্থায়নে সাড়ে পাঁচ কোটি টাকার বিভিন্ন ধরনের পাইপ ও নির্মাণ সামগ্রী নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশের একটি গুদামে সংরক্ষিত ছিল।

এসব মালামাল কথিত দরপত্র আহ্বানের মাধ্যমে নামমাত্র একটি পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে নিলামে তোলা হয়। পরে নির্বাহী প্রকৌশলী ও অফিসের লোকজনের যোগসাজশে আওয়ামী লীগ নেতা শাহনাজসহ কয়েকজনের নামে মাত্র ১৮ লাখ ৮৫ হাজার টাকায় নিলাম দিয়ে কার্যাদেশের মাধ্যমে মালামালগুলো সুবর্ণচরের চরবাটা ও চর আমানউল্লা এলাকায় সরিয়ে নেওয়া হয়। এ ঘটনা জানাজানি হলে গত সোমবার দুপুরে ঠিকাদাররা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলীর কার্যালয়ে গেলে নির্বাহী প্রকৌশলী সাইফুল ইসলামসহ সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী অফিস রেখে সটকে যান।
ঠিকাদারদের অভিযোগ, দেড় ইঞ্চি ব্যাসের ৪৮ হাজার এবং তিন ইঞ্চি ব্যাসের ২৮ হাজার পাইপসহ প্রায় ১৫ লাখ ২০ হাজার ফুট বিভিন্ন মাপের পাইপ নিলামে বিক্রি করা হয়। যার আনুমানিক বাজার মূল্য ৫ কোটি ৫৫ লাখ টাকা।

কিন্তু এ তথ্য গোপন করে মাত্র ১৮ লাখ ৮৫ হাজার টাকায় বিক্রি করে সরকারের বিপুল অংকের টাকা নির্বাহী প্রকৌশলীসহ কর্মকর্তারা হাতিয়ে নিয়েছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

নোয়াখালীতে ৫ কোটি টাকার পাইপ ১৯ লাখে বিক্রি, তদন্ত কমিটি

আপডেট সময় : ০৫:২৭:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ জানুয়ারী ২০২৬

নোয়াখালী জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরে (ডিপিএইচই) সরকারি প্রায় ৫ কোটি টাকা মূল্যের পানির পাইপ মাত্র ১৯ লাখ টাকায় গোপন টেন্ডারের মাধ্যমে বিক্রি করা নিয়ে জেলা জুড়ে তীব্র আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়। বিষয়টি প্রধান প্রকৌশলীর নজরে এলে তিনি ঘটনাটি সরেজমিন তদন্ত করে রিপোর্ট দিতে নির্দেশ দেন।

বুধবার (৭ ডিসেম্বর) দিনভর সরেজমিনে এসে এ তদন্ত করেন চট্টগ্রাম সার্কেলের প্রকৌশলী তদন্ত কমিটির প্রধান মোহাম্মদ আলী আজগর।

স্থানীয় সূত্র জানায়, নোয়াখালী জেলার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যবহারের জন্য দীর্ঘদিন ধরে মজুদ থাকা বিপুল পরিমাণ জিআই ও পিভিসি পাইপ ‘অব্যবহৃত’ দেখিয়ে গোপনে নিলামে তোলা হয়।

তবে নিয়ম অনুযায়ী প্রকাশ্য নোটিশ, প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র ও মূল্য নির্ধারণ কমিটির সুপারিশ ছাড়াই নির্দিষ্ট একটি পক্ষকে সুবিধা দিতে গোপনে টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয় এমন অভিযোগ তুলেছে জেলার ঠিকাদাররা।
ঠিকাদারদের অভিযোগে আরো বলা হয়, বাজার মূল্য ও প্রকল্প মূল্য অনুযায়ী এসব পাইপের আনুমানিক মূল্য প্রায় ৫ কোটি টাকা হলেও মাত্র ১৯ লাখ টাকায় বিক্রি দেখানো হয়েছে। এতে করে রাষ্ট্রের কোটি কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জানতে চাইলে তদন্ত কর্মকর্তা চট্টগ্রাম সার্কেলের প্রকৌশলী মোহাম্মদ আলী আজগর বলেন, বিষয়টি এখন তদন্তাধীন।

ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ৭ কর্মদিবসের ভেতরে তদন্ত শেষ করতে বলেছে। লিখিত অভিযোগ পেলে ভালো হতো। সবকিছু ও কাগজপত্র যাচাই-বাচাই করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ড্যানিডা প্রকল্পের অর্থায়নে সাড়ে পাঁচ কোটি টাকার বিভিন্ন ধরনের পাইপ ও নির্মাণ সামগ্রী নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশের একটি গুদামে সংরক্ষিত ছিল।

এসব মালামাল কথিত দরপত্র আহ্বানের মাধ্যমে নামমাত্র একটি পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে নিলামে তোলা হয়। পরে নির্বাহী প্রকৌশলী ও অফিসের লোকজনের যোগসাজশে আওয়ামী লীগ নেতা শাহনাজসহ কয়েকজনের নামে মাত্র ১৮ লাখ ৮৫ হাজার টাকায় নিলাম দিয়ে কার্যাদেশের মাধ্যমে মালামালগুলো সুবর্ণচরের চরবাটা ও চর আমানউল্লা এলাকায় সরিয়ে নেওয়া হয়। এ ঘটনা জানাজানি হলে গত সোমবার দুপুরে ঠিকাদাররা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলীর কার্যালয়ে গেলে নির্বাহী প্রকৌশলী সাইফুল ইসলামসহ সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী অফিস রেখে সটকে যান।
ঠিকাদারদের অভিযোগ, দেড় ইঞ্চি ব্যাসের ৪৮ হাজার এবং তিন ইঞ্চি ব্যাসের ২৮ হাজার পাইপসহ প্রায় ১৫ লাখ ২০ হাজার ফুট বিভিন্ন মাপের পাইপ নিলামে বিক্রি করা হয়। যার আনুমানিক বাজার মূল্য ৫ কোটি ৫৫ লাখ টাকা।

কিন্তু এ তথ্য গোপন করে মাত্র ১৮ লাখ ৮৫ হাজার টাকায় বিক্রি করে সরকারের বিপুল অংকের টাকা নির্বাহী প্রকৌশলীসহ কর্মকর্তারা হাতিয়ে নিয়েছেন।