ঢাকা ০৭:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

শেষ দুই ম্যাচে জিতে ভারতের সিরিজ জয় ম্লান করল নিউজিল্যান্ড

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:৫৭:৪০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬ ১৬ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

হ্যামিল্টনের সেডন পার্কে সিরিজের পঞ্চম ও শেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ভারতকে ৭ উইকেটের ব্যবধানে হারিয়েছে নিউজিল্যান্ড। ভারতের দেওয়া ১৯১ রানের চ্যালেঞ্জিং স্কোর কিউইরা টপকে গেছে ১২ বল হাতে রেখেই। যদিও প্রথম তিন ম্যাচ জিতে আগেই সিরিজ নিজেদের করে নিয়েছে ভারত, কিন্তু শেষ দুই ম্যাচে জয়ের মাধ্যমে নিউজিল্যান্ড তাদের হারানো আত্মবিশ্বাস পুনরুদ্ধার করল। আগের তিন ম্যাচে দুই অঙ্কের রানও করতে পারেননি সাইফার্ট।

ম্যাচে বল হাতে ভারতকে নাজেহাল করে দেন অ্যাডাম মিলনে। এই পেসার তাঁর নির্ধারিত ৪ ওভারে মাত্র ১৯ রান খরচ করে ৪ উইকেট তুলে নেন। তাঁর নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের কারণেই ভারতীয় ব্যাটসম্যানরা বড় সংগ্রহের পথে বাধাগ্রস্ত হন। ম্যাচসেরার পুরস্কার পাওয়া মিলনে শুরুতেই ফেরান দুই ওপেনার অভিষেক শর্মা ও সঞ্জু স্যামসনকে। পরবর্তীতে নাথান স্মিথ ও ব্লেয়ার টিকনার দুটি করে উইকেট শিকার করে কিউইদের জয়ের পথ সুগম করেন। সিরিজজুড়ে দাপট দেখানো ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের আজ আটকে রাখেন মিলনে। অন্যদিকে ফিলিপসও দ্রুত রান তুলতে থাকেন।

টস হেরে প্রথমে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই বিপর্যয়ে পড়া ভারতকে টেনে তোলেন ইশান কিষান ও শ্রেয়াস আইয়ার।

কিষান ৩২ বলে ৬১ রান করেন, যার মাধ্যমে এক পঞ্জিকাবর্ষে ভারতের হয়ে সর্বোচ্চ টি-টোয়েন্টি রানের রেকর্ড গড়েন তিনি। বাংলাদেশ–অস্ট্রেলিয়ার হার, আফ্রিকার জয়: টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে হিসাব–নিকাশ কতটা বদলাল। সপ্তম ওভারের প্রথম বলে ৩০ রানে জীবন পান কিষান। বাউন্ডারিতে তাঁর ক্যাচ দুইবারের চেষ্টায় ধরলেও ফিন অ্যালেনের পা মাটিতে লেগে যাওয়ায় সেটি ছক্কা হয়ে যায়। সুযোগ কাজে লাগিয়ে ২৮ বলে ফিফটি করেন কিষান। কিন্তু স্মিথের ‘ফ্রন্ট ফুট নো বল’ হওয়ায় ৫ রানে জীবন পান তিলক।

মাইকেল ব্রেসওয়েলের এক ওভারে ২৭ রান নেওয়ার সময় শ্রেয়াস আইয়ারও মারমুখী ছিলেন। ওভারটিতে ২৭ রান তোলে ভারত।

২২ বলে ফিফটি করা শ্রেয়াস শেষ পর্যন্ত ৫০ রানে আউট হন। এছাড়া নমন ধির ৩৩ ও নিতিশ কুমার রেড্ডি ২২ রান সংগ্রহ করলে ভারত ১৯১ রানের পুঁজি পায়। সেঞ্চুরির খুব কাছে গিয়েও শেষ পর্যন্ত থামতে হয় তাঁকে।

রান তাড়ায় নেমে শুরুতেই ফিন অ্যালেনকে হারালেও টিম সাইফার্ট ও ড্যারিল মিচেল নিউজিল্যান্ডের ভিত শক্ত করেন। পাওয়ার প্লেতে তারা ৫৯ রান সংগ্রহ করেন। বরুন চক্রবর্তীর বলে মিচেল ২৯ রানে আউট হলে এই জুটির বিচ্ছেদ ঘটে। এরপর সাইফার্ট ও গ্লেন ফিলিপস দলের হাল ধরেন। দুর্দান্ত ফর্মে থাকা সাইফার্ট ৫০ বলে ৯৩ রান করেন। সেঞ্চুরি থেকে মাত্র ৭ রান দূরে থাকতে নিতিশ কুমার রেড্ডির বলে বোল্ড হন তিনি। রান তাড়ায় ব্যর্থতার বৃত্ত ভেঙে জ্বলে ওঠেন টিম সাইফার্ট। শ্রেয়াসের সঙ্গে তাঁর ৪৩ বলে ৯৩ রানের জুটি ভাঙে। এমন হারের দায় কি শুধুই নাজমুল–লিটনদের। জবাবে দ্বিতীয় ওভারেই ফিন অ্যালেনকে হারায় নিউজিল্যান্ড। মিচেল ২৯ রান করে ফিরলে বরুন চক্রবর্তী ভাঙেন তাঁদের ৭৩ রানের জুটি। ২৯ বলে ফিফটি করা এই ব্যাটসম্যান জ্যাকবসের সঙ্গে অবিচ্ছিন্ন ২৭ রানের জুটিতে করেন ২৬ রান।

নিউজিল্যান্ডের জয়ের প্রধান নায়ক গ্লেন ফিলিপস ৩৮ বলে ৬৫ রানের এক অপরাজিত ঝোড়ো ইনিংস খেলেন। তার এই ইনিংসে ছিল আটটি চার ও তিনটি ছক্কা। এই সিরিজের পারফরম্যান্সের সুবাদে ফিলিপস পাঁচ ম্যাচে মোট ৩৪১ রান করে সিরিজসেরা হয়েছেন। উল্লেখ্য, এটি দ্বিপক্ষীয় টি-টোয়েন্টি সিরিজে সর্বোচ্চ রানের বিশ্ব রেকর্ড। এর আগে ২০২৩ সালে ইংল্যান্ডের ফিল সল্ট ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৩৩১ রান করেছিলেন। তবে গ্লেন ফিলিপসের আরেকটি ঝোড়ো ইনিংসে জয় পেতে সমস্যা হয়নি নিউজিল্যান্ডের। ইনিংসে পাঁচটি ছক্কার সঙ্গে মেরেছেন ১১টি চার। এক সিরিজে ৩০০-এর বেশি রান আছে আর কেবল মোহাম্মদ রিজওয়ানের। ২০২২ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তাঁর রান ছিল ৩১৬।

উল্লেখ্য, ফিলিপস ও সাইফার্টের ৮৬ রানের জুটি নিউজিল্যান্ডের জয় প্রায় নিশ্চিত করে দেয়। সাইফার্ট আউট হওয়ার পর ফিলিপস এবং বেভন জ্যাকবস অবিচ্ছিন্ন ২৭ রানের জুটি গড়ে মাঠ ছাড়েন। সিরিজের শেষ ম্যাচে বড় ব্যবধানে জয়ের ফলে নিউজিল্যান্ড শিবিরে কিছুটা স্বস্তি ফিরল। আগামী বুধবার থেকে ভারত ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যকার পাঁচ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

শেষ দুই ম্যাচে জিতে ভারতের সিরিজ জয় ম্লান করল নিউজিল্যান্ড

আপডেট সময় : ০৬:৫৭:৪০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬

হ্যামিল্টনের সেডন পার্কে সিরিজের পঞ্চম ও শেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ভারতকে ৭ উইকেটের ব্যবধানে হারিয়েছে নিউজিল্যান্ড। ভারতের দেওয়া ১৯১ রানের চ্যালেঞ্জিং স্কোর কিউইরা টপকে গেছে ১২ বল হাতে রেখেই। যদিও প্রথম তিন ম্যাচ জিতে আগেই সিরিজ নিজেদের করে নিয়েছে ভারত, কিন্তু শেষ দুই ম্যাচে জয়ের মাধ্যমে নিউজিল্যান্ড তাদের হারানো আত্মবিশ্বাস পুনরুদ্ধার করল। আগের তিন ম্যাচে দুই অঙ্কের রানও করতে পারেননি সাইফার্ট।

ম্যাচে বল হাতে ভারতকে নাজেহাল করে দেন অ্যাডাম মিলনে। এই পেসার তাঁর নির্ধারিত ৪ ওভারে মাত্র ১৯ রান খরচ করে ৪ উইকেট তুলে নেন। তাঁর নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের কারণেই ভারতীয় ব্যাটসম্যানরা বড় সংগ্রহের পথে বাধাগ্রস্ত হন। ম্যাচসেরার পুরস্কার পাওয়া মিলনে শুরুতেই ফেরান দুই ওপেনার অভিষেক শর্মা ও সঞ্জু স্যামসনকে। পরবর্তীতে নাথান স্মিথ ও ব্লেয়ার টিকনার দুটি করে উইকেট শিকার করে কিউইদের জয়ের পথ সুগম করেন। সিরিজজুড়ে দাপট দেখানো ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের আজ আটকে রাখেন মিলনে। অন্যদিকে ফিলিপসও দ্রুত রান তুলতে থাকেন।

টস হেরে প্রথমে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই বিপর্যয়ে পড়া ভারতকে টেনে তোলেন ইশান কিষান ও শ্রেয়াস আইয়ার।

কিষান ৩২ বলে ৬১ রান করেন, যার মাধ্যমে এক পঞ্জিকাবর্ষে ভারতের হয়ে সর্বোচ্চ টি-টোয়েন্টি রানের রেকর্ড গড়েন তিনি। বাংলাদেশ–অস্ট্রেলিয়ার হার, আফ্রিকার জয়: টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে হিসাব–নিকাশ কতটা বদলাল। সপ্তম ওভারের প্রথম বলে ৩০ রানে জীবন পান কিষান। বাউন্ডারিতে তাঁর ক্যাচ দুইবারের চেষ্টায় ধরলেও ফিন অ্যালেনের পা মাটিতে লেগে যাওয়ায় সেটি ছক্কা হয়ে যায়। সুযোগ কাজে লাগিয়ে ২৮ বলে ফিফটি করেন কিষান। কিন্তু স্মিথের ‘ফ্রন্ট ফুট নো বল’ হওয়ায় ৫ রানে জীবন পান তিলক।

মাইকেল ব্রেসওয়েলের এক ওভারে ২৭ রান নেওয়ার সময় শ্রেয়াস আইয়ারও মারমুখী ছিলেন। ওভারটিতে ২৭ রান তোলে ভারত।

২২ বলে ফিফটি করা শ্রেয়াস শেষ পর্যন্ত ৫০ রানে আউট হন। এছাড়া নমন ধির ৩৩ ও নিতিশ কুমার রেড্ডি ২২ রান সংগ্রহ করলে ভারত ১৯১ রানের পুঁজি পায়। সেঞ্চুরির খুব কাছে গিয়েও শেষ পর্যন্ত থামতে হয় তাঁকে।

রান তাড়ায় নেমে শুরুতেই ফিন অ্যালেনকে হারালেও টিম সাইফার্ট ও ড্যারিল মিচেল নিউজিল্যান্ডের ভিত শক্ত করেন। পাওয়ার প্লেতে তারা ৫৯ রান সংগ্রহ করেন। বরুন চক্রবর্তীর বলে মিচেল ২৯ রানে আউট হলে এই জুটির বিচ্ছেদ ঘটে। এরপর সাইফার্ট ও গ্লেন ফিলিপস দলের হাল ধরেন। দুর্দান্ত ফর্মে থাকা সাইফার্ট ৫০ বলে ৯৩ রান করেন। সেঞ্চুরি থেকে মাত্র ৭ রান দূরে থাকতে নিতিশ কুমার রেড্ডির বলে বোল্ড হন তিনি। রান তাড়ায় ব্যর্থতার বৃত্ত ভেঙে জ্বলে ওঠেন টিম সাইফার্ট। শ্রেয়াসের সঙ্গে তাঁর ৪৩ বলে ৯৩ রানের জুটি ভাঙে। এমন হারের দায় কি শুধুই নাজমুল–লিটনদের। জবাবে দ্বিতীয় ওভারেই ফিন অ্যালেনকে হারায় নিউজিল্যান্ড। মিচেল ২৯ রান করে ফিরলে বরুন চক্রবর্তী ভাঙেন তাঁদের ৭৩ রানের জুটি। ২৯ বলে ফিফটি করা এই ব্যাটসম্যান জ্যাকবসের সঙ্গে অবিচ্ছিন্ন ২৭ রানের জুটিতে করেন ২৬ রান।

নিউজিল্যান্ডের জয়ের প্রধান নায়ক গ্লেন ফিলিপস ৩৮ বলে ৬৫ রানের এক অপরাজিত ঝোড়ো ইনিংস খেলেন। তার এই ইনিংসে ছিল আটটি চার ও তিনটি ছক্কা। এই সিরিজের পারফরম্যান্সের সুবাদে ফিলিপস পাঁচ ম্যাচে মোট ৩৪১ রান করে সিরিজসেরা হয়েছেন। উল্লেখ্য, এটি দ্বিপক্ষীয় টি-টোয়েন্টি সিরিজে সর্বোচ্চ রানের বিশ্ব রেকর্ড। এর আগে ২০২৩ সালে ইংল্যান্ডের ফিল সল্ট ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৩৩১ রান করেছিলেন। তবে গ্লেন ফিলিপসের আরেকটি ঝোড়ো ইনিংসে জয় পেতে সমস্যা হয়নি নিউজিল্যান্ডের। ইনিংসে পাঁচটি ছক্কার সঙ্গে মেরেছেন ১১টি চার। এক সিরিজে ৩০০-এর বেশি রান আছে আর কেবল মোহাম্মদ রিজওয়ানের। ২০২২ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তাঁর রান ছিল ৩১৬।

উল্লেখ্য, ফিলিপস ও সাইফার্টের ৮৬ রানের জুটি নিউজিল্যান্ডের জয় প্রায় নিশ্চিত করে দেয়। সাইফার্ট আউট হওয়ার পর ফিলিপস এবং বেভন জ্যাকবস অবিচ্ছিন্ন ২৭ রানের জুটি গড়ে মাঠ ছাড়েন। সিরিজের শেষ ম্যাচে বড় ব্যবধানে জয়ের ফলে নিউজিল্যান্ড শিবিরে কিছুটা স্বস্তি ফিরল। আগামী বুধবার থেকে ভারত ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যকার পাঁচ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।