ব্রাজিলের নতুন স্কোয়াড: পাঁচ নতুন মুখ ডাকলেন আনচেলত্তি
- আপডেট সময় : ০১:২৯:৩৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬ ১৭ বার পড়া হয়েছে
ব্রাজিল ফুটবলে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছেন প্রধান কোচ কার্লো আনচেলত্তি। বিশ্বকাপের ব্যর্থতা ঝেড়ে ফেলে ভবিষ্যতের শক্তিশালী দল গড়ার লক্ষ্যে তিনি এবার তরুণদের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) জাপান ও সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে নভেম্বরের আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচের জন্য ২৬ সদস্যের স্কোয়াড ঘোষণা করেছেন তিনি। এই দলে যেমন অভিজ্ঞরা রয়েছেন, তেমনি তরুণদের পদচারণায় মুখর হয়েছে ব্রাজিলীয় ক্যাম্প। ব্রাজিলের ফুটবলে শুরু হয়েছে নতুন প্রজন্ম গড়ার আরেকটি অধ্যায়।
ঘোষিত এই দলে ২৩ বছরের কম বয়সী খেলোয়াড়ের সংখ্যা ১৫ জন, যা বর্তমান প্রজন্মের ওপর আনচেলত্তির আস্থারই প্রতিফলন। এছাড়া পাঁচজন ফুটবলার প্রথমবারের মতো সিনিয়র জাতীয় দলের জার্সিতে ডাক পেয়েছেন। নতুনদের তালিকায় রয়েছেন করিন্থিয়ান্সের আন্দ্রে লুইজ, ক্রুজেইরোর জোনাথন জেসুস, শাখতার দোনেৎস্কের মারলন গোমেস ও আলিসন সান্তানা এবং ম্যানচেস্টার সিটির অ্যালান। আর ২৩ বছরের কম বয়সী খেলোয়াড় রয়েছেন ১৫ জন। জাতীয় দলে প্রথম ডাক পাওয়া অবশ্যই বড় অর্জন। এখন সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখার দায়িত্ব আনচেলত্তির।
দল ঘোষণায় একদিকে প্রতিষ্ঠিত তারকা ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, এন্দ্রিক ও রাফিনিয়ার মতো খেলোয়াড়দের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর চেষ্টা রয়েছে, অন্যদিকে নবীনদের আন্তর্জাতিক ফুটবলের আবহাওয়ার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। আনচেলত্তির মতে, নভেম্বরের এই দুটি ম্যাচ কেবল বছরের শেষ সূচি নয়, বরং ভবিষ্যতের সেলেসাওদের যাচাই করার বড় সুযোগ।
নতুনদের জন্য আন্তর্জাতিক ফুটবলের চাপ সামলানো বড় পরীক্ষা। বিশেষ করে আন্দ্রে লুইজ ও জোনাথন জেসুসের মতো ঘরোয়া লিগের পারফর্মারদের জন্য এটি নিজের সক্ষমতা প্রমাণের মঞ্চ। এছাড়া মারলন গোমেস ও আলিসন সান্তানার মতো ইউরোপে থাকা তরুণদের জন্য জাতীয় দলের এই সুযোগ তাদের ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। করিন্থিয়ান্সের আন্দ্রে লুইজের অন্তর্ভুক্তি ব্রাজিলের ঘরোয়া ফুটবলের প্রতিভা খোঁজার বিষয়টিকে সামনে এনেছে। আন্তর্জাতিক ফুটবলের গতি, প্রতিপক্ষের চাপ এবং কোচের কৌশলের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়াই হবে তাঁদের পরবর্তী পরীক্ষা। এ সিদ্ধান্তের ফলে কয়েকজন পরিচিত খেলোয়াড়ের অনুপস্থিতি নিয়ে আলোচনা হতে পারে।
ব্রাজিলীয় ফুটবলে তারুণ্যের সাথে অভিজ্ঞতার সমন্বয় বজায় রাখাটাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। ভিনিসিয়ুস ও রাফিনিয়া আক্রমণভাগে যে নেতৃত্ব দিচ্ছেন, তার সাথে এন্দ্রিক বা এস্তেভাওয়ের মতো উদীয়মানদের সংমিশ্রণ দলের শক্তির ভারসাম্য রক্ষা করবে। কোচ আনচেলত্তি শুধু তরুণদের দলে নিয়েই ক্ষান্ত নন, বরং সঠিক কৌশলে তাদের ব্যবহার করা এবং অভিজ্ঞদের সাথে বোঝাপড়া তৈরি করাই এখন তার প্রধান লক্ষ্য। তাঁদের নিয়মিত খেলার সুযোগ, সঠিক পজিশনে ব্যবহার এবং অভিজ্ঞদের সঙ্গে সমন্বয় গড়ে তোলাও জরুরি। এখানে শুধু জয়-পরাজয়ের হিসাব দেখলে চলবে না। আনচেলত্তি নতুনদের কতটা সময় দেন, কোন পজিশনে তাঁদের ব্যবহার করেন এবং প্রতিষ্ঠিত খেলোয়াড়দের সঙ্গে তাঁদের বোঝাপড়া কেমন হয়—এসব বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ।
দল গঠনে একটি লক্ষণীয় বিষয় হলো ফ্লামেঙ্গো ও পালমেইরাসের কোনো খেলোয়াড় নেই। ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশন (CBF) ঘরোয়া লিগের প্রতিযোগিতামূলক পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সাধারণত ঘরোয়া ক্লাব থেকে একজন করে খেলোয়াড় নেওয়ার নীতি থাকলেও, এবার বিশেষ পরিস্থিতিতে নতুনদের সুযোগ দিয়ে ভবিষ্যতের বিকল্প তৈরির পথ প্রশস্ত করা হয়েছে।
২৬ সদস্যের এই দলে গোলরক্ষক হিসেবে রয়েছেন বেন্তো, লুকাস পেরি ও পেদ্রো মরিস্কো।
রক্ষণভাগে রয়েছেন আর্থুর দিয়াস, কার্লোস অগুস্তো, দগলাস সান্তোস, গাব্রিয়েল মাগালিয়াইস, জাইর কুনিয়া, জোনাথন জেসুস, ভান্দেরসন, ভিতর রেইস ও ওয়েসলি।
মাঝমাঠে রাখা হয়েছে আন্দ্রে লুইজ, আন্দ্রে সান্তোস, ব্রুনো গিমারায়েস, দানিলো সান্তোস, গাব্রিয়েল বন্তেম্পো, জোয়াও গোমেস ও মারলন গোমেসকে। আক্রমণভাগে আছেন আলিসন সান্তানা, অ্যালান, এন্দ্রিক, এস্তেভাও, রাফিনিয়া, রায়ান ও ভিনিসিয়ুস জুনিয়র।
আগামী ১৪ নভেম্বর সিঙ্গাপুরের জাতীয় স্টেডিয়ামে জাপানের বিপক্ষে মাঠে নামবে ব্রাজিল। এরপর ১৭ নভেম্বর একই ভেন্যুতে তারা মুখোমুখি হবে সিঙ্গাপুরের। এই ম্যাচ দুটির মাধ্যমেই ২০২৬ সালের আন্তর্জাতিক সূচি শেষ করবে দলটি। জাপানের বিপক্ষে রক্ষণভাগ ও মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ এবং সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে নতুনদের কার্যকারিতা যাচাই করাই হবে আনচেলত্তির মূল কাজ। তিন দিন পর, ১৭ নভেম্বর, তাদের প্রতিপক্ষ স্বাগতিক সিঙ্গাপুর।
বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদের জন্য এবারের দলটি বেশ কৌতূহল উদ্দীপক। কারণ, প্রিয় তারকা ভিনিসিয়ুস বা রাফিনিয়ার পাশাপাশি আগামী দিনের নতুন তারকারা কতটা আলো ছড়াতে পারেন, সেটি দেখার অপেক্ষায় সবাই। শেষ পর্যন্ত পারফরম্যান্স এবং ধারাবাহিকতাই নির্ধারণ করবে এই নতুন প্রজন্ম সেলেসাওদের নেতৃত্বে কতটা শক্তিশালী ভূমিকা রাখতে পারে। তার এবারের দল ঘোষণায় অভিজ্ঞ তারকাদের পাশাপাশি জায়গা পেয়েছেন একঝাঁক তরুণ ফুটবলার। পেলে থেকে রোনালদো নাজারিও, রোনালদিনিয়ো থেকে নেইমার—প্রতিটি যুগে নতুন তারকারা নিজেদের যোগ্যতায় জাতীয় দলের নেতৃত্বে উঠে এসেছেন।


























