ঢাকা ০৫:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

হরমুজ পার হতে প্রতি ব্যারেল তেলে ১ ডলার নেবে ইরান

Live News Bangla71
  • আপডেট সময় : ০৩:১৪:৪৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল ২০২৬ ৯৭ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে যেসব জাহাজ পার হবে তাদের আগে থেকেই টোল পরিশোধ করতে বলেছে ইরান। আর এ টোল ক্রিপ্টো কারেন্সি বা চীনের মুদ্রা ইউয়ানে দিতে হবে বলেও জানিয়েছে বিপ্লবী গার্ড।

বৃহস্পতিবার (০৯ এপ্রিল) সংবাদমাধ্যম ওয়ালস্ট্রিট জার্নাল জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির চুক্তি চলা পর্যন্ত এভাবে টোল আদায় হবে।

অপরদিকে প্রতি ব্যারেল তেলের জন্য জাহাজগুলোকে ইরানকে ১ ডলার করে দিতে হবে বলে সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে জানিয়েছেন ইরানের এক বাণিজ্য প্রতিনিধি। আর যেসব জাহাজে কোনো পণ্য থাকবে না সেগুলোকে কোনো ফি দিতে হবে না।

প্রতি ব্যারেল তেল থেকে ১ ডলার নেওয়ার অর্থ হলো সুপার ট্যাংকার বা অনেক বিশাল জাহাজগুলোকে হরমুজ পার হতে কয়েক মিলিয়ন ডলার টোল দিতে হবে।

এক ব্যারেলে থাকে ১৫৯ লিটার তেল। প্রতি ব্যারেলে ১ ডলার করে নেওয়ার অর্থ ইরান প্রতি লিটার তেল থেকে বাংলাদেশের টাকার হিসেবে ৭৭ পয়সা করে টোল নেবে।

ইরান কি কি চাচ্ছে?

হরমুজ পার হতে ইমেইলের মাধ্যমে পার হওয়া জাহাজকে আগাম নোটিশ এবং জাহাজ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানাতে হবে।

১. ইরানি কর্তৃপক্ষ শুধুমাত্র এটির অনুমোদন দেবে।

২. টোল দিতে হবে আগে। যা দেওয়া যাবে বিটকয়েন এবং চীনা ইউয়ানে।

৩. ইরান উপকূলের কাছ দিয়ে জাহাজ চালাতে হবে। অর্থাৎ কাশেম এবং লারেক দ্বীপপুঞ্জের মধ্যবর্তী অঞ্চল দিয়ে জাহাজ নিতে হবে।

৪. ইরানের বন্ধুপ্রতিম দেশগুলোর জাহাজ সহজে পার হতে পারবে। আর শত্রুপূর্ণ দেশের জাহাজ পার হতে হয় দেরি হবে নয়ত যেতেই দেওয়া হবে না।

কেন ক্রিপ্টো ও ইউয়ানে টোল নেবে ইরান?

ইরান যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের দেশগুলোর কঠোর আর্থিক নিষেধাজ্ঞার মধ্যে রয়েছে। তাদের জন্য ডলারে টোল নেওয়া খুবই কঠিন হবে। অপরদিকে ক্রিপ্টো শনাক্ত করা যায় না। আর ইউয়ানে টোল নিলে পশ্চিমা ব্যাংকিং ব্যবস্থার ওপর তাদের নির্ভরশীল হতে হবে না।

আঞ্চলিক সূত্র জানিয়েছে, ইউয়ান দিয়ে ইরান ইতিমধ্যে টোল আদায় শুরু করেছে। যা উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর মধ্যে শঙ্কা তৈরি করেছে। তারা উদ্বিগ্ন যে, ইরানের এই ব্যবস্থার কারণে পশ্চিমা ব্যবস্থা থেকে তেলের বাণিজ্য হয়ত দূরে চলে যাবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

হরমুজ পার হতে প্রতি ব্যারেল তেলে ১ ডলার নেবে ইরান

আপডেট সময় : ০৩:১৪:৪৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল ২০২৬

গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে যেসব জাহাজ পার হবে তাদের আগে থেকেই টোল পরিশোধ করতে বলেছে ইরান। আর এ টোল ক্রিপ্টো কারেন্সি বা চীনের মুদ্রা ইউয়ানে দিতে হবে বলেও জানিয়েছে বিপ্লবী গার্ড।

বৃহস্পতিবার (০৯ এপ্রিল) সংবাদমাধ্যম ওয়ালস্ট্রিট জার্নাল জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির চুক্তি চলা পর্যন্ত এভাবে টোল আদায় হবে।

অপরদিকে প্রতি ব্যারেল তেলের জন্য জাহাজগুলোকে ইরানকে ১ ডলার করে দিতে হবে বলে সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে জানিয়েছেন ইরানের এক বাণিজ্য প্রতিনিধি। আর যেসব জাহাজে কোনো পণ্য থাকবে না সেগুলোকে কোনো ফি দিতে হবে না।

প্রতি ব্যারেল তেল থেকে ১ ডলার নেওয়ার অর্থ হলো সুপার ট্যাংকার বা অনেক বিশাল জাহাজগুলোকে হরমুজ পার হতে কয়েক মিলিয়ন ডলার টোল দিতে হবে।

এক ব্যারেলে থাকে ১৫৯ লিটার তেল। প্রতি ব্যারেলে ১ ডলার করে নেওয়ার অর্থ ইরান প্রতি লিটার তেল থেকে বাংলাদেশের টাকার হিসেবে ৭৭ পয়সা করে টোল নেবে।

ইরান কি কি চাচ্ছে?

হরমুজ পার হতে ইমেইলের মাধ্যমে পার হওয়া জাহাজকে আগাম নোটিশ এবং জাহাজ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানাতে হবে।

১. ইরানি কর্তৃপক্ষ শুধুমাত্র এটির অনুমোদন দেবে।

২. টোল দিতে হবে আগে। যা দেওয়া যাবে বিটকয়েন এবং চীনা ইউয়ানে।

৩. ইরান উপকূলের কাছ দিয়ে জাহাজ চালাতে হবে। অর্থাৎ কাশেম এবং লারেক দ্বীপপুঞ্জের মধ্যবর্তী অঞ্চল দিয়ে জাহাজ নিতে হবে।

৪. ইরানের বন্ধুপ্রতিম দেশগুলোর জাহাজ সহজে পার হতে পারবে। আর শত্রুপূর্ণ দেশের জাহাজ পার হতে হয় দেরি হবে নয়ত যেতেই দেওয়া হবে না।

কেন ক্রিপ্টো ও ইউয়ানে টোল নেবে ইরান?

ইরান যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের দেশগুলোর কঠোর আর্থিক নিষেধাজ্ঞার মধ্যে রয়েছে। তাদের জন্য ডলারে টোল নেওয়া খুবই কঠিন হবে। অপরদিকে ক্রিপ্টো শনাক্ত করা যায় না। আর ইউয়ানে টোল নিলে পশ্চিমা ব্যাংকিং ব্যবস্থার ওপর তাদের নির্ভরশীল হতে হবে না।

আঞ্চলিক সূত্র জানিয়েছে, ইউয়ান দিয়ে ইরান ইতিমধ্যে টোল আদায় শুরু করেছে। যা উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর মধ্যে শঙ্কা তৈরি করেছে। তারা উদ্বিগ্ন যে, ইরানের এই ব্যবস্থার কারণে পশ্চিমা ব্যবস্থা থেকে তেলের বাণিজ্য হয়ত দূরে চলে যাবে।