বিশ্বমঞ্চে ২৫ পুরস্কার জিতে চমক দেখালো কাতারি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘সনদ’
- আপডেট সময় : ০১:৫৬:২০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬ ১৫ বার পড়া হয়েছে
দুই ভাইয়ের খুনসুটি, তীব্র প্রতিযোগিতা এবং গভীর ভালোবাসার আবেগ নিয়ে নির্মিত কাতারি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘সনদ’ (SANAD) আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অভাবনীয় সাফল্য পেয়েছে। প্রখ্যাত নির্মাতা নূর আল-নাসর পরিচালিত এই চলচ্চিত্রটি এখন পর্যন্ত বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ৫০টি চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হয়েছে এবং ২৫টি মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার অর্জন করে বিশ্বমঞ্চে কাতারি সিনেমার পরিচিতি উজ্জ্বল করেছে।
চলচ্চিত্রটি লন্ডনের ‘লন্ডন ইন্ডিপেন্ডেন্ট ফিল্ম অ্যাওয়ার্ডস’ এবং ‘সুইডেন ফিল্ম অ্যাওয়ার্ডস’-এ সেরা স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। পাশাপাশি এটি ইতালির ‘মিলানো ইন্ডি মুভি অ্যাওয়ার্ডস’-এ সেরা চিত্রনাট্যের পুরস্কার জিতে নিয়েছে। এছাড়া সারায়েভো ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল, মেক্সিকোর গুয়ানাহুয়াতো ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল এবং ঢাকার আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হয়েও ছবিটি বিশ্বজুড়ে দর্শক ও সমালোচকদের প্রশংসা অর্জন করেছে। নিজ দেশ কাতারে জনপ্রিয় ‘আজয়াল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল’-এও এটি অফিসিয়ালি প্রদর্শিত হয়েছে।
আরবি ‘সনদ’ শব্দটির অর্থ হলো ‘আস্থা বা ভরসার জায়গা’। আলী ও জসিম নামের দুই ভাইয়ের সম্পর্কের টানাপোড়েন নিয়েই ছবির মূল গল্প। একটি সাধারণ প্র্যাংক বা কৌতুক কীভাবে ধীরে ধীরে প্রতিশোধের খেলায় রূপ নেয় এবং পরিণামে রক্তের সম্পর্ককে কঠিন পরীক্ষার মুখে ঠেলে দেয়, তা অত্যন্ত শৈল্পিক দক্ষতায় ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। হাসিখুশি মুহূর্ত, উত্তেজনা এবং আবেগের মিশেলে নির্মিত এই চলচ্চিত্রে দেখানো হয়েছে যে, নানা দ্বন্দ্ব সত্ত্বেও বিপদের মুহূর্তে একে অপরকে রক্ষা করার মানসিকতাই ভাইয়ের মূল শক্তি।
পরিচালক নূর আল-নাসর বলেন, “আমি সবসময় সাধারণ মানুষের জীবনের গল্পগুলোকে ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে দেখতে পছন্দ করি। ‘সনদ’-এর মাধ্যমে আমি ভাই-বোনের পারস্পরিক রাগ-অনুরাগ ও প্রতিযোগিতার পাশাপাশি একে অপরকে রক্ষা করার সুপ্ত মানসিকতাটি তুলে ধরতে চেয়েছি।” তিনি আরও জানান, এই বিশাল অর্জন পুরো টিমের। ছবিটির দক্ষ অভিনয়শিল্পী, ক্রু সদস্য এবং দোহা ফিল্ম ইনস্টিটিউট (DFI)-এর অসামান্য সমর্থন ও উৎসাহের কারণেই এই গল্পটি বিশ্বজুড়ে মানুষের হৃদয়ে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছে। ‘সনদ’-এর এই সাফল্য কাতারি চলচ্চিত্র শিল্পকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেল।














