পুরানো স্মৃতির আড্ডায় হারিয়ে যাওয়া শিল্পীদের খোঁজে সহকর্মীরা
- আপডেট সময় : ০৮:১৪:৫৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬ ১৫ বার পড়া হয়েছে
প্রায় এক দশক পর ফের একত্রিত হয়েছেন ‘আইসক্রিম’ সিনেমার মূল কুশীলবরা। সিনেমাটির মুক্তি এবং এর পরিচালক ও চরকির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেদওয়ান রনির জন্মদিন উপলক্ষ্যে এই পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত হয়। আড্ডায় অংশ নেন সিনেমার প্রধান তিন অভিনেতা শরীফুল রাজ, কুমার উদয় এবং নাজিফা তুষি। এছাড়া পরিচালক রায়হান রাফী ও প্রযোজক শাহরিয়ার শাকিলসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন। দীর্ঘ সময় পর প্রিয় সহকর্মীদের সঙ্গে দেখা হওয়ায় সবাই উচ্ছ্বসিত ছিলেন, তবে আড্ডার মাঝেই বিষাদ ছুঁয়ে যায় তাঁদের। কারণ, সিনেমার বেশ কয়েকজন অভিনয়শিল্পী আজ আর নেই। ভিডিও স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম চরকিতে মুক্তি পেয়েছে ‘আইসক্রিম’ সিনেমা।
স্মৃতির পাতায় ফিরে গিয়ে শরীফুল রাজ বলেন, ‘১০ বছর আগের সেই সময়টা খুব মিস করছিলাম। তখন ক্যারিয়ারের শুরুতে পরিচিতি তেমন ছিল না। তবে সেই শুটিংয়ে এটিএম শামসুজ্জামান ও দিতি ম্যাডামের স্নেহ পেয়েছিলাম। তাঁরা অভিনয়ের খুঁটিনাটি ও ক্যারিয়ার নিয়ে পরামর্শ দিতেন। তাঁদের চলে যাওয়াটা আমাদের জন্য ভীষণ ব্যথিত হওয়ার মতো।’ উল্লেখ্য, ২০২১ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি ঢাকার সূত্রাপুরে নিজ বাসভবনে শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন এটিএম শামসুজ্জামান। সিনেমাটিতে তিনি নাজিফা তুষির দাদার চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন। সেখানে তাঁদের সংস্পর্শে আসার সুযোগ মানেই অনেক বড় কিছু ছিল।
অন্যদিকে, সিনেমাটি মুক্তির আগেই চিরবিদায় নেন অভিনেত্রী পারভীন সুলতানা দিতি। তিনি এতে মায়ের চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন। একই সঙ্গে সিনেমার তরুণ অভিনেতা সায়েম সাদাতও অকালপ্রয়াত হন। ২০১৫ সালের ১১ মে রাতে সায়েম মারা যান। প্রয়াত দিতি ও সায়েমকে শ্রদ্ধা জানিয়ে তাঁদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে সিনেমাটি উৎসর্গ করা হয়েছিল। আড্ডায় তাদের নিয়ে কথা বলতে গিয়ে উদয় বলেন, ‘এটিএম শামসুজ্জামান স্যার অভিনয়ের সময় প্রতিটি সংলাপ ও এক্সপ্রেশন নিয়ে আমাদের শিখিয়ে দিতেন। তিনি সবসময় সততার সঙ্গে কাজ করার তাগিদ দিতেন। এমন অভিজ্ঞ গুণী শিল্পীদের সংস্পর্শ পাওয়া ছিল ভাগ্যের বিষয়। আমাদের বন্ধু সায়েমের অকালপ্রয়াণও গভীর ক্ষত হয়ে আছে।’ প্রয়াত এই অভিনয়শিল্পীরা এ আড্ডায় কিছুটা সময়ের জন্য প্রাণ হয়ে ওঠেন।
আড্ডার শেষ দিকে উদয় আরও বলেন, ‘সবাই মিলে কথা বলছিলাম, মনে হচ্ছে যেন এই সেদিনই আমরা শুটিং করলাম। এখন তাঁরা আমাদের মাঝে নেই। এক নিমেষেই আড্ডার আবহ বদলে গিয়ে মন খারাপ হয়ে গিয়েছিল।’ দীর্ঘ দিনের সহকর্মীদের হারানো এবং একসঙ্গে কাজের স্মৃতিগুলোই সেদিন আড্ডার মূল কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়িয়েছিল, যা উপস্থিত সবার মনে এক গভীর শূন্যতা তৈরি করে।

























