হঠাৎ সিদ্ধান্তে পাহাড়ের চূড়ায় মাশা, সঙ্গী হলেন অচেনা ভ্রমণপিপাসুরা
- আপডেট সময় : ০৭:৩১:০৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে
ভ্রমণপিপাসু সংগীতশিল্পী মাশা ইসলাম সুযোগ পেলেই প্রকৃতির মাঝে হারিয়ে যেতে পছন্দ করেন। তাঁর এই ভ্রমণের প্রতি টান ভক্তদের অজানা নয়। সম্প্রতি জার্মান গণমাধ্যম ডিডব্লিউ ট্রাভেলের বাংলাদেশ বিষয়ক সিরিজের সহ-সঞ্চালক হিসেবে কাজ শেষ করে তিনি নতুন কিছু ভাবছিলেন। ঠিক সেই সময় বান্দরবান যাওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে থাকা এক বন্ধুর ফোন পান তিনি। বন্ধুটি জরুরি কাজে আটকে যাওয়ায় মাশাকে সেই জায়গায় যাওয়ার প্রস্তাব দেন। তখন সময় ছিল বিকেল পাঁচটা। রাত আটটার বাস ধরতে হাতে ছিল মাত্র তিন ঘণ্টা, তার ওপর সন্ধ্যা ছয়টায় একটি মিটিংও ছিল। সব ঝামেলার তোয়াক্কা না করে ‘কী আছে জীবনে’ ভেবে ব্যাগ গুছিয়ে বান্দরবানের উদ্দেশ্যে রওনা হন তিনি। একটু ফুরসত মিললেই ছুটে যান প্রকৃতির কাছে। গায়িকার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অনুসারীমাত্রই সেটা জানেন। এক কাছের বন্ধু বান্দরবান যাচ্ছে ট্রেকিংয়ে। এর মধ্যেই ঘটল এমন কিছু, যাকে কেবল ‘সিনেম্যাটিক’ই বলা যায়। সামনে নতুন অ্যালবাম নিয়ে আসছেন মাশা।
দেশের বেসরকারিভাবে সর্বোচ্চ চূড়া সাকা হাফং ছিল এবার মাশার গন্তব্য। বান্দরবানের আলীকদম থেকে শুরু হওয়া এই দীর্ঘ ট্রেকিংয়ে তিনি পাড়ি দেন দুর্গম পথ। বাস থেকে নেমে সকালের নাশতা শেষে শুরু হয় মূল হাঁটা। প্রথম দিন পুরোটা পথ ট্রেকিং করে রাতে তারা পৌঁছান নিকোলাস পাড়ায়। সেখানে রাত কাটিয়ে পরের দিন ভোরে মাশা সাকা হাফংয়ের চূড়ায় আরোহণ করেন। ছুটির মৌসুম হওয়ায় চূড়ায় পর্যটকদের ভিড় থাকলেও পাহাড় থেকে ভোরের সূর্যোদয় দেখার অনুভূতি তাঁর স্মৃতিতে উজ্জ্বল হয়ে আছে। পূজার দীর্ঘ ছুটির আগে আবার মন ‘ছুট দিই’, ‘ছুট দিই’ করছে। একদল অচেনা অভিযাত্রীর সঙ্গে শুরু হলো অন্য রকম এক অভিযাত্রা। বুঝতেই পারছেন, পুরো রোলার কোস্টার জার্নি। তরুণ এই সংগীতশিল্পীর কাছে ট্রেকিং আসলে নিজেকেই চ্যালেঞ্জ করা।
ট্রেকিংকে নিজের মানসিক শক্তির পরীক্ষা হিসেবেই দেখেন মাশা। প্রতিকূল পরিবেশে সীমিত খাবার, অস্বাস্থ্যকর টয়লেট ব্যবস্থা আর নিয়মিত হাঁটার ধকল—সব মিলিয়ে এই চার দিনের অভিযান ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। তিনি জানান, প্রতি মুহূর্তেই মনে হচ্ছিল আর বুঝি পারব না, কিন্তু শেষ পর্যন্ত চূড়ায় ওঠার পর সব ক্লান্তি দূর হয়ে যায়। বিশেষ করে এবারের ট্যুরে তিনি একেবারেই অপরিচিত এক দলের সাথে যুক্ত হয়েছিলেন। শুরুতে সবাইকে না চিনলেও চার দিনের এই যাত্রায় দলের সদস্যদের দারুণ সহযোগিতা পেয়েছেন তিনি। অনেকেই তাঁকে দেখে অবাক হয়ে বলছিলেন, “আপু, আপনিও এসেছেন!” এবার সেখানেই ছিল মাশাদের চার দিনের অভিযান। ‘আমি যেহেতু সর্বশেষ সদস্য হিসেবে কনফার্ম হই, তাই সিট পড়ে বাসের একেবারে পেছনে। প্রতিকূল পরিবেশ, ঠিকঠাক খাবার নেই, পোশাক বদলানের জায়গা নেই, টয়লেট নেই। পাশাপাশি টানা হাঁটার চাপ তো আছেই। ‘ট্রেকিংয়ের চার দিনের মুহূর্তই ছিল চ্যালেঞ্জিং। এবারের ট্যুরে মাশা হুট করেই একটা ট্রাভেল গ্রুপের সঙ্গী হয়েছিলেন। এ অভিজ্ঞতাও ছিল দারুণ। ‘গ্রুপে যাঁরা ছিলেন, সবাই খুবই সাপোর্টিভ। শুধু আমাদের গ্রুপে নয়, ছুটিতে অনেকেই ঘুরতে গিয়েছিলেন। ওই গল্প থেকে হয়তো আমরা একটা ভাবনা নিয়ে কিছু একটা তৈরি করতে পারি, তাই না।
ভ্রমণের এই অভিজ্ঞতায় নেটওয়ার্কের বাইরে থাকাকে মাশা একদিকে আনন্দের মনে করলেও পরিবারের সদস্যদের দুশ্চিন্তার কথাও স্বীকার করেছেন। তবে এই অভিজ্ঞতা তাঁর শিল্পীসত্তাকেও সমৃদ্ধ করে। মাশা মনে করেন, ভ্রমণের গল্পগুলো অনেক সময় গানের নতুন ভাবনা তৈরিতে প্রেরণা জোগায়। ভ্রমণ, সঞ্চালনা ও সংগীত—সবই সমানতালে চালিয়ে যেতে চান তিনি। দুর্গাপূজায় মুক্তি পাওয়া সিনেমা চিরকুটের ‘চলে যেতে যেতে’ গানটির জনপ্রিয়তা তাঁকে উৎসাহিত করেছে। বর্তমানে নতুন অ্যালবামের কাজ নিয়ে ব্যস্ত তিনি, যার ‘শ্রাবণী রোদ’ গানটি মুক্তি পেয়েছে এবং ‘ফড়িংয়ের ছল’ গানটি আসার অপেক্ষায় রয়েছে। মাশা বললেন, সব সময় নোটিফিকেশনময় জীবন থেকে দূরে থাকা যেমন আনন্দের, তেমনি পরিবারের সদস্যরা চিন্তায়ও থাকেন। প্রকৃতির সান্নিধ্য কি তাঁর গানে প্রভাব ফেলে? ‘ভ্রমণ কিন্তু শিল্পীদের সমৃদ্ধ করে।
২ মিনিট ২২ সেকেন্ডের একটি ভিডিওর মাধ্যমে মাশা তাঁর এই পাহাড় জয়ের মুহূর্তগুলো ভক্তদের সাথে ভাগ করে নিয়েছেন, যা দ্রুতই নজর কেড়েছে। ভবিষ্যতে নিজের ইউটিউব চ্যানেলে ভ্রমণবিষয়ক ভ্লগ শুরু করার দীর্ঘদিনের ইচ্ছা রয়েছে তাঁর, যদিও কাজের চাপের কারণে তা এখনো বাস্তবায়ন করা হয়ে ওঠেনি। অভিনয়ের ক্ষেত্রেও ‘বনলতা এক্সপ্রেস’-এর মতো প্রজেক্টের পর নিজের দক্ষতা বাড়িয়ে গানের পাশাপাশি অভিনয়েও নিয়মিত হওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর।























