পর্যটক পেটানো সেই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নারী নির্যাতনের মামলা
- আপডেট সময় : ০৭:০২:০৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ১১৯ বার পড়া হয়েছে
২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে পর্যটকদের লাঠিপেটা করে আলোচনায় আসা তখনকার ফেনীর সোনাগাজী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) তসলিম হুসাইনের বিরুদ্ধে নারী নির্যাতনের মামলা করেছে তার স্ত্রী নুশরাত জাহান শমী।
গত ২৯ জানুয়ারি ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৬ এ মামলার আবেদন করা হয়। এরপর বাদীর বক্তব্য রেকর্ড করে ট্রাইব্যুনালের বিচারক কামরুন্নাহার বেগম রমনা থানার ওসিকে এই আবেদন এজাহার হিসেবে রুজু করার নির্দেশ দেন বলে বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) সাংবাদিকদের জানিয়েছেন নুশরাত জাহান শমীর আইনজীবী রাকিব হাসান।
আইনজীবী জানান, বৃহস্পতিবার ট্রাইব্যুনালের লিখিত আদেশটি পাওয়া গেছে।
একই সঙ্গে এদিন মামলার আবেদনটি রমনা থানার ওসিকে পাঠানো হয়েছে।
তিনি জানান, এএসপি তসলিম হুসাইন ছাড়াও তার মা, ভাই ও বোনসহ আরো ছয়জনকে মামলায় আসামি করা হয়েছে।
তসলিম হুসাইন এখন বান্দরবান জেলায় সহকারী পুলিশ সুপার (রুমা সার্কেল) হিসেবে কর্মরত রয়েছেন বলে মামলা সূত্রে জানা যায়।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, আসামির সঙ্গে উভয়ের পারিবারিক উদ্যোগে ২০২২ সালের ৩ জুন বাদিনীর মুসলিম শরিয়ত মোতাবেক এবং রেজিস্ট্রিকৃত নিকাহনামামূলে ৭ লাখ টাকা কাবিনমূলে দেনমোহর ধার্য করে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন।
গত বছরের ২২ সেপ্টেম্বর এএসপি তসলিম হুসাইন তার স্ত্রীকে তালাকনামা পাঠান। বাদিনীর আবেদনের প্রেক্ষিতে এই তালাকনামার কার্যক্রমের ওপর ঢাকার আদালত গত ১৮ জানুয়ারি স্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আদেশ দেন।
মামলায় বলা হয়, এএসপি তসলিম হুসাইনের সঙ্গে নাটোরের মেয়ে নুশরাত জাহান শমীর বিয়ে হওয়ার পর থেকেই অন্য নারীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তে এই অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তার শাস্তিমূলক বদলি আদেশও হয়।
বাদী অভিযোগ করেন, বিয়ের পর থেকে নানা সময় তসলিম হুসাইন তার স্ত্রীর কাছ থেকে নানাভাবে চাপ দিয়ে প্রায় ১৫ লাখ টাকার যৌতুক আদায় করে। টাকা না দিলেই শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করত। শারীরিক নির্যাতনের ঘটনা কয়েক দফা ঘটেছে। এক পর্যায়ে ছলে বলে কৌশলে বাদিনীর নিকট হতে কখনো গাড়ি ক্রয়, কখনো জমি ক্রয়, কখনো আসামিদের গ্রামের ভিটায় মাটি ভরাট, কখনো দামি মোবাইল ও ঘড়ি ক্রয়ের জন্য, কখনো রয়েন এনফিল্ড মোটরসাইকেল ক্রয়ের কথা বলে এমনকি অনলাইনে জুয়া খেলার জন্য ৫০০-১০০০ টাকাও যৌতুক গ্রহণ করেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, এএসপি তসলিম হুসাইন চারিত্রিক স্খলন, উগ্র, বেপরোয়া জীবনযাপন, সরকারি বাসায় তৎকালীন সরকার দলীয় গুন্ডা পান্ডার সঙ্গে একত্রে মদ্যপান, ইয়াবা সেবন এবং কক্সবাজারসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে হোটেলে নারী অতিথিসহ গমন, যৌতুকের কারণে নির্যাতন, জোরপূর্বক টাকা, স্বর্ণালংকার কেড়ে নেওয়া ইত্যাদি নানাবিধ নির্যাতন, অত্যাচার, উৎপাতে বাদিনী ১ নম্বর আসামি থেকে দূরত্ব বজায় রাখতে শুরু করে।
মামলায় বলা হয়, বাদী নিজেকে সেভ করার জন্য থানায় জিডিও করেছিলেন।
২০২৪ সালের ১৫ এপ্রিল নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার মুছাপুর ইউনিয়নের পর্যটনকেন্দ্র রেগুলেটর এলাকায় পর্যটকদের মারধরের অভিযোগ উঠে ফেনীর সোনাগাজী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) তসলিম হুসাইনের বিরুদ্ধে। তার মারধরে আহত হয়েন আলী আজগর (৩৬) তার ভাই পুলিশ কনস্টেবল ওমর ফারুক (৩১) ও আজগরের স্ত্রীসহ (২৭) বেশ কয়েকজন।























