ঢাকা ১২:৫৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

বেনাপোলে ভাইয়ের বসতভিটা বাঁশের বেড়ায় অবরুদ্ধ করে রাখলেন বড় ভাই

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১০:২৬:২৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

যশোরের বেনাপোল পোর্ট থানার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের রায়পুর গ্রামে পৈতৃক জমির মালিকানা ও সীমানা নির্ধারণ নিয়ে বড় ও ছোট ভাইয়ের মধ্যে তীব্র বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে। এর জেরে বড় ভাই আতিয়ার রহমান তার ছোট ভাই মশিয়ার রহমানের বসতঘরের একাংশ বাঁশের বেড়া দিয়ে ঘিরে ফেলেছেন। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। রোববার (১ নভেম্বর) সরেজমিনে দেখা যায়, মশিয়ার রহমানের বাড়ির অর্ধেক অংশ এভাবে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে।

ভুক্তভোগী মশিয়ার রহমান জানান, তাদের পৈতৃক সম্পত্তির মোট পরিমাণ ৮ শতক। এর মধ্যে বোনদের অংশের জমি তিনি কিনে নিয়েছেন। অপরদিকে, বড় ভাই আতিয়ার রহমানের নামে ১ দশমিক ৩৪ শতক জমি রয়েছে। আতিয়ারের বাবার অন্যত্র জমি থাকায় তিনি সেখানে বাড়ি নির্মাণ করে বসবাস করছেন। মশিয়ার ভাইয়ের এই অংশটুকু কিনে নেওয়ার প্রস্তাব দিলেও বড় ভাই তা মানেননি। তার অভিযোগ, স্থানীয় বিএনপি নেতা আমান উল্লাহর ইন্ধনে আতিয়ার জমি বিক্রি না করে বরং বসতঘরের একাংশ বাঁশের বেড়া দিয়ে আটকে দিয়েছেন। বড় ভাইয়ের আক্রমণাত্মক আচরণের আশঙ্কায় তাৎক্ষণিক কোনো সংঘাতে জড়াননি বলে জানান মশিয়ার।

এ বিষয়ে বাহাদুরপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি বরকত আলীসহ স্থানীয় বাসিন্দা মাজেদুল, মোখলেছ উদ্দিন খালেদ ও মোমেহউদ্দিন মুকুল জানান, বিরোধটি নিষ্পত্তির লক্ষ্যে একাধিকবার সালিশি বৈঠকের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আতিয়ার রহমান বৈঠকে উপস্থিত হওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও শেষ পর্যন্ত আসেননি। অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় এক প্রভাবশালী নেতার প্রভাবে তিনি এমন কঠোর অবস্থান নিয়েছেন।

অন্যদিকে, আতিয়ার রহমানের বাড়িতে গিয়ে তাকে পাওয়া না গেলেও তার স্ত্রী আরিজনা বেগম বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন। তিনি দাবি করেন, তারাও এই বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধান চান। আরিজনা বেগমের মতে, বাড়ির পেছনে থাকা একটি পুকুরের জায়গার সঙ্গে এই বিরোধপূর্ণ জমি বিনিময় করা গেলে সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব। বর্তমানে এলাকাবাসী ও স্থানীয় সচেতন ব্যক্তিরা পারিবারিক এই কলহ নিরসনে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা অবরুদ্ধ বসতভিটার স্বাভাবিক চলাচল ও ব্যবহার নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

বেনাপোলে ভাইয়ের বসতভিটা বাঁশের বেড়ায় অবরুদ্ধ করে রাখলেন বড় ভাই

আপডেট সময় : ১০:২৬:২৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬

যশোরের বেনাপোল পোর্ট থানার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের রায়পুর গ্রামে পৈতৃক জমির মালিকানা ও সীমানা নির্ধারণ নিয়ে বড় ও ছোট ভাইয়ের মধ্যে তীব্র বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে। এর জেরে বড় ভাই আতিয়ার রহমান তার ছোট ভাই মশিয়ার রহমানের বসতঘরের একাংশ বাঁশের বেড়া দিয়ে ঘিরে ফেলেছেন। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। রোববার (১ নভেম্বর) সরেজমিনে দেখা যায়, মশিয়ার রহমানের বাড়ির অর্ধেক অংশ এভাবে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে।

ভুক্তভোগী মশিয়ার রহমান জানান, তাদের পৈতৃক সম্পত্তির মোট পরিমাণ ৮ শতক। এর মধ্যে বোনদের অংশের জমি তিনি কিনে নিয়েছেন। অপরদিকে, বড় ভাই আতিয়ার রহমানের নামে ১ দশমিক ৩৪ শতক জমি রয়েছে। আতিয়ারের বাবার অন্যত্র জমি থাকায় তিনি সেখানে বাড়ি নির্মাণ করে বসবাস করছেন। মশিয়ার ভাইয়ের এই অংশটুকু কিনে নেওয়ার প্রস্তাব দিলেও বড় ভাই তা মানেননি। তার অভিযোগ, স্থানীয় বিএনপি নেতা আমান উল্লাহর ইন্ধনে আতিয়ার জমি বিক্রি না করে বরং বসতঘরের একাংশ বাঁশের বেড়া দিয়ে আটকে দিয়েছেন। বড় ভাইয়ের আক্রমণাত্মক আচরণের আশঙ্কায় তাৎক্ষণিক কোনো সংঘাতে জড়াননি বলে জানান মশিয়ার।

এ বিষয়ে বাহাদুরপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি বরকত আলীসহ স্থানীয় বাসিন্দা মাজেদুল, মোখলেছ উদ্দিন খালেদ ও মোমেহউদ্দিন মুকুল জানান, বিরোধটি নিষ্পত্তির লক্ষ্যে একাধিকবার সালিশি বৈঠকের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আতিয়ার রহমান বৈঠকে উপস্থিত হওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও শেষ পর্যন্ত আসেননি। অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় এক প্রভাবশালী নেতার প্রভাবে তিনি এমন কঠোর অবস্থান নিয়েছেন।

অন্যদিকে, আতিয়ার রহমানের বাড়িতে গিয়ে তাকে পাওয়া না গেলেও তার স্ত্রী আরিজনা বেগম বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন। তিনি দাবি করেন, তারাও এই বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধান চান। আরিজনা বেগমের মতে, বাড়ির পেছনে থাকা একটি পুকুরের জায়গার সঙ্গে এই বিরোধপূর্ণ জমি বিনিময় করা গেলে সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব। বর্তমানে এলাকাবাসী ও স্থানীয় সচেতন ব্যক্তিরা পারিবারিক এই কলহ নিরসনে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা অবরুদ্ধ বসতভিটার স্বাভাবিক চলাচল ও ব্যবহার নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছেন।