ইসরায়েলে রেকর্ড আসন পেয়েও আরব দলগুলোর অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ
- আপডেট সময় : ১১:৩০:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬ ১২ বার পড়া হয়েছে
ইসরায়েলের সর্বশেষ নির্বাচনে আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলো পার্লামেন্টে রেকর্ড ১৭টি আসন অর্জন করেছে, যা তাদের রাজনৈতিকভাবে শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে এসেছে।
তবে সরকার গঠনের ক্ষেত্রে দেশটির প্রধান ইহুদি দলগুলোর তীব্র আপত্তির মুখে পড়ায় তাদের এই সাফল্যের প্রভাব নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। বর্তমান রাজনৈতিক সমীকরণে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু কিংবা বিরোধী নেতা গাদি আইজেনকট—কারো নেতৃত্বাধীন জোটই এককভাবে সরকার গঠনের মতো প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। ফলে সরকার টিকিয়ে রাখতে আরব দলগুলোর সমর্থন বা ভূমিকা এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
আল-জাজিরার তথ্য অনুযায়ী, ১২০ আসনের পার্লামেন্টে আরব নেতৃত্বাধীন জয়েন্ট লিস্ট ও রা’আম দল যৌথভাবে ১৭টি আসন পেতে যাচ্ছে। অন্যদিকে, টাইমস অব ইসরায়েলের হিসাব অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন লিকুদ জোট ৫৩টি এবং আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট ৪৮টি আসন পেতে পারে। গাণিতিক হিসেবে, বিরোধী জোটের সঙ্গে আরব দলগুলো যুক্ত হলে তাদের আসনসংখ্যা ৬৬-তে পৌঁছাতে পারে, যা নেতানিয়াহুকে ক্ষমতাচ্যুত করার জন্য পর্যাপ্ত। এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে জয়েন্ট লিস্টের নেতা ইউসেফ জাবারিন সরকার পতনে ভূমিকা রাখার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবারের নির্বাচনের আংশিক ফল ও বুথফেরত জরিপ অনুযায়ী, আরব নেতৃত্বাধীন জয়েন্ট লিস্ট ও রা’আম দল দুটি মিলে ১২০ আসনের পার্লামেন্টে ১৭টি আসন পেতে পারে। অন্যদিকে, ইহুদি সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েল রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন লিকুদ জোট পেতে পারে ৫৩ আসন। আর আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট পেতে পারে ৪৮ আসন। এতে নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে সরকার গঠনের প্রয়োজনীয় ৬১ আসনের সীমা অতিক্রম করা সম্ভব।
নির্বাচনী এই ফলাফলকে ইসরায়েলের রাজনীতিতে আরব ভোটের পুনরুত্থান হিসেবে দেখছেন সাবেক রাষ্ট্রদূত ড্যানিয়েল শেকে। তার মতে, দেশটির বিশাল জনগোষ্ঠীর এই রাজনৈতিক শক্তিকে আর এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। তবে ফিলিস্তিনি রাজনৈতিক বিশ্লেষক আহমেদ নাজ্জার মনে করেন, আরব দলগুলোর সামনে বড় বাধা কেবল সংখ্যার অঙ্ক নয়, বরং ইহুদি দলগুলোর আদর্শিক অনীহা। তিনি জানান, গাদি আইজেনকট এরই মধ্যে আরব দলগুলোর প্রতি আনুগত্যের শর্ত জুড়ে দিয়েছেন এবং তাদের সমর্থনের সম্ভাবনা অনেকটা উড়িয়ে দিয়েছেন।
অন্যদিকে, রামাল্লাভিত্তিক প্যালেস্টিনিয়ান ফোরাম ফর ইসরায়েলি স্টাডিজের মহাপরিচালক হোনাইদা ঘানামের মতে, আরব নাগরিকদের প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলোকে সরকার গঠনের বৈধ অংশীদার হিসেবে মেনে নিতেই অধিকাংশ ইসরায়েলি দল রাজি নয়। এর আগে নেতানিয়াহু আরব সমর্থননির্ভর কোনো সরকারকে ‘লজ্জাজনক’ বলে অভিহিত করেছিলেন। একই সুরে সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট ও আভিগদর লিবারম্যান সরকারে কেবল জায়নবাদী দল রাখার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।
তবে ভিন্ন মত রয়েছে ডেমোক্র্যাটস নেতা ইয়ার গোলানের। তিনি আরব দলগুলোর সঙ্গে সহযোগিতার পক্ষে মত দিয়ে বলেছেন, ইহুদি ও আরব ভোটের মধ্যে বিভাজনের পুরনো নীতি আর কার্যকর নয়। রা’আমের নেতা মানসুর আব্বাসও সরকারে যোগ দেওয়ার আগ্রহ দেখিয়ে শর্ত দিয়েছেন যে, অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে আরব প্রতিনিধিদের দায়িত্ব দিতে হবে। এর আগে ২০২১ সালে রা’আমের সমর্থন নিয়ে নাফতালি বেনেট ও ইয়ার লাপিদের সরকার গঠিত হয়েছিল, যদিও সেই জোট দীর্ঘস্থায়ী হয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে সামনে চারটি পথ খোলা আছে: নতুন নির্বাচন, আরব দলগুলোর সমর্থনে সংখ্যালঘু সরকার, বিরোধী জোট থেকে নেতানিয়াহুর শিবিরে দলবদল অথবা জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠন। তবে শেষ পর্যন্ত আরব দলগুলো সরকার গঠনে কতটা কার্যকর প্রভাব বিস্তার করতে পারবে, তা পুরোপুরি নির্ভর করছে ইসরায়েলের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর পারস্পরিক সমঝোতার ওপর।





















