ঢাকা ০৫:৪৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

সর্বকালের সর্বোচ্চ আয় করা ১০ সিনেমা ও সাফল্যের নেপথ্যের রসায়ন

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১০:০২:৪৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬ ২৪ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

হলিউডের সিনেমা জগতে ব্লকবাস্টার তৈরির লড়াই দীর্ঘদিনের। ১৯৭৫ সালে স্টিভেন স্পিলবার্গের ‘জস’ সিনেমাটি উত্তর আমেরিকার বক্স অফিসে ১০ কোটি ডলারের বেশি আয় করে নতুন এক মাইলফলক তৈরি করেছিল। সেই সময় থেকেই বড় বাজেটের চলচ্চিত্র নির্মাণে প্রযোজনা সংস্থাগুলোর মূল লক্ষ্য হয়ে ওঠে দর্শকদের প্রেক্ষাগৃহে টেনে আনা এবং সর্বোচ্চ মুনাফা অর্জন করা। তবে কোনো সিনেমা কেন শতকোটি ডলারের ব্যবসা করে, তার পেছনে নির্দিষ্ট কোনো গাণিতিক সূত্র নেই। অর্থাৎ হলিউডের বাইরের একটি দেশের নিজস্ব সংস্কৃতি ও পুরাণভিত্তিক অ্যানিমেশনও যে বিশ্ব বক্স অফিসে বড় সাফল্য পেতে পারে, তার দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে ‘নে ঝা ২’।

ফোর্বসের বিনোদন প্রতিবেদক টিম ল্যামারস ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত বিশ্বব্যাপী বক্স অফিসের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখিয়েছেন যে, সিনেমার সাফল্যের পেছনে প্রধানত দুটি বিষয় কাজ করে—গল্পের সঙ্গে দর্শকদের আবেগীয় সংযোগ এবং পরিচিত চরিত্র বা জনপ্রিয় ফ্র্যাঞ্চাইজির আকর্ষণ। মুদ্রাস্ফীতির সঙ্গে টিকিটের দাম সমন্বয় না করে দেখা যায়, সর্বকালের সর্বোচ্চ আয় করা তালিকার ১০টি সিনেমার মধ্যে আটটিই ২০০ কোটি ডলারের মাইলফলক ছাড়িয়েছে, বাকি দুটিও এর কাছাকাছি রয়েছে। ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত বিশ্বব্যাপী বক্স অফিসের হিসাব বিশ্লেষণ করে তিনি দেখিয়েছেন, কীভাবে পরিচিত গল্প, জনপ্রিয় চরিত্র, আবেগ এবং দর্শনীয় নির্মাণশৈলী মিলে তৈরি হয়েছে একেকটি ব্লকবাস্টার। কাল্পনিক গ্রহ প্যান্ডোরার পটভূমিতে নির্মিত এই ছবিতে দেখা যায়, সাবেক সেনাসদস্য জেক সালি সেখানে গিয়ে এক ভিন্ন জীবন ও সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হন। নাভি জনগোষ্ঠীর সদস্য নেইতিরির প্রেমে পড়ে ধীরে ধীরে বদলে যায় তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি। পৃথিবীর মানুষের লোভ ও প্যান্ডোরার প্রাকৃতিক সম্পদ দখলের পরিকল্পনার বিরুদ্ধে দাঁড়ান তিনি। টিকিটের বাড়তি দাম দিয়েও দর্শকেরা সিনেমাটি দেখতে আগ্রহী হয়েছিলেন। এবার প্যান্ডোরার জলজ পরিবেশ ও মেটকায়িনা জনগোষ্ঠীকে ঘিরে এগিয়েছে গল্প।

তালিকার শীর্ষে রয়েছে ২০১৯ সালের এপ্রিলে মুক্তি পাওয়া ‘অ্যাভেঞ্জার্স: এন্ডগেম’, যার আয় ২৯৪ কোটি ১০ লাখ ডলার। শীর্ষে ‘অ্যাভেঞ্জার্স: এন্ডগেম’ ২০১৯ সালের ২৬ এপ্রিল মুক্তি পাওয়া ‘অ্যাভেঞ্জার্স: এন্ডগেম’ এখনো বিশ্বব্যাপী সর্বোচ্চ আয় করা সিনেমার তালিকায় শীর্ষে। তালিকার সেরা ১০ সিনেমার মধ্যে একমাত্র ‘টাইটানিক’ই সেরা চলচ্চিত্র বিভাগে অস্কার জিতেছে।

অ্যান্থনি ও জো রুশো পরিচালিত এই সিনেমাটি মার্ভেলের দীর্ঘদিনের গল্পের এক আবেগঘন পরিণতি ছিল।

২০০৮ সালে ‘আয়রন ম্যান’ থেকে শুরু হওয়া মহাকাব্যিক গল্পের প্রতি দর্শকদের যে টান তৈরি হয়েছিল, তা-ই ছিল এই বিশাল সাফল্যের মূল কারণ। ২০১৮ সালের ‘অ্যাভেঞ্জার্স: ইনফিনিটি ওয়ার’-এ থানোসের চুটকিতে অর্ধেক প্রাণ বিলীন হওয়ার পর অ্যাভেঞ্জারদের সময়ভ্রমণের মাধ্যমে পৃথিবীকে বাঁচানোর লড়াই দেখতে প্রেক্ষাগৃহে ভিড় করেছিলেন দর্শক। হারিয়ে যাওয়া মানুষদের ফিরিয়ে আনতে অ্যাভেঞ্জাররা শুরু করে সময়ভ্রমণের এক বিপজ্জনক অভিযান। যদিও ২০২৪ সালে মার্ভেল ঘোষণা দেয়, আবারও ফিরছেন অ্যাভেঞ্জাররা।

এর ঠিক পরেই ২৯২ কোটি ৩০ লাখ ডলার আয় নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে আছে জেমস ক্যামেরনের ২০০৯ সালের সৃষ্টি ‘অ্যাভাটার’। প্যান্ডোরা গ্রহের পটভূমিতে নির্মিত এই ছবি ত্রিমাত্রিক প্রযুক্তি এবং অভূতপূর্ব নির্মাণশৈলীর কারণে দর্শকপ্রিয়তা পায়। ১৩ বছর পর ২০২২ সালে মুক্তি পাওয়া এর সিক্যুয়েল ‘অ্যাভাটার: দ্য ওয়ে অব ওয়াটার’ও ২৩৩ কোটি ৪০ লাখ ডলার আয় করে। এখন পর্যন্ত ক্যামেরনের পরিচালিত তিনটি সিনেমা ২০০০ কোটি ডলারের বেশি আয়ের রেকর্ড গড়েছে, যার অন্যটি হলো ‘টাইটানিক’ (২২৬ কোটি ৪০ লাখ ডলার)। ‘অ্যাভেঞ্জার্স: এন্ডগেম’ (২০১৯)—২৯৪ কোটি ১০ লাখ ডলার। ‘অ্যাভাটার’ (২০০৯)—২৯২ কোটি ৩০ লাখ ডলার। ‘স্পাইডার-ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’ (২০২৬)—২৫১ কোটি ৯০ লাখ ডলার। ‘অ্যাভাটার: দ্য ওয়ে অব ওয়াটার’ (২০২২)—২৩৩ কোটি ৪০ লাখ ডলার। ‘নে ঝা ২’ (২০২৫)—২২৭ কোটি ডলার। 2019, 294, 10, 2009, 292, 30, 2026, 251, 90, 2022, 233, 40, 2, 2025, 227, 1997, 226, 2015, 207, 2018, 205, 20. ‘স্পাইডার-ম্যান: নো ওয়ে হোম’ (২০২১)—১৯২ কোটি ১০ লাখ ডলার। ‘জুটোপিয়া ২’ (২০২৫)—১৮৭ কোটি ডলার। আসছে ‘অ্যাভেঞ্জার্স: ডুমসডে’। ‘অ্যাভাটার’ বদলে দিয়েছিল সিনেমা দেখার অভিজ্ঞতা। প্রথম ছবির জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে সিক্যুয়েলটিও বিশ্বব্যাপী ২৩৩ কোটি ৪০ লাখ ডলার আয় করে। মোট আয়ের প্রায় ২২০ কোটি ৯০ লাখ ডলারই এসেছে দেশটি থেকে। বড় পর্দায় নতুন ধরনের অভিজ্ঞতা দিতে সক্ষম হয়েছিল ছবিটি।

তালিকায় পঞ্চম স্থানে রয়েছে চীনা অ্যানিমেশন সিনেমা ‘নে ঝা ২’। ইউ ইয়াং পরিচালিত এই অ্যাকশন-ফ্যান্টাসি ছবিটি ২০২৫ সালে মুক্তি পায় এবং বিশ্বব্যাপী ২২৭ কোটি ডলার আয় করে, যার বড় অংশই এসেছে চীনের বাজার থেকে। এছাড়া স্পাইডার-ম্যান ফ্র্যাঞ্চাইজির নতুন কিস্তি ‘স্পাইডার-ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’ (২০২৬) ২৫১ কোটি ৯০ লাখ ডলার আয় করে তালিকার তিন নম্বরে জায়গা করে নিয়েছে।

টাইটানিক সিনেমাটি এই তালিকায় কিছুটা ব্যতিক্রম, কারণ এটি সুপারহিরো বা ফ্যান্টাসিনির্ভর কোনো গল্পের ওপর ভিত্তি করে নির্মিত নয়। বরং ১৯১২ সালে আটলান্টিক মহাসাগরে ডুবে যাওয়া বাস্তব ঐতিহাসিক ঘটনার ওপর ভিত্তি করে তৈরি জ্যাক ও রোজের অমর প্রেমকাহিনিই দর্শকদের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছিল। ১১টি অস্কারজয়ী এই সিনেমাটি শিল্প ও বাণিজ্য—উভয় ক্ষেত্রেই অনন্য নজির স্থাপন করেছে। লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিও ও কেট উইন্সলেট অভিনীত ছবিটিতে জ্যাক ও রোজের প্রেমের গল্পের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ১৯১২ সালে আটলান্টিক মহাসাগরে ডুবে যাওয়া টাইটানিক জাহাজের মর্মান্তিক ঘটনা। কারণ, অন্য ছবিগুলোর অধিকাংশই কল্পবিজ্ঞান, সুপারহিরো কিংবা ফ্যান্টাসিনির্ভর।

বিশ্লেষণে দেখা যায়, শীর্ষ ১০টি সিনেমার মধ্যে নয়টিই কোনো প্রতিষ্ঠিত ফ্র্যাঞ্চাইজি বা জনপ্রিয় ঘরানার অংশ। প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানগুলো শত শত কোটি ডলার বিনিয়োগ করার সময় নতুন কোনো চরিত্রের ওপর ঝুঁকি নেওয়ার চেয়ে প্রতিষ্ঠিত গল্পের ওপরই বেশি ভরসা রাখে। তবে কেবল পরিচিত হলেই সাফল্য আসে না; দর্শকের সঙ্গে চরিত্রের আবেগের মেলবন্ধন না ঘটলে সেই সিনেমা দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলতে পারে না। শ্রেণিবৈষম্য, প্রেম, বিচ্ছেদ ও মৃত্যুর মতো সর্বজনীন আবেগ ছবিটিকে দর্শকের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তুলেছে। তবে শুধু পরিচিতি থাকলেই সাফল্য আসে না।

সুপারহিরো ঘরানার সিনেমার ক্ষেত্রে বর্তমানে কিছুটা ভাটা বা ‘সুপারহিরো ফ্যাটিগ’ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ‘অ্যাভেঞ্জার্স: এন্ডগেম’-এর পর মার্ভেলের অনেক ছবি আগের মতো দর্শক টানতে হিমশিম খাচ্ছে। যদিও ‘ডক্টর স্ট্রেঞ্জ ইন দ্য মাল্টিভার্স অব ম্যাডনেস’ ৯৫ কোটি ৫৭ লাখ ডলার এবং ‘ব্ল্যাক প্যান্থার: ওয়াকান্ডা ফরএভার’ ৮৫ কোটি ৯২ লাখ ডলার আয় করে কিছুটা আশার আলো দেখিয়েছে। মার্ভেল এখন তাদের পরিচিত তারকাদের ফিরিয়ে এনে হারানো জনপ্রিয়তা উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছে, যার প্রতিফলন দেখা যাবে ‘অ্যাভেঞ্জার্স: ডুমসডে’-তে। রবার্ট ডাউনি জুনিয়র, ক্রিস ইভানস, ক্রিস হেমসওয়ার্থ ও স্কারলেট জোহানসনের মতো তারকারা অভিনয় করেছেন এতে।

বক্স অফিসে সাফল্যের ক্ষেত্রে তারকার উপস্থিতি সব সময় নিশ্চয়তা দেয় না। ২০২৬ সালে টম ক্রুজ অভিনীত ‘ডিগার’ সিনেমাটি বাণিজ্যিকভাবে ব্যর্থ হওয়ার ঘটনা তার প্রমাণ। এর বিপরীতে অনেক সময় কম বাজেটের সিনেমাও বিশ্বব্যাপী বিশাল আয় করতে পারে। কেন পারসনসের স্বল্প বাজেটের হরর ছবি ‘ব্যাকরুমস’ নির্মাণে খরচ হয়েছিল মাত্র ১ কোটি ডলার, অথচ বিশ্বব্যাপী ছবিটি ৪০ কোটি ডলার আয় করেছিল। অর্থাৎ দর্শকের আগ্রহের জায়গাটি ধরতে পারাটাই বক্স অফিসের আসল রহস্য।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

সর্বকালের সর্বোচ্চ আয় করা ১০ সিনেমা ও সাফল্যের নেপথ্যের রসায়ন

আপডেট সময় : ১০:০২:৪৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬

হলিউডের সিনেমা জগতে ব্লকবাস্টার তৈরির লড়াই দীর্ঘদিনের। ১৯৭৫ সালে স্টিভেন স্পিলবার্গের ‘জস’ সিনেমাটি উত্তর আমেরিকার বক্স অফিসে ১০ কোটি ডলারের বেশি আয় করে নতুন এক মাইলফলক তৈরি করেছিল। সেই সময় থেকেই বড় বাজেটের চলচ্চিত্র নির্মাণে প্রযোজনা সংস্থাগুলোর মূল লক্ষ্য হয়ে ওঠে দর্শকদের প্রেক্ষাগৃহে টেনে আনা এবং সর্বোচ্চ মুনাফা অর্জন করা। তবে কোনো সিনেমা কেন শতকোটি ডলারের ব্যবসা করে, তার পেছনে নির্দিষ্ট কোনো গাণিতিক সূত্র নেই। অর্থাৎ হলিউডের বাইরের একটি দেশের নিজস্ব সংস্কৃতি ও পুরাণভিত্তিক অ্যানিমেশনও যে বিশ্ব বক্স অফিসে বড় সাফল্য পেতে পারে, তার দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে ‘নে ঝা ২’।

ফোর্বসের বিনোদন প্রতিবেদক টিম ল্যামারস ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত বিশ্বব্যাপী বক্স অফিসের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখিয়েছেন যে, সিনেমার সাফল্যের পেছনে প্রধানত দুটি বিষয় কাজ করে—গল্পের সঙ্গে দর্শকদের আবেগীয় সংযোগ এবং পরিচিত চরিত্র বা জনপ্রিয় ফ্র্যাঞ্চাইজির আকর্ষণ। মুদ্রাস্ফীতির সঙ্গে টিকিটের দাম সমন্বয় না করে দেখা যায়, সর্বকালের সর্বোচ্চ আয় করা তালিকার ১০টি সিনেমার মধ্যে আটটিই ২০০ কোটি ডলারের মাইলফলক ছাড়িয়েছে, বাকি দুটিও এর কাছাকাছি রয়েছে। ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত বিশ্বব্যাপী বক্স অফিসের হিসাব বিশ্লেষণ করে তিনি দেখিয়েছেন, কীভাবে পরিচিত গল্প, জনপ্রিয় চরিত্র, আবেগ এবং দর্শনীয় নির্মাণশৈলী মিলে তৈরি হয়েছে একেকটি ব্লকবাস্টার। কাল্পনিক গ্রহ প্যান্ডোরার পটভূমিতে নির্মিত এই ছবিতে দেখা যায়, সাবেক সেনাসদস্য জেক সালি সেখানে গিয়ে এক ভিন্ন জীবন ও সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হন। নাভি জনগোষ্ঠীর সদস্য নেইতিরির প্রেমে পড়ে ধীরে ধীরে বদলে যায় তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি। পৃথিবীর মানুষের লোভ ও প্যান্ডোরার প্রাকৃতিক সম্পদ দখলের পরিকল্পনার বিরুদ্ধে দাঁড়ান তিনি। টিকিটের বাড়তি দাম দিয়েও দর্শকেরা সিনেমাটি দেখতে আগ্রহী হয়েছিলেন। এবার প্যান্ডোরার জলজ পরিবেশ ও মেটকায়িনা জনগোষ্ঠীকে ঘিরে এগিয়েছে গল্প।

তালিকার শীর্ষে রয়েছে ২০১৯ সালের এপ্রিলে মুক্তি পাওয়া ‘অ্যাভেঞ্জার্স: এন্ডগেম’, যার আয় ২৯৪ কোটি ১০ লাখ ডলার। শীর্ষে ‘অ্যাভেঞ্জার্স: এন্ডগেম’ ২০১৯ সালের ২৬ এপ্রিল মুক্তি পাওয়া ‘অ্যাভেঞ্জার্স: এন্ডগেম’ এখনো বিশ্বব্যাপী সর্বোচ্চ আয় করা সিনেমার তালিকায় শীর্ষে। তালিকার সেরা ১০ সিনেমার মধ্যে একমাত্র ‘টাইটানিক’ই সেরা চলচ্চিত্র বিভাগে অস্কার জিতেছে।

অ্যান্থনি ও জো রুশো পরিচালিত এই সিনেমাটি মার্ভেলের দীর্ঘদিনের গল্পের এক আবেগঘন পরিণতি ছিল।

২০০৮ সালে ‘আয়রন ম্যান’ থেকে শুরু হওয়া মহাকাব্যিক গল্পের প্রতি দর্শকদের যে টান তৈরি হয়েছিল, তা-ই ছিল এই বিশাল সাফল্যের মূল কারণ। ২০১৮ সালের ‘অ্যাভেঞ্জার্স: ইনফিনিটি ওয়ার’-এ থানোসের চুটকিতে অর্ধেক প্রাণ বিলীন হওয়ার পর অ্যাভেঞ্জারদের সময়ভ্রমণের মাধ্যমে পৃথিবীকে বাঁচানোর লড়াই দেখতে প্রেক্ষাগৃহে ভিড় করেছিলেন দর্শক। হারিয়ে যাওয়া মানুষদের ফিরিয়ে আনতে অ্যাভেঞ্জাররা শুরু করে সময়ভ্রমণের এক বিপজ্জনক অভিযান। যদিও ২০২৪ সালে মার্ভেল ঘোষণা দেয়, আবারও ফিরছেন অ্যাভেঞ্জাররা।

এর ঠিক পরেই ২৯২ কোটি ৩০ লাখ ডলার আয় নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে আছে জেমস ক্যামেরনের ২০০৯ সালের সৃষ্টি ‘অ্যাভাটার’। প্যান্ডোরা গ্রহের পটভূমিতে নির্মিত এই ছবি ত্রিমাত্রিক প্রযুক্তি এবং অভূতপূর্ব নির্মাণশৈলীর কারণে দর্শকপ্রিয়তা পায়। ১৩ বছর পর ২০২২ সালে মুক্তি পাওয়া এর সিক্যুয়েল ‘অ্যাভাটার: দ্য ওয়ে অব ওয়াটার’ও ২৩৩ কোটি ৪০ লাখ ডলার আয় করে। এখন পর্যন্ত ক্যামেরনের পরিচালিত তিনটি সিনেমা ২০০০ কোটি ডলারের বেশি আয়ের রেকর্ড গড়েছে, যার অন্যটি হলো ‘টাইটানিক’ (২২৬ কোটি ৪০ লাখ ডলার)। ‘অ্যাভেঞ্জার্স: এন্ডগেম’ (২০১৯)—২৯৪ কোটি ১০ লাখ ডলার। ‘অ্যাভাটার’ (২০০৯)—২৯২ কোটি ৩০ লাখ ডলার। ‘স্পাইডার-ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’ (২০২৬)—২৫১ কোটি ৯০ লাখ ডলার। ‘অ্যাভাটার: দ্য ওয়ে অব ওয়াটার’ (২০২২)—২৩৩ কোটি ৪০ লাখ ডলার। ‘নে ঝা ২’ (২০২৫)—২২৭ কোটি ডলার। 2019, 294, 10, 2009, 292, 30, 2026, 251, 90, 2022, 233, 40, 2, 2025, 227, 1997, 226, 2015, 207, 2018, 205, 20. ‘স্পাইডার-ম্যান: নো ওয়ে হোম’ (২০২১)—১৯২ কোটি ১০ লাখ ডলার। ‘জুটোপিয়া ২’ (২০২৫)—১৮৭ কোটি ডলার। আসছে ‘অ্যাভেঞ্জার্স: ডুমসডে’। ‘অ্যাভাটার’ বদলে দিয়েছিল সিনেমা দেখার অভিজ্ঞতা। প্রথম ছবির জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে সিক্যুয়েলটিও বিশ্বব্যাপী ২৩৩ কোটি ৪০ লাখ ডলার আয় করে। মোট আয়ের প্রায় ২২০ কোটি ৯০ লাখ ডলারই এসেছে দেশটি থেকে। বড় পর্দায় নতুন ধরনের অভিজ্ঞতা দিতে সক্ষম হয়েছিল ছবিটি।

তালিকায় পঞ্চম স্থানে রয়েছে চীনা অ্যানিমেশন সিনেমা ‘নে ঝা ২’। ইউ ইয়াং পরিচালিত এই অ্যাকশন-ফ্যান্টাসি ছবিটি ২০২৫ সালে মুক্তি পায় এবং বিশ্বব্যাপী ২২৭ কোটি ডলার আয় করে, যার বড় অংশই এসেছে চীনের বাজার থেকে। এছাড়া স্পাইডার-ম্যান ফ্র্যাঞ্চাইজির নতুন কিস্তি ‘স্পাইডার-ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’ (২০২৬) ২৫১ কোটি ৯০ লাখ ডলার আয় করে তালিকার তিন নম্বরে জায়গা করে নিয়েছে।

টাইটানিক সিনেমাটি এই তালিকায় কিছুটা ব্যতিক্রম, কারণ এটি সুপারহিরো বা ফ্যান্টাসিনির্ভর কোনো গল্পের ওপর ভিত্তি করে নির্মিত নয়। বরং ১৯১২ সালে আটলান্টিক মহাসাগরে ডুবে যাওয়া বাস্তব ঐতিহাসিক ঘটনার ওপর ভিত্তি করে তৈরি জ্যাক ও রোজের অমর প্রেমকাহিনিই দর্শকদের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছিল। ১১টি অস্কারজয়ী এই সিনেমাটি শিল্প ও বাণিজ্য—উভয় ক্ষেত্রেই অনন্য নজির স্থাপন করেছে। লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিও ও কেট উইন্সলেট অভিনীত ছবিটিতে জ্যাক ও রোজের প্রেমের গল্পের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ১৯১২ সালে আটলান্টিক মহাসাগরে ডুবে যাওয়া টাইটানিক জাহাজের মর্মান্তিক ঘটনা। কারণ, অন্য ছবিগুলোর অধিকাংশই কল্পবিজ্ঞান, সুপারহিরো কিংবা ফ্যান্টাসিনির্ভর।

বিশ্লেষণে দেখা যায়, শীর্ষ ১০টি সিনেমার মধ্যে নয়টিই কোনো প্রতিষ্ঠিত ফ্র্যাঞ্চাইজি বা জনপ্রিয় ঘরানার অংশ। প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানগুলো শত শত কোটি ডলার বিনিয়োগ করার সময় নতুন কোনো চরিত্রের ওপর ঝুঁকি নেওয়ার চেয়ে প্রতিষ্ঠিত গল্পের ওপরই বেশি ভরসা রাখে। তবে কেবল পরিচিত হলেই সাফল্য আসে না; দর্শকের সঙ্গে চরিত্রের আবেগের মেলবন্ধন না ঘটলে সেই সিনেমা দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলতে পারে না। শ্রেণিবৈষম্য, প্রেম, বিচ্ছেদ ও মৃত্যুর মতো সর্বজনীন আবেগ ছবিটিকে দর্শকের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তুলেছে। তবে শুধু পরিচিতি থাকলেই সাফল্য আসে না।

সুপারহিরো ঘরানার সিনেমার ক্ষেত্রে বর্তমানে কিছুটা ভাটা বা ‘সুপারহিরো ফ্যাটিগ’ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ‘অ্যাভেঞ্জার্স: এন্ডগেম’-এর পর মার্ভেলের অনেক ছবি আগের মতো দর্শক টানতে হিমশিম খাচ্ছে। যদিও ‘ডক্টর স্ট্রেঞ্জ ইন দ্য মাল্টিভার্স অব ম্যাডনেস’ ৯৫ কোটি ৫৭ লাখ ডলার এবং ‘ব্ল্যাক প্যান্থার: ওয়াকান্ডা ফরএভার’ ৮৫ কোটি ৯২ লাখ ডলার আয় করে কিছুটা আশার আলো দেখিয়েছে। মার্ভেল এখন তাদের পরিচিত তারকাদের ফিরিয়ে এনে হারানো জনপ্রিয়তা উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছে, যার প্রতিফলন দেখা যাবে ‘অ্যাভেঞ্জার্স: ডুমসডে’-তে। রবার্ট ডাউনি জুনিয়র, ক্রিস ইভানস, ক্রিস হেমসওয়ার্থ ও স্কারলেট জোহানসনের মতো তারকারা অভিনয় করেছেন এতে।

বক্স অফিসে সাফল্যের ক্ষেত্রে তারকার উপস্থিতি সব সময় নিশ্চয়তা দেয় না। ২০২৬ সালে টম ক্রুজ অভিনীত ‘ডিগার’ সিনেমাটি বাণিজ্যিকভাবে ব্যর্থ হওয়ার ঘটনা তার প্রমাণ। এর বিপরীতে অনেক সময় কম বাজেটের সিনেমাও বিশ্বব্যাপী বিশাল আয় করতে পারে। কেন পারসনসের স্বল্প বাজেটের হরর ছবি ‘ব্যাকরুমস’ নির্মাণে খরচ হয়েছিল মাত্র ১ কোটি ডলার, অথচ বিশ্বব্যাপী ছবিটি ৪০ কোটি ডলার আয় করেছিল। অর্থাৎ দর্শকের আগ্রহের জায়গাটি ধরতে পারাটাই বক্স অফিসের আসল রহস্য।