মধ্যপ্রাচ্য উত্তেজনায় ব্যাংকগুলোতে বাড়ছে মার্কিন ডলারের দর
- আপডেট সময় : ০৪:১৩:২৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬ ১৬ বার পড়া হয়েছে
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার জেরে জ্বালানি তেল ও গ্যাস আমদানির ঋণপত্র বা এলসি পরিশোধের বাড়তি চাপে দেশের ব্যাংক খাতে মার্কিন ডলারের মূল্য আরও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারে মঙ্গলবার প্রতি ডলারের বিনিময়মূল্য বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ১২৩ টাকা ৮৭ পয়সায়। এর আগের কার্যদিবসে যা ছিল ১২৩ টাকা ৭৫ পয়সা। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, আন্তঃব্যাংক লেনদেনে মঙ্গলবার প্রতি ডলারের বিনিময় হার বেড়ে দাঁড়ায় ১২৩ টাকা ৮৭ পয়সায়, যা সোমবার বেড়ে হয়েছিল ১২৩ টাকা ৭৫ পয়সা। ডলারের বিনিময় মূল্য বৃদ্ধির পেছনের কারণ হিসেবে জ্বালানি তেল ও গ্যাস আমদানির মূল্য পরিশোধের অতিরিক্ত চাপের কথা জানিয়েছে ব্যাংকগুলো। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, সরকার তেল ও গ্যাস আমদানির পাওনা পরিশোধ করায় বাজারে প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি হচ্ছে।
বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত রোববার ডলারের দর ছিল ১২৩ টাকা ৭৩ পয়সা এবং এর এক সপ্তাহ আগে এই হার ছিল ১২৩ টাকা ৪৫ পয়সা।
বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোও বাড়তি দরে মুদ্রা লেনদেন করছে। ইস্টার্ন ব্যাংক গতকাল ডলারের সর্বোচ্চ বিক্রয়মূল্য ১২৩ টাকা ৯৮ পয়সা এবং ক্রয়মূল্য ১২২ টাকা ৯৮ পয়সা নির্ধারণ করে, যা আগের দিন ছিল যথাক্রমে ১২৩ টাকা ৯৫ পয়সা ও ১২২ টাকা ৯৫ পয়সা। এছাড়া রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংক নগদ লেনদেনের ক্ষেত্রে ডলারের বিক্রয়মূল্য ১২৩ টাকা ৯০ পয়সা এবং ক্রয়মূল্য ১২২ টাকা ৬৩ থেকে ৯০ পয়সার মধ্যে নির্ধারণ করেছে।
ব্যাংক খাত সংশ্লিষ্টরা জানান, বিশ্ববাজারে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির কারণে আমদানির বাড়তি ব্যয় মেটাতে গিয়ে ব্যাংকগুলোর ওপর বৈদেশিক মুদ্রার তীব্র চাপ তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাস অর্থাৎ জুলাই ও আগস্টে আমদানি ব্যয় গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১২ শতাংশ বেড়ে ১২ দশমিক ২০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছে। এর মধ্যে শুধু জ্বালানি পণ্য আমদানিতে ব্যয় দ্বিগুণ হয়ে ২ দশমিক ৪৯ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও কর্মকর্তাদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে উত্তেজনা চলায় বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বাড়ায় আমদানি ব্যয় বেড়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক কর্মকর্তা জানান, বাজারে ডলার কেনাবেচার পরিমাণ প্রায় কাছাকাছি থাকলেও মাসের শেষভাগে এসে সাধারণত আমদানি বিল পরিশোধের চাপ বহুলাংশে বেড়ে যায়। তিনি আরও উল্লেখ করেন, মাসের শেষদিকে রেমিট্যান্স প্রবাহ সামান্য শ্লথ হওয়ায় মুদ্রাবাজারে সাময়িক ভারসাম্যহীনতা দেখা দেয়। তবে চলতি মাসের ১ থেকে ২৪ তারিখ পর্যন্ত দেশে ২ দশমিক ১৩ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ২ বিলিয়ন ডলার। এতে তার ব্যাংকও কিছুটা ডলার সংকটের মুখোমুখি হচ্ছে বলে জানান তিনি।
সামগ্রিক বৈদেশিক মুদ্রা বাজারে সাময়িক অস্থিরতা বিরাজ করলেও দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ নিয়ে কোনো অস্বস্তি নেই বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল বা আইএমএফের বিপিএম৬ মানদণ্ড অনুযায়ী, গত ১৯ অক্টোবর দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩১ দশমিক ৫৪ বিলিয়ন ডলার। গত বছরের একই সময়ে এই রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ২৬ দশমিক ৩৪ বিলিয়ন ডলার।
























