আইনজীবী আলিফ হত্যা মামলা: চিন্ময় কৃষ্ণ দাস সহ ৩৯ আসামির বিচার শুরু
- আপডেট সময় : ০৫:০৫:৩৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬ ৮৬ বার পড়া হয়েছে
মাথায় হেলমেট, ওপরে ছাতা ধরে আছেন একজন পুলিশ সদস্য। এভাবেই কড়া নিরাপত্তার মধ্যে চট্টগ্র্রামে আইনজীবী হত্যা মামলায় আদালতে হাজির করা হয় চিন্ময় দাসকে।চট্টগ্রামে আইনজীবী সাইফুল ইসলামকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যার মামলায় সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাসসহ ৩৯ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছেন আদালত। আজ সোমবার চট্টগ্রাম বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক জাহিদুল হক শুনানি শেষে এই আদেশ দেন।
দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি এস ইউ এম নুরুল ইসলাম আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘চিন্ময়সহ ৩৯ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছেন আদালত। আগামী ধার্য দিন থেকে সাক্ষ্য নেওয়া শুরু হবে।’আলোচিত এই হত্যা মামলার শুনানিকে ঘিরে চট্টগ্রামের আদালতপাড়ায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। মূল ফটকে বসানো হয় তল্লাশিচৌকি। এতে আদালতের আশপাশের কয়েক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে যানজটের দুর্ভোগে পড়তে হয় মানুষকে। কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে সকাল পৌনে ১০টার দিকে চিন্ময়সহ এই মামলার ২৩ আসামিকে চট্টগ্রাম কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। মামলার বাকি ১৬ জন পলাতক।
শুনানিতে চিন্ময়কে নির্দোষ দাবি করে তাঁকে মামলা থেকে অব্যাহতির জন্য আবেদন করেন তাঁর আইনজীবী আইনজীবী অপূর্ব কুমার ভট্টাচার্য। এ সময় রাষ্ট্রপক্ষ এতে আপত্তি জানায়। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত ৩৯ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। এর আগে আদালতে উপস্থিত আসামিদের তাঁদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ পড়ে শোনান বিচারক। এ সময় চিন্ময় দাস বলেন, তিনি নির্দোষ। এই ঘটনার সঙ্গে কোনোভাবেই জড়িত নন। মামলায় দেওয়া অভিযোগপত্রটি ত্রুটিপূর্ণ।এদিকে আদালতে হাজির হন আইনজীবী সাইফুলের বাবা জামাল উদ্দিন। আদালত প্রাঙ্গণে তিনি Hindus news কে বলেন, ‘আসামিদের বিচার শুরুর আজ আদেশ হয়েছে, আমি এতে খুশি। বিচারটি যাতে দ্রুত শেষ হয়, ছেলে হত্যার বিচার দেখে যাতে মরতে পারি, সেটিই চাই।’
গত বছরের ১ জুলাই সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় দাসসহ ৩৮ জনকে আসামি করে চট্টগ্রাম আদালতে অভিযোগপত্রটি জমা দেন তদন্ত কর্মকর্তা। পরে বাদী নারাজি দিলে একই বছরের ২৫ আগস্ট আদালত আসামি সুকান্ত দত্তসহ ৩৯ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন। গত মাসে মামলাটি বিচারের জন্য প্রস্তুত হয়ে ম্যাজিস্ট্রেট আদালত থেকে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে আসে।
২০২৪ সালের ২৬ নভেম্বর সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় দাসের জামিনকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের মধ্যে আইনজীবী সাইফুলকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ হত্যার ঘটনায় তাঁর বাবা জামাল উদ্দিন বাদী হয়ে ৩১ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা করেন। এ ছাড়া পুলিশের ওপর হামলা, কাজে বাধা এবং আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের ওপর হামলা ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় আরও পাঁচটি মামলা হয়।
আদালত সূত্র জানায়, সাইফুল হত্যার আসামিদের মধ্যে আওয়ামীলীগ নেতা চন্দন দাস, রিপন দাস ও রাজীব ভট্টাচার্য আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এতে উল্লেখ করা হয়, আইনজীবীর ঘাড়ে বঁটি দিয়ে দুটি কোপ দেন রিপন দাস; আর কিরিচ দিয়ে কোপান চন্দন দাস। পরে রাস্তায় পড়ে থাকা সাদা শার্ট ও কালো প্যান্ট পরা এই আইনজীবীকে লাঠি, বাটাম, ইট, কিরিচ ও বঁটি দিয়ে তাঁরা ১৫ থেকে ২০ জন পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করেন। ঘটনার উসকানিদাতা হিসেবে চিন্ময়কে এই মামলার আসামি করা হয়।কিন্তু কখন উসকানি দিয়েছে এখনো প্রমান করতে পারেনি আদালত|
২০২৪ সালের ৩১ অক্টোবর চট্টগ্রাম নগরের চান্দগাঁও মোহরা ওয়ার্ড বিএনপির তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ খান বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় চিন্ময় কৃষ্ণ দাসসহ ১৯ জনের বিরুদ্ধে জাতীয় পতাকা অবমাননায় রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে মামলা করেন। পরে ফিরোজ খানকে বিএনপি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এ মামলায় চিন্ময় দাসকে ২৫ নভেম্বর ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
২০২৪ সালের ২৯ নভেম্বর আলিফের বাবা জামাল উদ্দিন নগরীর কোতোয়ালী থানায় ৩১ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ১০-১৫ জনকে আসামি করে মামলা করেন। আসামিরা সবাই চিন্ময়ের অনুসারী হিসেবে পরিচিত।
তবে জামাল উদ্দিনের করা মামলায় চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর নাম ছিল না। ২০২৫ সালের ৫ মে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তদন্তে সম্পৃক্ততা পাবার তথ্য উল্লেখ করে চিন্ময়কে ওই মামলায় গ্রেফতার দেখানোর জন্য আদালতে আবেদন করেন। আদালত গ্রেফতার দেখানোর আদেশ দেন।
চিন্ময় বাদে বাকি আসামিরা হলেন- চন্দন দাস মেথর, রিপন দাস, রাজীব ভট্টাচার্য্য, শুভ কান্তি দাস, আমান দাস, বুঞ্জা, রনব, বিধান, বিকাশ, রমিত প্রকাশ দাস, রুমিত দাস, নয়ন দাস, ওমকার দাস, বিশাল, লালা দাস, সামীর, সোহেল দাশ রানা, শিব কুমার, বিগলাল, পরাশ, গণেশ, ওম দাস, পপি, অজয়, দেবীচরণ, দেব, জয়, লালা মেথর, দুর্লভ দাস, সুমিত দাস, সনু দাস, সকু দাস, ভাজন, আশিক, শাহিত, শিবা দাস, দ্বীপ দাস ও সুকান্ত দত্ত।
মামলার ৩৯ জন আসামির মধ্যে ১৬ জন এখনও পলাতক আছেন। তাদের বিরুদ্ধে আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানা হারি করা আছে।
















