ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচার নিয়ে অস্বস্তিতে রিপাবলিকানরা
- আপডেট সময় : ০১:০০:১২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬ ১২ বার পড়া হয়েছে
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে ডনাল্ড ট্রাম্পের প্রচারণার ধরন নিয়ে রিপাবলিকান দলের ভেতরে অস্বস্তি বাড়ছে। ভোটারদের প্রধান উদ্বেগ জীবনযাত্রার ব্যয় এবং অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলার পরিবর্তে ট্রাম্প বারবার অপ্রাসঙ্গিক নানা প্রসঙ্গ টেনে আনছেন। বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এমন প্রচারণা দলের প্রার্থীদের জন্য নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
গত ২৫ অক্টোবর মিশিগানে রিপাবলিকান প্রার্থীদের সমর্থনে আয়োজিত এক নির্বাচনী সমাবেশে ট্রাম্পের এমন প্রচার কৌশলের উদাহরণ দেখা যায়। সেখানে তিনি ওহাইওর সিনেটর জন হাস্টেডের শারীরিক গঠনের প্রশংসা করেন এবং তাকে মঞ্চে দাঁড়াতে বলেন। একই সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন র্যাপশিল্পী নিকি মিনাজ। তিনিও সেখানে ট্রাম্পের প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করে বলেন, ট্রাম্প মার্কিন জনগণের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা তৈরি করেছেন এবং ভবিষ্যতে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে দাঁড়াতে চাইলে তিনি তাকেই সমর্থন করবেন। সমাবেশে ট্রাম্প নিকি মিনাজের শারীরিক গঠন নিয়েও মন্তব্য করেন, যা উপস্থিত সমর্থকদের মধ্যে আলোচনার খোরাক জোগায়।
দ্য আটলান্টিকের বিশ্লেষণ বলছে, ট্রাম্পের এই ধরনের বক্তব্য সাধারণ ভোটারদের প্রকৃত উদ্বেগের সাথে কোনোভাবেই মিলছে না। একদিকে মূল্যস্ফীতি ও নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বমূল্য নিয়ে ভোটাররা যখন চিন্তিত, তখন ট্রাম্পের আলোচনায় হোয়াইট হাউসের সংস্কার কাজ, কৌতুকশিল্পী বিল মাহেরকে ঘিরে বিতর্ক কিংবা তেল কোম্পানিগুলোর মুনাফার মতো বিষয় প্রাধান্য পাচ্ছে। এই অসংলগ্ন প্রচারণা ভোটারদের মূল ইস্যু থেকে দৃষ্টি সরিয়ে দিচ্ছে।
রিপাবলিকান নেতাদের আশঙ্কা, ট্রাম্পের এই ব্যক্তিগত মন্তব্য ও ইস্যু-বহির্ভূত বক্তব্য নির্বাচনে দলের জয়ের সম্ভাবনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। নির্বাচনে শুধু একনিষ্ঠ সমর্থকদের উজ্জীবিত করাই যথেষ্ট নয়, বরং নিরপেক্ষ ও দোদুল্যমান ভোটারদের মন জয় করা জরুরি। অর্থনৈতিক সংকটের সঠিক সমাধান বা বার্তা দিতে ব্যর্থ হলে দলের প্রার্থীরা বড় ধরনের চাপের মুখে পড়তে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আগামী ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠেয় এই নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫টি আসনের সব কটিতে এবং সিনেটের ৩৩টি আসনে ভোটগ্রহণ হবে। এই নির্বাচনে রিপাবলিকানরা সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারালে কংগ্রেসে ট্রাম্পের রাজনৈতিক নীতি বাস্তবায়ন করা অনেক বেশি কঠিন হয়ে পড়বে। এখন দেখার বিষয়, নির্বাচনের আগে প্রচারণার মূলস্রোতে অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের চাহিদাকে গুরুত্ব দেয়া হয় কি না।






















