ঢাকা ১০:০৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

হামজার লাল কার্ডে ক্ষুব্ধ শেফিল্ড কোচ ক্রিস ওয়াইল্ডার

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১০:০৬:২৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬ ৪৯ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ইংলিশ চ্যাম্পিয়নশিপের ম্যাচে পোর্টসমাউথের মাঠে বুধবার রাতে নাটকীয় ও রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে ৩-২ গোলে হেরেছে শেফিল্ড ইউনাইটেড। ম্যাচের ফলাফল ছাপিয়ে এখন আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে বাংলাদেশ জাতীয় দলের মিডফিল্ডার হামজা চৌধুরীর বিতর্কিত লাল কার্ড। রেফারির এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শেফিল্ড কোচ ক্রিস ওয়াইল্ডার। ফ্র্যাটন পার্কে শেফিল্ডের শুরুর দিকটা ভালো ছিল না, ৫৪ মিনিটের মধ্যে দলটি ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়েছিল। তবে এরপর দারুণভাবে ম্যাচে ফেরার ইঙ্গিত দিলেও শেষ পর্যন্ত ডিফেন্সের ব্যর্থতায় পরাজয় মেনে নিতে হয় তাদের। পরাজয়ের চেয়ে রেফারির বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিয়েই এখন চারদিকে চলছে মূল আলোচনা। তবে ডিফেন্সের ভুল আর শেষ মুহূর্তের গোল সব ওলোটপালোট করে দেয়।

ম্যাচের মোড় মূলত ঘুরে যায় প্রথমার্ধের শেষ ভাগে। ৪৪ মিনিটে পোর্টসমাউথের উইঙ্গার রায়ান কাভুমা-ম্যাককুইনকে ফাউল করার দায়ে হামজা দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখেন। মাত্র ৯ মিনিটের ব্যবধানে দুটি হলুদ কার্ড পাওয়ায় মাঠ ছাড়তে হয় তাকে। ফলে প্রায় পুরো দ্বিতীয়ার্ধ ১০ জন খেলোয়াড় নিয়ে লড়াই করতে বাধ্য হয় শেফিল্ড। রেফারি অলিভার ল্যাংফোর্ডের এই সিদ্ধান্ত মানতে পারছেন না শেফিল্ড কোচ। তার দাবি, রায়ান যখন নাটমেগ করার চেষ্টা করছিলেন, তখন হামজার সাথে ধাক্কা লেগে তিনি পড়ে যান। সেখানে হামজার সরে যাওয়ার মতো কোনো জায়গা বা সুযোগই ছিল না। ফলে প্রায় পুরো একটি অর্ধে ১০ জন নিয়ে লড়তে বাধ্য হয় শেফিল্ড।

সংবাদ সম্মেলনে রেফারির নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে ক্ষুব্ধ ওয়াইল্ডার বলেন, হামজা কোথায় যাবে? সে কি অদৃশ্য কোনো চরিত্র যে হুট করে মিলিয়ে যাবে? তিনি আরও জানান, মাঠের মধ্যে এমন অসম সিদ্ধান্তের কারণে তারা অবিচারের শিকার হয়েছেন। ওয়াইল্ডারের দাবি, প্রথমে রেফারি হামজাকে লাল কার্ড না দেওয়ার ইঙ্গিত দিলেও প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়দের চাপে শেষ মুহূর্তে সিদ্ধান্ত বদলে ফেলেন। শুধু এই ঘটনাই নয়, ম্যাচের শেষ দিকে শেফিল্ডের এক খেলোয়াড়ের জার্সি টেনে ধরার ঘটনাতেও রেফারি কোনো কর্ণপাত করেননি, যা কোচের বিরক্তি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। মনে হচ্ছে, আমাদের প্রতি চরম অবিচার করা হয়েছে।’। শুধু লাল কার্ডই নয়, ম্যাচের শেষ মুহূর্তে পেনাল্টি বক্সের ভেতরে শেফিল্ডের এক খেলোয়াড়ের জার্সি টেনে ধরার ঘটনাও ওয়াইল্ডারের ক্ষোভের পালে নতুন হাওয়া দেয়।

ধারাবাহিকতাহীন রেফারিং দলের জয়ের স্বপ্ন চূর্ণ করেছে বলে মন্তব্য করেছেন ওয়াইল্ডার। এই পরাজয়ে চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট তালিকায় বড় ধরনের ধাক্কা খেলো শেফিল্ড। ১০ ম্যাচ শেষে ১২ পয়েন্ট নিয়ে বর্তমানে তারা তালিকার ১৫ নম্বরে রয়েছে। উল্লেখ্য যে, শেফিল্ডের হয়ে চলতি মৌসুমে এখন পর্যন্ত তিনটি ম্যাচ খেলেছেন হামজা, তবে কোনো গোলের দেখা পাননি তিনি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

হামজার লাল কার্ডে ক্ষুব্ধ শেফিল্ড কোচ ক্রিস ওয়াইল্ডার

আপডেট সময় : ১০:০৬:২৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬

ইংলিশ চ্যাম্পিয়নশিপের ম্যাচে পোর্টসমাউথের মাঠে বুধবার রাতে নাটকীয় ও রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে ৩-২ গোলে হেরেছে শেফিল্ড ইউনাইটেড। ম্যাচের ফলাফল ছাপিয়ে এখন আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে বাংলাদেশ জাতীয় দলের মিডফিল্ডার হামজা চৌধুরীর বিতর্কিত লাল কার্ড। রেফারির এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শেফিল্ড কোচ ক্রিস ওয়াইল্ডার। ফ্র্যাটন পার্কে শেফিল্ডের শুরুর দিকটা ভালো ছিল না, ৫৪ মিনিটের মধ্যে দলটি ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়েছিল। তবে এরপর দারুণভাবে ম্যাচে ফেরার ইঙ্গিত দিলেও শেষ পর্যন্ত ডিফেন্সের ব্যর্থতায় পরাজয় মেনে নিতে হয় তাদের। পরাজয়ের চেয়ে রেফারির বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিয়েই এখন চারদিকে চলছে মূল আলোচনা। তবে ডিফেন্সের ভুল আর শেষ মুহূর্তের গোল সব ওলোটপালোট করে দেয়।

ম্যাচের মোড় মূলত ঘুরে যায় প্রথমার্ধের শেষ ভাগে। ৪৪ মিনিটে পোর্টসমাউথের উইঙ্গার রায়ান কাভুমা-ম্যাককুইনকে ফাউল করার দায়ে হামজা দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখেন। মাত্র ৯ মিনিটের ব্যবধানে দুটি হলুদ কার্ড পাওয়ায় মাঠ ছাড়তে হয় তাকে। ফলে প্রায় পুরো দ্বিতীয়ার্ধ ১০ জন খেলোয়াড় নিয়ে লড়াই করতে বাধ্য হয় শেফিল্ড। রেফারি অলিভার ল্যাংফোর্ডের এই সিদ্ধান্ত মানতে পারছেন না শেফিল্ড কোচ। তার দাবি, রায়ান যখন নাটমেগ করার চেষ্টা করছিলেন, তখন হামজার সাথে ধাক্কা লেগে তিনি পড়ে যান। সেখানে হামজার সরে যাওয়ার মতো কোনো জায়গা বা সুযোগই ছিল না। ফলে প্রায় পুরো একটি অর্ধে ১০ জন নিয়ে লড়তে বাধ্য হয় শেফিল্ড।

সংবাদ সম্মেলনে রেফারির নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে ক্ষুব্ধ ওয়াইল্ডার বলেন, হামজা কোথায় যাবে? সে কি অদৃশ্য কোনো চরিত্র যে হুট করে মিলিয়ে যাবে? তিনি আরও জানান, মাঠের মধ্যে এমন অসম সিদ্ধান্তের কারণে তারা অবিচারের শিকার হয়েছেন। ওয়াইল্ডারের দাবি, প্রথমে রেফারি হামজাকে লাল কার্ড না দেওয়ার ইঙ্গিত দিলেও প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়দের চাপে শেষ মুহূর্তে সিদ্ধান্ত বদলে ফেলেন। শুধু এই ঘটনাই নয়, ম্যাচের শেষ দিকে শেফিল্ডের এক খেলোয়াড়ের জার্সি টেনে ধরার ঘটনাতেও রেফারি কোনো কর্ণপাত করেননি, যা কোচের বিরক্তি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। মনে হচ্ছে, আমাদের প্রতি চরম অবিচার করা হয়েছে।’। শুধু লাল কার্ডই নয়, ম্যাচের শেষ মুহূর্তে পেনাল্টি বক্সের ভেতরে শেফিল্ডের এক খেলোয়াড়ের জার্সি টেনে ধরার ঘটনাও ওয়াইল্ডারের ক্ষোভের পালে নতুন হাওয়া দেয়।

ধারাবাহিকতাহীন রেফারিং দলের জয়ের স্বপ্ন চূর্ণ করেছে বলে মন্তব্য করেছেন ওয়াইল্ডার। এই পরাজয়ে চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট তালিকায় বড় ধরনের ধাক্কা খেলো শেফিল্ড। ১০ ম্যাচ শেষে ১২ পয়েন্ট নিয়ে বর্তমানে তারা তালিকার ১৫ নম্বরে রয়েছে। উল্লেখ্য যে, শেফিল্ডের হয়ে চলতি মৌসুমে এখন পর্যন্ত তিনটি ম্যাচ খেলেছেন হামজা, তবে কোনো গোলের দেখা পাননি তিনি।