ঢাকা ১২:৩৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

ইসরাইলের নির্বাচনে ঝুলে আছে নেতানিয়াহুর ভাগ্য, সরকার গঠন নিয়ে অনিশ্চয়তা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১০:৪৮:৩৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬ ১০ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ইসরাইলের সাধারণ নির্বাচনে কোনো পক্ষই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। বুধবার পর্যন্ত প্রায় ৯০ শতাংশ ভোট গণনা সম্পন্ন হয়েছে। প্রধান তিনটি সম্প্রচারমাধ্যমের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ১২০ আসনের নেসেটে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন ডানপন্থি ও কট্টরপন্থি জোট ৫৩টি আসন পেতে যাচ্ছে। অন্যদিকে গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট পেতে পারে ৪৮টি আসন। এছাড়া আরব ইসরাইলিদের প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলো নজিরবিহীনভাবে ১৯টি আসন লাভের পথে রয়েছে। এই সমীকরণে আরব দলগুলোর সমর্থন ছাড়া আইজেনকোটের ক্ষমতায় যাওয়ার সুযোগ খুবই সীমিত, যদিও অধিকাংশ ইহুদি নেতা এই সমর্থন গ্রহণে আগ্রহী নন।

নির্বাচনে কোনো পক্ষই সরকার গঠনে সক্ষম না হলে এক প্রকার অচলাবস্থা তৈরি হবে। এমন পরিস্থিতিতে নতুন করে জোট গঠনের আলোচনা চলাকালে এবং আগামী বছর পরবর্তী নির্বাচন হওয়ার আগ পর্যন্ত বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দেশটির তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। গবেষক গাই লুরির মতে, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কিছু সীমাবদ্ধতা থাকলেও ইরান যুদ্ধসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় নিরাপত্তা ইস্যুতে তাদের পূর্ণ ক্ষমতা বহাল থাকে এবং প্রথাগত সরকারের মতোই তাদের সিদ্ধান্ত নেয়ার আইনি এখতিয়ার ও দায়বদ্ধতা রয়েছে।

ভোটগ্রহণের পর রাত ৩টার দিকে লিকুদ পার্টির সমর্থকদের উদ্দেশ্যে দেয়া ভাষণে নেতানিয়াহু একটি শক্তিশালী জাতীয়তাবাদী ডানপন্থি সরকার গঠনের ডাক দিয়েছেন। এ সময় তিনি তার সামরিক অর্জনের কথা তুলে ধরেন এবং মিত্র মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সমন্বয় করে ইরানের বিরুদ্ধে যৌথ সামরিক পদক্ষেপ নেয়ার ইঙ্গিত দেন। ডনাল্ড ট্রাম্পও এক বার্তায় নেতানিয়াহুর পারফরম্যান্সের প্রশংসা করে বলেন, তার সমর্থন নেতানিয়াহুকে অনেক সহযোগিতা করেছে।

এবারের নির্বাচনে ৭৭.৭ শতাংশ ভোট পড়েছে, যা গত দুই দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ। ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত ইসরাইলিদের মধ্যে ভোটার উপস্থিতি ছিল উল্লেখযোগ্য। ২০২৩ সালের ৭ই অক্টোবর হামাসের হামলার পর এটিই দেশটিতে প্রথম নির্বাচন। সেই হামলায় ১ হাজার ২০০ জন নিহত এবং ২৫১ জনকে জিম্মি করা হয়েছিল। গাজা স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, চলমান যুদ্ধে এ পর্যন্ত ৭৪ হাজার ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন। যুদ্ধ পরিস্থিতির পাশাপাশি আইসিসির গ্রেপ্তারি পরোয়ানা এবং নিজ দেশে দুর্নীতির অভিযোগের মতো গুরুতর চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছেন নেতানিয়াহু।

নির্বাচনের এই ফলাফল ইহুদি ভোটারদের মধ্যে ডানপন্থি মতাদর্শের দিকে ঝুঁকে পড়ার ইঙ্গিত দেয়। প্রায় প্রতিটি ইহুদি দলই বর্তমানে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। বুথফেরত জরিপের ফলাফল আসার পর আরব দলগুলোর জোট ‘জয়েন্ট লিস্ট’-এর সদর দপ্তরে আনন্দঘন পরিবেশ সৃষ্টি হয়। অতীতে নেতানিয়াহুকে ক্ষমতাচ্যুত করতে ছোট আরব দলের ওপর নির্ভর করতে হলেও, এখনকার পরিস্থিতি বিবেচনায় বিরোধী জোটের বড় পরিসরে আরব দলগুলোর সমর্থনের প্রয়োজন হবে। অথচ ইসরাইল প্রতিষ্ঠার পর থেকেই বেশিরভাগ ইহুদি নেতা আনুষ্ঠানিকভাবে আরব দলগুলোর সঙ্গে কোনো ধরণের জোট করতে অনাগ্রহী ছিলেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

ইসরাইলের নির্বাচনে ঝুলে আছে নেতানিয়াহুর ভাগ্য, সরকার গঠন নিয়ে অনিশ্চয়তা

আপডেট সময় : ১০:৪৮:৩৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

ইসরাইলের সাধারণ নির্বাচনে কোনো পক্ষই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। বুধবার পর্যন্ত প্রায় ৯০ শতাংশ ভোট গণনা সম্পন্ন হয়েছে। প্রধান তিনটি সম্প্রচারমাধ্যমের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ১২০ আসনের নেসেটে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন ডানপন্থি ও কট্টরপন্থি জোট ৫৩টি আসন পেতে যাচ্ছে। অন্যদিকে গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট পেতে পারে ৪৮টি আসন। এছাড়া আরব ইসরাইলিদের প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলো নজিরবিহীনভাবে ১৯টি আসন লাভের পথে রয়েছে। এই সমীকরণে আরব দলগুলোর সমর্থন ছাড়া আইজেনকোটের ক্ষমতায় যাওয়ার সুযোগ খুবই সীমিত, যদিও অধিকাংশ ইহুদি নেতা এই সমর্থন গ্রহণে আগ্রহী নন।

নির্বাচনে কোনো পক্ষই সরকার গঠনে সক্ষম না হলে এক প্রকার অচলাবস্থা তৈরি হবে। এমন পরিস্থিতিতে নতুন করে জোট গঠনের আলোচনা চলাকালে এবং আগামী বছর পরবর্তী নির্বাচন হওয়ার আগ পর্যন্ত বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দেশটির তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। গবেষক গাই লুরির মতে, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কিছু সীমাবদ্ধতা থাকলেও ইরান যুদ্ধসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় নিরাপত্তা ইস্যুতে তাদের পূর্ণ ক্ষমতা বহাল থাকে এবং প্রথাগত সরকারের মতোই তাদের সিদ্ধান্ত নেয়ার আইনি এখতিয়ার ও দায়বদ্ধতা রয়েছে।

ভোটগ্রহণের পর রাত ৩টার দিকে লিকুদ পার্টির সমর্থকদের উদ্দেশ্যে দেয়া ভাষণে নেতানিয়াহু একটি শক্তিশালী জাতীয়তাবাদী ডানপন্থি সরকার গঠনের ডাক দিয়েছেন। এ সময় তিনি তার সামরিক অর্জনের কথা তুলে ধরেন এবং মিত্র মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সমন্বয় করে ইরানের বিরুদ্ধে যৌথ সামরিক পদক্ষেপ নেয়ার ইঙ্গিত দেন। ডনাল্ড ট্রাম্পও এক বার্তায় নেতানিয়াহুর পারফরম্যান্সের প্রশংসা করে বলেন, তার সমর্থন নেতানিয়াহুকে অনেক সহযোগিতা করেছে।

এবারের নির্বাচনে ৭৭.৭ শতাংশ ভোট পড়েছে, যা গত দুই দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ। ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত ইসরাইলিদের মধ্যে ভোটার উপস্থিতি ছিল উল্লেখযোগ্য। ২০২৩ সালের ৭ই অক্টোবর হামাসের হামলার পর এটিই দেশটিতে প্রথম নির্বাচন। সেই হামলায় ১ হাজার ২০০ জন নিহত এবং ২৫১ জনকে জিম্মি করা হয়েছিল। গাজা স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, চলমান যুদ্ধে এ পর্যন্ত ৭৪ হাজার ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন। যুদ্ধ পরিস্থিতির পাশাপাশি আইসিসির গ্রেপ্তারি পরোয়ানা এবং নিজ দেশে দুর্নীতির অভিযোগের মতো গুরুতর চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছেন নেতানিয়াহু।

নির্বাচনের এই ফলাফল ইহুদি ভোটারদের মধ্যে ডানপন্থি মতাদর্শের দিকে ঝুঁকে পড়ার ইঙ্গিত দেয়। প্রায় প্রতিটি ইহুদি দলই বর্তমানে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। বুথফেরত জরিপের ফলাফল আসার পর আরব দলগুলোর জোট ‘জয়েন্ট লিস্ট’-এর সদর দপ্তরে আনন্দঘন পরিবেশ সৃষ্টি হয়। অতীতে নেতানিয়াহুকে ক্ষমতাচ্যুত করতে ছোট আরব দলের ওপর নির্ভর করতে হলেও, এখনকার পরিস্থিতি বিবেচনায় বিরোধী জোটের বড় পরিসরে আরব দলগুলোর সমর্থনের প্রয়োজন হবে। অথচ ইসরাইল প্রতিষ্ঠার পর থেকেই বেশিরভাগ ইহুদি নেতা আনুষ্ঠানিকভাবে আরব দলগুলোর সঙ্গে কোনো ধরণের জোট করতে অনাগ্রহী ছিলেন।