কুকুরে কামড়ানো গরু বিক্রি: সালিশে ২০ লাখ টাকা জরিমানা
- আপডেট সময় : ০২:৩৩:০৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬ ১৪ বার পড়া হয়েছে
সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার চরাঞ্চলে কুকুরে কামড়ানো একটি গরু কেনাবেচার ঘটনায় স্থানীয় মাতব্বরদের আয়োজিত সালিশ বৈঠকে অভিযুক্তদের ২০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়া জরিমানার টাকা আদায়ে অভিযুক্তদের ভুট্টা গুদাম তালাবদ্ধ করা এবং নানা ধরনের সামাজিক নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। তেকানি ইউনিয়নের কিনারবের গ্রামে বৃদ্ধ কৃষক বাদশা মিয়া তার অসুস্থ গাভীটি ১৩ সেপ্টেম্বর স্থানীয় গরু ব্যবসায়ী ফিরোজের কাছে ১৭ হাজার টাকায় বিক্রি করেন। পরবর্তীতে ব্যবসায়ী ফিরোজ সেই অসুস্থ গরু ৬৫ হাজার টাকায় অন্য একজনের কাছে বিক্রি করলে বিষয়টি নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। সিরাজগঞ্জের কাজীপুর উপজেলার চরাঞ্চলে কুকুরে কামড়ানো গরু ক্রয়-বিক্রয় ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে দোষী ব্যক্তিদের গ্রাম্য সালিস বৈঠকে ২০ লক্ষ টাকা জরিমানা ধার্য করেছেন স্থানীয় কতিপয় মুরুব্বি। ইতোমধ্যে গাভীটিকে কুকুরে কামড়িয়েছে বলে এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। গরু মালিক বৃদ্ধ কৃষক বাদশা মিয়ার পুত্রবধূ স্বপ্না (২৫) জানান, গাভীকে কুকুরে কামড়িয়েছে কিনা আমরা জানিনা, গরুটি অসুস্থ মনে হচ্ছিল, তাই ফিরোজের কাছে ১৭ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়।
অভিযোগ ওঠে যে, গরুটিকে কুকুরে কামড়িয়েছিল। এই খবর জানাজানি হলে স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে একাধিকবার সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এসব বৈঠকে তেকানি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান এসএম গাজী মাজহারুল আনোয়ার ও সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী খোশ মাহমুদ মাস্টারসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। সালিশে গরুর মালিক বাদশা মিয়াকে ১ লাখ টাকা, ব্যবসায়ী ফিরোজকে ৯ লাখ টাকা এবং গরু ক্রেতা কসাই আলাউদ্দিনকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। উপস্থিত শতাধিক গ্রামবাসীর সম্মতিতে এই বড় অঙ্কের জরিমানা ধার্য করা হয় বলে জানা গেছে। প্রথম তারিখে সালিসে গরুর মালিককে ১ লক্ষ টাকা এবং দ্বিতীয় সালিসে গরু মালিককে ১ লক্ষ, ব্যবসায়ীর ৯ লক্ষ টাকা জরিমানা ধার্য করা হয়। গাভীটির ক্রেতা কসাই জামালপুর জেলায় পাঠিয়ে দেয়। এতে করে স্থানীয়দের মধ্যে বিরুপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।
ভুক্তভোগী কৃষক বাদশা মিয়ার পুত্রবধূ স্বপ্না জানান, গাভীটি অসুস্থ ছিল কিন্তু সেটি কুকুরে কামড়েছে কি না তা তারা জানতেন না। তবুও তাদের ওপর ১ লাখ টাকার জরিমানা চাপানো হয়েছে, যা পরিশোধ করতে তারা অন্য দুটি গরু বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছেন। এদিকে ব্যবসায়ী ফিরোজকে বাড়িতে না পাওয়ায় তার বৃদ্ধ বাবা চাঁন জানান, জরিমানার ৯ লাখ টাকার মধ্যে ১ লাখ টাকা তারা পরিশোধ করেছেন এবং ফিরোজের মোটরসাইকেলে যাত্রী পরিবহনের পেশা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।
অন্যদিকে কসাই আলাউদ্দিনের পরিবারের অভিযোগ, ১০ লাখ টাকা জরিমানার পাশাপাশি ব্যবসায়ী আব্দুল লতিফ সরকার ও তার লোকজন নাটুয়ারপাড়া বাজারে আলাউদ্দিনের ৪-৫ শ মণ ভুট্টা ভরা গুদাম তালাবদ্ধ করে রেখেছে। বর্তমানে তার মাংসের ব্যবসাও বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। আলাউদ্দিনের পরিবার এখন পর্যন্ত ৩৯ হাজার টাকা জরিমানা পরিশোধ করেছে।
সালিশের বিচারক ও তেকানি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান এসএম গাজী মাজহারুল আনোয়ারের ভাষ্যমতে, কুকুরে কামড়ানো গরুর মাংস নাটুয়ারপাড়া ও তেকানি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে কয়েকশ মানুষ কিনে খেয়েছিল। বিষয়টি জানার পর তারা সবাই ভ্যাকসিন গ্রহণ করেন। উত্তেজিত জনতাকে শান্ত করতে এবং সাধারণ মানুষের ভ্যাকসিনের খরচ মেটানোর জন্যই মূলত এই জরিমানা ধার্য করা হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এমন ঝুঁকিপূর্ণ কাজ না করে। এ বিষয়ে কাজিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহানাজ পারভীন জানান, বিষয়টি তিনি অবগত ছিলেন না। তবে গ্রাম্য সালিশে এমন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ বিধিসম্মত নয় বলে তিনি উল্লেখ করেছেন এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন।














