ঢাকা ১২:৫৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

হুমায়ুন কবির: প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরে উন্নয়ন ও বিনিয়োগ অংশীদারত্ব জোরদার হয়েছে

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১১:৫১:৫৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬ ১২ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চার দিনের সরকারি জাপান সফর শেষে দেশটির সাথে বাংলাদেশের উন্নয়ন সহযোগিতা ও বিনিয়োগ অংশীদারত্ব আরও সুদৃঢ় হয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। শুক্রবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই সফরের ফলাফল তুলে ধরেন। ২৬ থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত এই সফরে টোকিও বাংলাদেশকে উন্নয়ন সহায়তা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও মানবসম্পদ উন্নয়নে সহায়তার নতুন অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। উন্নীত এই উদ্যোগে জ্বালানি, গভীর সমুদ্রবন্দর, শিল্পস্থাপনা, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি অবকাঠামো এবং যোগাযোগব্যবস্থার সমন্বিত উন্নয়নের পাশাপাশি সরকারি ও বেসরকারি সহযোগিতা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী জানান, দুই দেশের দীর্ঘদিনের উন্নয়ন সহযোগিতাকে পারস্পরিক কল্যাণকর অর্থনৈতিক ও বিনিয়োগ অংশীদারত্বে রূপান্তরের ক্ষেত্রে এই সফর একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এটি সরকারের ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ পররাষ্ট্রনীতির প্রতিফলন, যেখানে জাতীয় স্বার্থ ও পারস্পরিক সম্মানকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ এখন প্রচলিত সহজ শর্তের ঋণের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে প্রযুক্তি হস্তান্তর, কর্মসংস্থান ও অভিন্ন অর্থনৈতিক সুযোগের ভিত্তিতে সম্পর্ক গড়তে আগ্রহী। একই সঙ্গে বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান, প্রযুক্তি ও মানবসম্পদকে কেন্দ্র করে বৃহত্তর অর্থনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলার ভিত্তি তৈরি হয়েছে। যার সঙ্গেই আমরা ব্যবসা করব, প্রকৃত পারস্পরিক বিনিয়োগ অংশীদারিত্বের ভিত্তিতেই তা করব। তিনি বলেন, জাতীয় অগ্রাধিকার, সাশ্রয়ী হওয়ার বিষয়, প্রতিযোগিতার সক্ষমতা এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির দিক বিবেচনায় নিয়ে বাংলাদেশ বিনিয়োগ প্রস্তাবগুলো সতর্কতার সঙ্গে মূল্যায়ন করবে।

সফরের উল্লেখযোগ্য অর্জনের একটি হলো আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশে সর্বোচ্চ ১ লাখ কোটি ইয়েন বা প্রায় ৬৩০ কোটি ডলারের জাপানি বেসরকারি বিনিয়োগের সম্ভাবনা।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি এই সম্ভাবনাকে স্বাগত জানিয়েছেন।

এর ফলে বাংলাদেশে প্রায় দুই লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হতে পারে।

প্রতিমন্ত্রী স্পষ্ট করেছেন যে, এটি কোনো সরকারি ঋণের প্রতিশ্রুতি নয়, বরং বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ সম্ভাবনা। এখানে কোনো দেশ অধস্তন বা নির্ভরশীল অবস্থানে থাকবে না।

বিনিয়োগের প্রস্তুতির বিষয়ে আলোচনার জন্য শীঘ্রই একটি জাপানি অর্থনৈতিক প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ সফর করবে। কবে নাগাদ এসব বিনিয়োগ বাস্তবায়িত হতে পারে, এমন প্রশ্নের জবাবে হুমায়ুন কবির বলেন, পারস্পরিক পরামর্শ ও মন্ত্রী পর্যায়ের যৌথ আলোচনার পর উভয় পক্ষের সুবিধাজনক সময়ে শিগগিরই জাপানের একটি অর্থনৈতিক প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ সফর করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাপানের ৫ হাজার কোটি ইয়েন বা প্রায় ৩১ কোটি ৪০ লাখ ডলারের জরুরি সহায়তা ঋণের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। এছাড়া হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল দ্রুত চালু, ঢাকার এমআরটি প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করা এবং মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরের কার্যক্রমে জাপানের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে আলোচনায় উঠে আসে।

জাইকা প্রেসিডেন্ট ড. আকিহিকো তানাকার সাথে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী জাপানি অর্থায়নে চলমান প্রকল্পগুলো যথাসময়ে সম্পন্ন করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি কারিগরি সহযোগিতা সম্প্রসারণের আহ্বানও জানান। প্রতিমন্ত্রী জানান, সফরের সময় অর্থনৈতিক সম্পর্ক, ব্যবসায়িক পরিবেশ, কৃষি, মৎস্য, উপকূলীয় নিরাপত্তা, জলবায়ু ও আইটি খাতের ওপর ছয়টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে।

বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে সরকার করব্যবস্থা, শুল্ক ছাড়করণ, রেমিট্যান্স ও লাইসেন্স প্রদানের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি ও সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী টোকিওতে বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক ফোরাম সংলাপে জাপানি উদ্যোক্তাদের বাংলাদেশের বিনিয়োগ সুযোগ কাজে লাগানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

সফরে প্রধানমন্ত্রী ফুৎসুতে জেরা (JERA) এর এলএনজি টার্মিনাল ও বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং চিবা প্রিফেকচারের লজিস্টিকস হাব পরিদর্শন করেন। প্রতিমন্ত্রী জানান, এই পরিদর্শনের মূল উদ্দেশ্য ছিল নিজস্ব জ্বালানি অবকাঠামো পরিকল্পনার জন্য কারিগরি জ্ঞান অর্জন করা, জাপান থেকে এলএনজি আমদানির বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়নি।

প্রধানমন্ত্রী ২৯ অক্টোবর নাগোয়ার টয়োটা কারখানা পরিদর্শন করেন। সেখানে প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা বাংলাদেশে গাড়ি ও যন্ত্রপাতি কারখানা স্থাপনে আগ্রহ প্রকাশ করেন। প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, সফরের আলোচনায় তৃতীয় কোনো দেশের অংশগ্রহণ বা আঞ্চলিক কোনো জোট নিয়ে আলোচনা হয়নি। এছাড়া বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের টেকসই প্রত্যাবাসনে জাপানের অব্যাহত সম্পৃক্ততা চেয়েছে। দুই প্রধানমন্ত্রী বৈশ্বিক শান্তি, নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কার এবং পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের মতো বিষয়েও মতবিনিময় করেছেন। অন্য কোনো দেশকে যুক্ত করে আঞ্চলিক কোনো ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হলে আলোচনায় সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর অংশগ্রহণ প্রয়োজন বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী ইউনিক্লোর মূল প্রতিষ্ঠান ফাস্ট রিটেইলিং, মারুবেনি করপোরেশন, মিতসুবিশি করপোরেশন, টয়োটা সুশো করপোরেশনসহ জাপানের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ও করপোরেশনগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করেন। প্রধানমন্ত্রী ২৯ অক্টোবর নাগোয়া শহরে টয়োটার উৎপাদন কারখানাও পরিদর্শন করেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

হুমায়ুন কবির: প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরে উন্নয়ন ও বিনিয়োগ অংশীদারত্ব জোরদার হয়েছে

আপডেট সময় : ১১:৫১:৫৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চার দিনের সরকারি জাপান সফর শেষে দেশটির সাথে বাংলাদেশের উন্নয়ন সহযোগিতা ও বিনিয়োগ অংশীদারত্ব আরও সুদৃঢ় হয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। শুক্রবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই সফরের ফলাফল তুলে ধরেন। ২৬ থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত এই সফরে টোকিও বাংলাদেশকে উন্নয়ন সহায়তা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও মানবসম্পদ উন্নয়নে সহায়তার নতুন অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। উন্নীত এই উদ্যোগে জ্বালানি, গভীর সমুদ্রবন্দর, শিল্পস্থাপনা, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি অবকাঠামো এবং যোগাযোগব্যবস্থার সমন্বিত উন্নয়নের পাশাপাশি সরকারি ও বেসরকারি সহযোগিতা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী জানান, দুই দেশের দীর্ঘদিনের উন্নয়ন সহযোগিতাকে পারস্পরিক কল্যাণকর অর্থনৈতিক ও বিনিয়োগ অংশীদারত্বে রূপান্তরের ক্ষেত্রে এই সফর একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এটি সরকারের ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ পররাষ্ট্রনীতির প্রতিফলন, যেখানে জাতীয় স্বার্থ ও পারস্পরিক সম্মানকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ এখন প্রচলিত সহজ শর্তের ঋণের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে প্রযুক্তি হস্তান্তর, কর্মসংস্থান ও অভিন্ন অর্থনৈতিক সুযোগের ভিত্তিতে সম্পর্ক গড়তে আগ্রহী। একই সঙ্গে বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান, প্রযুক্তি ও মানবসম্পদকে কেন্দ্র করে বৃহত্তর অর্থনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলার ভিত্তি তৈরি হয়েছে। যার সঙ্গেই আমরা ব্যবসা করব, প্রকৃত পারস্পরিক বিনিয়োগ অংশীদারিত্বের ভিত্তিতেই তা করব। তিনি বলেন, জাতীয় অগ্রাধিকার, সাশ্রয়ী হওয়ার বিষয়, প্রতিযোগিতার সক্ষমতা এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির দিক বিবেচনায় নিয়ে বাংলাদেশ বিনিয়োগ প্রস্তাবগুলো সতর্কতার সঙ্গে মূল্যায়ন করবে।

সফরের উল্লেখযোগ্য অর্জনের একটি হলো আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশে সর্বোচ্চ ১ লাখ কোটি ইয়েন বা প্রায় ৬৩০ কোটি ডলারের জাপানি বেসরকারি বিনিয়োগের সম্ভাবনা।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি এই সম্ভাবনাকে স্বাগত জানিয়েছেন।

এর ফলে বাংলাদেশে প্রায় দুই লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হতে পারে।

প্রতিমন্ত্রী স্পষ্ট করেছেন যে, এটি কোনো সরকারি ঋণের প্রতিশ্রুতি নয়, বরং বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ সম্ভাবনা। এখানে কোনো দেশ অধস্তন বা নির্ভরশীল অবস্থানে থাকবে না।

বিনিয়োগের প্রস্তুতির বিষয়ে আলোচনার জন্য শীঘ্রই একটি জাপানি অর্থনৈতিক প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ সফর করবে। কবে নাগাদ এসব বিনিয়োগ বাস্তবায়িত হতে পারে, এমন প্রশ্নের জবাবে হুমায়ুন কবির বলেন, পারস্পরিক পরামর্শ ও মন্ত্রী পর্যায়ের যৌথ আলোচনার পর উভয় পক্ষের সুবিধাজনক সময়ে শিগগিরই জাপানের একটি অর্থনৈতিক প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ সফর করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাপানের ৫ হাজার কোটি ইয়েন বা প্রায় ৩১ কোটি ৪০ লাখ ডলারের জরুরি সহায়তা ঋণের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। এছাড়া হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল দ্রুত চালু, ঢাকার এমআরটি প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করা এবং মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরের কার্যক্রমে জাপানের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে আলোচনায় উঠে আসে।

জাইকা প্রেসিডেন্ট ড. আকিহিকো তানাকার সাথে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী জাপানি অর্থায়নে চলমান প্রকল্পগুলো যথাসময়ে সম্পন্ন করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি কারিগরি সহযোগিতা সম্প্রসারণের আহ্বানও জানান। প্রতিমন্ত্রী জানান, সফরের সময় অর্থনৈতিক সম্পর্ক, ব্যবসায়িক পরিবেশ, কৃষি, মৎস্য, উপকূলীয় নিরাপত্তা, জলবায়ু ও আইটি খাতের ওপর ছয়টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে।

বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে সরকার করব্যবস্থা, শুল্ক ছাড়করণ, রেমিট্যান্স ও লাইসেন্স প্রদানের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি ও সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী টোকিওতে বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক ফোরাম সংলাপে জাপানি উদ্যোক্তাদের বাংলাদেশের বিনিয়োগ সুযোগ কাজে লাগানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

সফরে প্রধানমন্ত্রী ফুৎসুতে জেরা (JERA) এর এলএনজি টার্মিনাল ও বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং চিবা প্রিফেকচারের লজিস্টিকস হাব পরিদর্শন করেন। প্রতিমন্ত্রী জানান, এই পরিদর্শনের মূল উদ্দেশ্য ছিল নিজস্ব জ্বালানি অবকাঠামো পরিকল্পনার জন্য কারিগরি জ্ঞান অর্জন করা, জাপান থেকে এলএনজি আমদানির বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়নি।

প্রধানমন্ত্রী ২৯ অক্টোবর নাগোয়ার টয়োটা কারখানা পরিদর্শন করেন। সেখানে প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা বাংলাদেশে গাড়ি ও যন্ত্রপাতি কারখানা স্থাপনে আগ্রহ প্রকাশ করেন। প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, সফরের আলোচনায় তৃতীয় কোনো দেশের অংশগ্রহণ বা আঞ্চলিক কোনো জোট নিয়ে আলোচনা হয়নি। এছাড়া বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের টেকসই প্রত্যাবাসনে জাপানের অব্যাহত সম্পৃক্ততা চেয়েছে। দুই প্রধানমন্ত্রী বৈশ্বিক শান্তি, নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কার এবং পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের মতো বিষয়েও মতবিনিময় করেছেন। অন্য কোনো দেশকে যুক্ত করে আঞ্চলিক কোনো ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হলে আলোচনায় সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর অংশগ্রহণ প্রয়োজন বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী ইউনিক্লোর মূল প্রতিষ্ঠান ফাস্ট রিটেইলিং, মারুবেনি করপোরেশন, মিতসুবিশি করপোরেশন, টয়োটা সুশো করপোরেশনসহ জাপানের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ও করপোরেশনগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করেন। প্রধানমন্ত্রী ২৯ অক্টোবর নাগোয়া শহরে টয়োটার উৎপাদন কারখানাও পরিদর্শন করেন।