মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর দাফনে বাধার প্রতিবাদে পিরোজপুরে মানববন্ধন
- আপডেট সময় : ০৬:২৫:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে
পিরোজপুরের চিতলিয়া গ্রামের বাসিন্দা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় বাধার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছেন বীর মুক্তিযোদ্ধাগণ। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে পিরোজপুর জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনের সামনে এই কর্মসূচি পালিত হয়। ‘বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, পিরোজপুর সদর উপজেলা কমান্ড’-এর ব্যানারে আয়োজিত এই মানববন্ধনে বীর মুক্তিযোদ্ধা, তাঁদের পরিবারের সদস্যসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। এ সময় বক্তারা মুক্তিযোদ্ধার দাফন ও জানাজা বিঘ্নিত করার তীব্র নিন্দা জানান এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন। পিরোজপুরে মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর দাফন ঘিরে কী হলো, জানালেন স্বজন ও স্থানীয়রা।
জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সদস্য আবদুর রাজ্জাক সরদার স্মৃতিচারণ করে বলেন, ১৯৭১ সালে ভারতে প্রশিক্ষণ শেষে তাঁরা যখন দেশে ফিরেছিলেন, তখন তাঁদের সঙ্গে মানিক পশারীও ছিলেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধের সময় মুক্তিযোদ্ধাদের সব ধরনের সহযোগিতা করেছিলেন। এমন একজন দেশপ্রেমিক মুক্তিযোদ্ধার গার্ড অব অনার ও দাফন নিয়ে এমন অনভিপ্রেত পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেন তিনি।
মানিক পশারীর পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে তিনি গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় তাঁর জামাতার বাড়িতে ছিলেন। দুই মাস অসুস্থ থাকার পর গত শনিবার সকালে সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়। পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, মানিক পশারীর মরদেহ বাড়িতে না এনে আটকে রাখা হবে এবং পুড়িয়ে ফেলা হবে—এমন হুমকি দেওয়া হয়েছিল। শনিবার দুপুর ১২টার দিকে মরদেহ নিয়ে পিরোজপুর সদর উপজেলা পরিষদে পৌঁছালে সেখানে একদল লোক তাদের পুষ্পমাল্য ছিনিয়ে নেয়। পরিস্থিতির অবনতি ঘটলে তারা বিষয়টি প্রশাসনকে অবহিত করেন। পরে পুলিশ লাইনসে নেওয়া হলে সেখানে তাঁকে গার্ড অব অনার প্রদান শেষে রাত দেড়টায় দাফন সম্পন্ন হয়।
জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক আহমেদ শহীদুল হক জানান, সেদিন পুষ্পমাল্য নিয়ে সদর উপজেলা চত্বরে গেলে একদল লোক তাদের বাধা দেয় এবং এমন পরিবেশ তৈরি করে যাতে তারা এলাকা ছাড়তে বাধ্য হন। মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জামায়াতের সাবেক নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিয়েছিলেন মানিক পশারী। উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ১৪ আগস্ট কারাগারের চিকিৎসাধীন অবস্থায় দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মৃত্যু হয়। স্বজনদের অভিযোগ, এসব ঘটনার প্রেক্ষাপটে তারা এখনো আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন এবং এলাকায় পর্যাপ্ত পুলিশ পাহারা নেই। ২০২৩ সালের ১৪ আগস্ট রাতে কারা হেফাজতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

























