ঢাকা ০৬:৫২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

জন্মদিন উদযাপনে সিলেটে তৌসিফ, সঙ্গী সাফা ও টয়া

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:৩০:৩৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬ ২৩ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

গত ২৭ অক্টোবর ছিল অভিনেতা তৌসিফ মাহবুবের জন্মদিন। নিজের বিশেষ দিনটিতে কাজের চাপে পরিবার বা বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ পান না তিনি। তাই এবার আগেভাগেই শুটিং থেকে ছুটি নিয়েছিলেন। ঢাকায় থাকলে যেকোনো কাজের চাপ চলে আসে, তাই স্ত্রী ও বন্ধুদের সঙ্গে নিয়ে অজানার উদ্দেশ্যে পাড়ি জমানোর পরিকল্পনা করেন এই অভিনেতা। শেষ পর্যন্ত প্রিয় বন্ধুদের সঙ্গে সিলেটের লালাখালে জন্মদিনের আনন্দ ভাগ করে নিয়েছেন তিনি। তৌসিফ বললেন, ‘এবার জন্মদিনে হারিয়ে যেতে চেয়েছিলাম, পেরেছি। তাঁর কথায়, ‘আমরা সব সময় অনেক আনন্দে ছিলাম।

তৌসিফের কাছে সিলেটের লালাখাল জায়গাটি ভীষণ আবেগের ও স্মৃতিজড়িত। এখানে তাঁর সংগীত ক্যারিয়ারের শেষ দিন কেটেছিল, অন্যদিকে এখানেই শুরু হয়েছিল অভিনয়ের যাত্রা। ২০১২ সালের ডিসেম্বরে ব্যান্ড দলের হয়ে গান শেষ করে সারা রাত জার্নি করে ঢাকায় ফিরেছিলেন তৌসিফ। এরপর ভোর চারটার দিকেই আবার লালাখালে ফিরেছিলেন নিজের প্রথম নাটক ‘অলটাইম দৌড়ের ওপর’-এর শুটিংয়ে। এক ক্যারিয়ারের বিদায় আর অন্যটির শুরুর সাক্ষী এই জায়গাটি তাই তাঁকে সবসময় স্মৃতিকাতর করে তোলে। তাঁকে সুন্দর মুহূর্তের ভিডিও পাঠালাম। আমার কাছে এটা ছিল মানসিকভাবে নিজেকে তৈরি করার জার্নি।

তৌসিফের জন্মদিনের এই ভ্রমণে সাফা কবির, মুমতাহিনা টয়া ও সৈয়দ জামান শাওন সঙ্গী হয়েছিলেন। যদিও ব্যস্ততার কারণে সিয়াম আহমেদ আসতে পারেননি, তবে ভিডিওর মাধ্যমে তাদের আড্ডায় যুক্ত ছিলেন তিনি। আদনান আল রাজীবের ‘অলটাইম দৌড়ের ওপর’ নাটকের শুটিং থেকেই তৌসিফের সঙ্গে সাফার গভীর বন্ধুত্বের শুরু। আর মুমতাহিনা টয়ার সঙ্গে বন্ধুত্ব হয় ‘সুপার গার্লস’ ধারাবাহিকের সেটে। সাফা জানান, লালাখালের নীল জলরাশি আর নির্মল প্রকৃতি তাঁদের দারুণ আনন্দ দিয়েছে। তিনি এই ভ্রমণকে অনেকটা ‘প্রাকৃতিক ওষুধ’ হিসেবে দেখছেন, যা তাঁকে মানসিক প্রশান্তি দিয়েছে। সাফার প্রকৃতিক ওষুধ বন্ধুদের সঙ্গে ঘোরাঘুরির এমন সুযোগ কখনোই হারাতে চান না সাফা। আমি লালাখালের এমন নীল পানি সেন্ট মার্টিন ছাড়া আর কোথাও দেখিনি। আমি আর টয়া সকালে ঘুম থেকে উঠে সূর্যোদয় দেখেছি, ঘুরেছি।

ভ্রমণজুড়ে তিন বন্ধুর হাসি-ঠাট্টা আর আড্ডা ছিল চোখে পড়ার মতো। টয়া জানান, বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তোলার সময় পোজ দেওয়া কঠিন, কারণ হাসতে হাসতে প্রায় সব ছবিই নষ্ট হয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু সেসব হাসিমুখের ছবিগুলোই এখন তাঁদের কাছে সবচেয়ে প্রিয় স্মৃতি। সাফা কবির বলেন, তাঁরা একে অপরের কাছে কেবল বন্ধু নন, বরং পরিবারের অংশ। দীর্ঘ এক যুগের এই পথচলায় নানা ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে, কিন্তু সেসব ঘটনা তাঁদের সম্পর্ককে আরও মজবুত ও আত্মস্থ করেছে। বন্ধুদের কাছে প্রস্তাব পাওয়া মাত্র রাজি হয়ে যান। ‘ঠিকানা’–এর শিডিউল না দেওয়ার অভিযোগে প্রযোজকের নোটিশ, রাজের জবাব। এই সময়ে সম্পর্কের মধ্যে উত্থান–পতন থাকলেও সেটি সম্পর্ককে আরও বেশি মজবুত করেছে বলে জানান সাফা কবির, ‘একদমই শুরু থেকে আমাদের হয়তো কিছু বিষয় নিয়ে ভুল বোঝাবুঝি হতো; কিন্তু সেটি সম্পর্ককে সত্যকার একটা জায়গায় নিয়ে গেছে। টয়ার হাসি যেন থামে না তৌসিফ ও টয়া নাকি সারাক্ষণ সাফাকে নিয়েই মেতে ছিল। হাসতে হাসতে তাঁরা নাকি ঠিকমতো ছবিও ওঠাতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত সুন্দর পোজের চেয়ে হাসতে হাসতে তোলা ছবির সংখ্যাই বেশি হয়; কিন্তু মজার ব্যাপার হলো—পরে এই ছবিগুলো দেখেই সবচেয়ে বেশি ভালো লাগে। এখন ভয় হচ্ছে, আমাদের আবার কেউ নজর না দেয়। এ সময়ে ওরা আমার জন্য সিলেট শহর থেকে কেকসহ সারপ্রাইজিং বেশ কিছু জিনিস নিয়েছে।

তৌসিফ জানান, বন্ধুরাই তাঁর জন্য সবচেয়ে আস্থার জায়গা। বিমান থেকে নামার পর লাগেজ বহন করার মতো ছোটখাটো দায়িত্ব দিয়েও বন্ধুরা তাঁর প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করে। সিলেট শহরে তাঁর জন্য কেকসহ বিভিন্ন সারপ্রাইজ উপহারের ব্যবস্থাও করেছিলেন তাঁরা। কোনো পরিকল্পনা ছাড়াই এসব সারপ্রাইজ পেয়ে অভিভূত হয়েছেন তৌসিফ। সিলেট থেকে ফিরেই তাঁরা আবার নিয়মিত শুটিং ও কর্মব্যস্ততায় ফিরে গেছেন। তৌসিফ জানান, প্রতিবার জন্মদিনেই কোনো না কোনো কাজ পড়ে যায়।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

জন্মদিন উদযাপনে সিলেটে তৌসিফ, সঙ্গী সাফা ও টয়া

আপডেট সময় : ০৭:৩০:৩৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬

গত ২৭ অক্টোবর ছিল অভিনেতা তৌসিফ মাহবুবের জন্মদিন। নিজের বিশেষ দিনটিতে কাজের চাপে পরিবার বা বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ পান না তিনি। তাই এবার আগেভাগেই শুটিং থেকে ছুটি নিয়েছিলেন। ঢাকায় থাকলে যেকোনো কাজের চাপ চলে আসে, তাই স্ত্রী ও বন্ধুদের সঙ্গে নিয়ে অজানার উদ্দেশ্যে পাড়ি জমানোর পরিকল্পনা করেন এই অভিনেতা। শেষ পর্যন্ত প্রিয় বন্ধুদের সঙ্গে সিলেটের লালাখালে জন্মদিনের আনন্দ ভাগ করে নিয়েছেন তিনি। তৌসিফ বললেন, ‘এবার জন্মদিনে হারিয়ে যেতে চেয়েছিলাম, পেরেছি। তাঁর কথায়, ‘আমরা সব সময় অনেক আনন্দে ছিলাম।

তৌসিফের কাছে সিলেটের লালাখাল জায়গাটি ভীষণ আবেগের ও স্মৃতিজড়িত। এখানে তাঁর সংগীত ক্যারিয়ারের শেষ দিন কেটেছিল, অন্যদিকে এখানেই শুরু হয়েছিল অভিনয়ের যাত্রা। ২০১২ সালের ডিসেম্বরে ব্যান্ড দলের হয়ে গান শেষ করে সারা রাত জার্নি করে ঢাকায় ফিরেছিলেন তৌসিফ। এরপর ভোর চারটার দিকেই আবার লালাখালে ফিরেছিলেন নিজের প্রথম নাটক ‘অলটাইম দৌড়ের ওপর’-এর শুটিংয়ে। এক ক্যারিয়ারের বিদায় আর অন্যটির শুরুর সাক্ষী এই জায়গাটি তাই তাঁকে সবসময় স্মৃতিকাতর করে তোলে। তাঁকে সুন্দর মুহূর্তের ভিডিও পাঠালাম। আমার কাছে এটা ছিল মানসিকভাবে নিজেকে তৈরি করার জার্নি।

তৌসিফের জন্মদিনের এই ভ্রমণে সাফা কবির, মুমতাহিনা টয়া ও সৈয়দ জামান শাওন সঙ্গী হয়েছিলেন। যদিও ব্যস্ততার কারণে সিয়াম আহমেদ আসতে পারেননি, তবে ভিডিওর মাধ্যমে তাদের আড্ডায় যুক্ত ছিলেন তিনি। আদনান আল রাজীবের ‘অলটাইম দৌড়ের ওপর’ নাটকের শুটিং থেকেই তৌসিফের সঙ্গে সাফার গভীর বন্ধুত্বের শুরু। আর মুমতাহিনা টয়ার সঙ্গে বন্ধুত্ব হয় ‘সুপার গার্লস’ ধারাবাহিকের সেটে। সাফা জানান, লালাখালের নীল জলরাশি আর নির্মল প্রকৃতি তাঁদের দারুণ আনন্দ দিয়েছে। তিনি এই ভ্রমণকে অনেকটা ‘প্রাকৃতিক ওষুধ’ হিসেবে দেখছেন, যা তাঁকে মানসিক প্রশান্তি দিয়েছে। সাফার প্রকৃতিক ওষুধ বন্ধুদের সঙ্গে ঘোরাঘুরির এমন সুযোগ কখনোই হারাতে চান না সাফা। আমি লালাখালের এমন নীল পানি সেন্ট মার্টিন ছাড়া আর কোথাও দেখিনি। আমি আর টয়া সকালে ঘুম থেকে উঠে সূর্যোদয় দেখেছি, ঘুরেছি।

ভ্রমণজুড়ে তিন বন্ধুর হাসি-ঠাট্টা আর আড্ডা ছিল চোখে পড়ার মতো। টয়া জানান, বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তোলার সময় পোজ দেওয়া কঠিন, কারণ হাসতে হাসতে প্রায় সব ছবিই নষ্ট হয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু সেসব হাসিমুখের ছবিগুলোই এখন তাঁদের কাছে সবচেয়ে প্রিয় স্মৃতি। সাফা কবির বলেন, তাঁরা একে অপরের কাছে কেবল বন্ধু নন, বরং পরিবারের অংশ। দীর্ঘ এক যুগের এই পথচলায় নানা ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে, কিন্তু সেসব ঘটনা তাঁদের সম্পর্ককে আরও মজবুত ও আত্মস্থ করেছে। বন্ধুদের কাছে প্রস্তাব পাওয়া মাত্র রাজি হয়ে যান। ‘ঠিকানা’–এর শিডিউল না দেওয়ার অভিযোগে প্রযোজকের নোটিশ, রাজের জবাব। এই সময়ে সম্পর্কের মধ্যে উত্থান–পতন থাকলেও সেটি সম্পর্ককে আরও বেশি মজবুত করেছে বলে জানান সাফা কবির, ‘একদমই শুরু থেকে আমাদের হয়তো কিছু বিষয় নিয়ে ভুল বোঝাবুঝি হতো; কিন্তু সেটি সম্পর্ককে সত্যকার একটা জায়গায় নিয়ে গেছে। টয়ার হাসি যেন থামে না তৌসিফ ও টয়া নাকি সারাক্ষণ সাফাকে নিয়েই মেতে ছিল। হাসতে হাসতে তাঁরা নাকি ঠিকমতো ছবিও ওঠাতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত সুন্দর পোজের চেয়ে হাসতে হাসতে তোলা ছবির সংখ্যাই বেশি হয়; কিন্তু মজার ব্যাপার হলো—পরে এই ছবিগুলো দেখেই সবচেয়ে বেশি ভালো লাগে। এখন ভয় হচ্ছে, আমাদের আবার কেউ নজর না দেয়। এ সময়ে ওরা আমার জন্য সিলেট শহর থেকে কেকসহ সারপ্রাইজিং বেশ কিছু জিনিস নিয়েছে।

তৌসিফ জানান, বন্ধুরাই তাঁর জন্য সবচেয়ে আস্থার জায়গা। বিমান থেকে নামার পর লাগেজ বহন করার মতো ছোটখাটো দায়িত্ব দিয়েও বন্ধুরা তাঁর প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করে। সিলেট শহরে তাঁর জন্য কেকসহ বিভিন্ন সারপ্রাইজ উপহারের ব্যবস্থাও করেছিলেন তাঁরা। কোনো পরিকল্পনা ছাড়াই এসব সারপ্রাইজ পেয়ে অভিভূত হয়েছেন তৌসিফ। সিলেট থেকে ফিরেই তাঁরা আবার নিয়মিত শুটিং ও কর্মব্যস্ততায় ফিরে গেছেন। তৌসিফ জানান, প্রতিবার জন্মদিনেই কোনো না কোনো কাজ পড়ে যায়।